Jagonews24
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্তকে স্বাধীন বিচার বিভাগ ধ্বংসের নীলনকশা বলে আখ্যায়িত করেছে এনসিপিপন্থি আইনজীবীদের সংগঠন ন্যাশনাল লয়ার্স অ্যালায়েন্স। একই সঙ্গে সচিবালয় প্রতিষ্ঠার সময় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা বর্তমান আইনমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেলের এখনকার নীরবতা নিয়েও কড়া সমালোচনা করেছে সংগঠনটি। বুধবার (২০ মে) সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলনে ন্যাশনাল লয়ার্স অ্যালায়েন্সের নেতা জহিরুল ইসলাম মুসা বলেন, ‘বিচার বিভাগের স্বাধীন এবং পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষের, বিচারকদের যে আকাঙ্ক্ষা, সেটিতে বিএনপি সরকার খুবই বাজে হস্তক্ষেপ করেছে।’ মাসদার হোসেন মামলার রায়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ওই নির্দেশনার আলোকে স্বাধীন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ প্রণীত হয়েছিল। বর্তমান রাজনৈতিক সরকার, বিএনপি সরকার বিচার বিভাগকে ধ্বংস করার জন্য তাদের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, আজকে সেই নীলনকশা জনমানুষের সামনে প্রকাশিত হলো। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’ সচিবালয় ইস্যুতে বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল ও আইনমন্ত্রীর আগের ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জহিরুল ইসলাম মুসা বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে যখন অধ্যাদেশ জারি হয়, তখন বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল উচ্ছ্বসিত অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছিলেন। তিনি একে একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। আগের অধ্যাদেশ প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় বর্তমান আইনমন্ত্রী, যিনি তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন, তিনিও ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। কিন্তু বর্তমান বিচার বিভাগ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে এই দুজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তির নীরবতা এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণ আমাদের ব্যথিত করেছে।’ তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জনআকাঙ্ক্ষার বিপরীতে গিয়ে আপনারা রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবেন না। নিয়ন্ত্রিত বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা আপনারা করবেন না। আপনাদের ৩১ দফার যে ওয়াদা ছিল সেটি আপনারা মেনে নেন।’ এসময় ন্যাশনাল লয়ার্স অ্যালায়েন্সের সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোস্তফা আজগর শরিফী বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশের আলোকে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে আমরা লক্ষ্য করলাম, ১৯ মে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের নির্দেশনার মধ্য দিয়ে আবার আইন মন্ত্রণালয়ে ফেরত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সচিবালয় কার্যক্রমের যবনিকা ঘটানো হয়েছে।’ এই আদেশের মাধ্যমে বিচার বিভাগ, নিম্ন আদালতের বিচারক ও সাধারণ জনগণ সংক্ষুব্ধ হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘অবিলম্বে স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা করার জন্য একটা কার্যকর আইন প্রণয়ন করতে হবে। সেই কার্যকর আইনের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগকে জবাবদিহির জায়গায় নিয়ে এসে একটি স্বাধীন ও স্বচ্ছ বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’ এফএইচ/একিউএফ
Go to News Site