Collector
বিদেশে পাঠানোর ফাঁদ তৈরি করে ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ, গ্রেফতার ২ | Collector
বিদেশে পাঠানোর ফাঁদ তৈরি করে ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ, গ্রেফতার ২
Somoy TV

বিদেশে পাঠানোর ফাঁদ তৈরি করে ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ, গ্রেফতার ২

অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর কথা বলে প্রায় ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নীলফামারী থেকে গ্রেফতারের পর তারা ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পিবিআই। এর আগে সোমবার (১৮ মে) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আলমগীর তাদের জবানবন্দি নথিভুক্ত করেন। গ্রেফতাররা হলেন: নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার ডাঙ্গির ছলেয়াপাড়া গ্রামের মো. খাইরুল ইসলাম (২৪) ও একই উপজেলার বকসা পাড়ার বাসিন্দা মো. জাবেদুল ইসলাম (৩৮)। গত রোববার (১৭ মে) রাতে সৈয়দপুরের জিকরুল হক রোডের মোবাইল মার্ট নামের একটি বিকাশ কার্যালয় থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্র অস্ট্রেলিয়ার দুটি মুঠোফোন নম্বর থেকে ইমো অ্যাপের মাধ্যমে মোহাম্মদ সামাল নামে এক ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করে। সামালকে উচ্চ বেতনে অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে চক্রটি নির্দিষ্ট কয়েকটি বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠাতে প্রলুব্ধ করে। গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ১ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে সামাল ও তার আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে প্রায় ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় তারা। একপর্যায়ে সামালের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েন। এ ঘটনায় গত ১৫ মার্চ প্রতারক চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে সরাইল থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী সামাল। মামলা দায়েরের পর পিবিআই নিজ উদ্যোগে এর তদন্তভার গ্রহণ করে। পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহাদাত হোসেন তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিকাশ নম্বরগুলোর সূত্র ধরে আসামিদের শনাক্ত করেন। গত রোববার (১৭ মে) নীলফামারীতে অভিযান চালিয়ে চক্রের মূল হোতা খাইরুল ও বিকাশের ডিস্ট্রিবিউশন সেলস অফিসার (ডিএসও) জাবেদুলকে গ্রেফতার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আনা হয়। আরও পড়ুন: রেজিস্ট্রি অফিসে দলিলের পাতা কেটে কোটি টাকা আত্মসাৎ জিজ্ঞাসাবাদে ও আদালতের জবানবন্দিতে জানা যায়, এই চক্রের অন্যতম প্রধান আসামি প্রাণ ইসলাম। তিনি খাইরুলকে ১০ হাজার টাকা দিয়ে একটি মোবাইল ফোন কিনে দেন এবং মানুষকে ধোঁকা দেয়ার ভিডিও তৈরির প্রশিক্ষণ দেন। এরপর খাইরুলকে ‘আরিফ মণ্ডল’ ছদ্মনাম দিয়ে একটি ভুয়া ভিডিও তৈরি করা হয়। ভিডিওতে খাইরুল নিজেকে সৌদি প্রবাসী দাবি করে প্রচার করেন যে, আন্তর্জাতিক আরটিএস কোম্পানির জিএম বদরুজ্জামান বাদলের (পলাতক আসামি প্রাণ ইসলাম) মাধ্যমে তিনি স্বল্প খরচে অস্ট্রেলিয়া গিয়ে প্রচুর টাকা উপার্জন করছেন। এই ভুয়া ভিডিও ফেসবুকে বুস্ট করে সাধারণ মানুষ ও প্রবাসীদের ফাঁদে ফেলা হতো। এই কাজের জন্য খাইরুলকে আড়াই লাখ টাকা দেয়া হয়েছিল। অন্যদিকে জাবেদুল বিকাশে নিজের পদের অপব্যবহার করে বিভিন্ন এজেন্টের মাধ্যমে সামালসহ অনেকের কাছ থেকে আসা টাকা তুলে আত্মসাৎ করেন। অবৈধ অর্থ লেনদেনের জন্য জাবেদুল প্রতি লাখে ৫০০ টাকা এবং হাজারে ৫ টাকা হারে কমিশন নিতেন। চক্রটি গত চার মাসে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার অবৈধ লেনদেন করেছে বলে প্রমাণ পেয়েছে পিবিআই। এ বিষয়ে পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শচীন চাকমা বলেন, ‘গ্রেফতাররাসহ পলাতক আসামিরা অত্যন্ত চতুরতার সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে এই আন্তর্জাতিক প্রতারণা নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে আসছিল। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতার ও আত্মসাৎ করা টাকা উদ্ধারে পিবিআইয়ের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

Go to News Site