Collector
নবজাতকের মৃত্যুহার হ্রাসে আশার আলো ছড়াচ্ছে ‘ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার’ | Collector
নবজাতকের মৃত্যুহার হ্রাসে আশার আলো ছড়াচ্ছে ‘ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার’
Jagonews24

নবজাতকের মৃত্যুহার হ্রাসে আশার আলো ছড়াচ্ছে ‘ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার’

অপরিণত ও কম ওজনের নবজাতকসহ সব নবজাতকের মৃত্যুহার হ্রাস, রোগ প্রতিরোধ ও জীবন রক্ষায় ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার (কেএমসি) মডেল আশার আলো ছড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘নবজাতকের জীবন রক্ষায় কেএমসির বিরাট অবদান ও গুরুত্ব বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। এই মডেলকে জনপ্রিয় করতে গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিরাট অবদান রাখতে পারে। এটি নীতিনির্ধারণী ফোরামে আলোচনা ও জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা এখন জরুরি।’ বুধবার (২০ মে) বিএমইউর শহীদ ডা. মিল্টন হলে আন্তর্জাতিক ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার সচেতনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য এসব কথা বলেন। বিএমইউর নবজাতক (নিওন্যাটোলজি) বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার এবং শিশু অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মো. আতিয়ার রহমান। মূল বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নিওন্যাটোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রুম্পা মনি চৌধুরী। সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মান্নান বলেন, অপরিণত এবং কম ওজনের নবজাতকদের জীবন বাঁচাতে ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার হলো একটি অনুসরণীয় ও আদর্শ পদ্ধতি। কেএমসি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। মূল প্রবন্ধে ডা. রুম্পা মনি চৌধুরী জানান, ২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর ১৫ মে বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার সচেতনতা দিবস উদযাপিত হয়ে আসছে। ২০২৬ সালে দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে- ‘স্থিরতাই শক্তি’। তিনি উল্লেখ করেন, ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার হলো অপরিণত ও কম ওজনের নবজাতকের জন্য একটি ‘প্রোটোকলভিত্তিক সেবা পদ্ধতি’, যা নবজাতক ও মায়ের বা সেবাদানকারীর মধ্যে ‘ত্বক-থেকে-ত্বক’ সংস্পর্শের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। কেএমসি নবজাতকের মৃত্যুহার এবং জন্মের প্রথম ছয় মাস পর্যন্ত মৃত্যুঝুঁকি অনেকাংশে কমায়। এটি হাইপোথার্মিয়া, হাইপোগ্লাইসেমিয়া এবং মারাত্মক সংক্রমণ বা সেপসিস প্রতিরোধে দারুণ সহায়ক। এছাড়া এটি দ্রুত বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করতে এবং শিশুর দ্রুত ওজন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। মাতৃসেবা সমন্বয়ে নবজাতক নার্সদের প্রশিক্ষণ প্রদান এবং স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে তাৎক্ষণিক কেএমসি চালুর উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ নবজাতকের মৃত্যুহার কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সেমিনারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশের কথা উল্লেখ করে জানানো হয়, জন্মের পর যত দ্রুত সম্ভব কেএমসি শুরু করা উচিত। শিশুর স্থিতিশীল হওয়ার জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। এছাড়া ‘মাদার নিউবর্ন কেয়ার ইউনিট’ মডেলের মাধ্যমে জন্ম থেকে হাসপাতাল ত্যাগ করা পর্যন্ত মা ও শিশুকে আলাদা না রেখে নিবিড় সেবার পাশাপাশি তাৎক্ষণিক ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার নিশ্চিত করা সম্ভব। সেমিনারে বিএমইউর নিওন্যাটোলজি বিভাগের শিক্ষক, চিকিৎসক, রেসিডেন্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের নবজাতক ও শিশু বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। এসইউজে/একিউএফ

Go to News Site