Jagonews24
দ্বিতীয় শ্রেণির ফার্স্ট গার্ল রামিসা আক্তার ক্লাসের পরীক্ষায় আবারও প্রথম হয়েছিল। বন্ধুদের সঙ্গে সেই আনন্দ ভাগ করে নিতে স্কুলে তার চকলেট ও মিষ্টি নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। আর পরিকল্পনা ছিল সহপাঠীদের সঙ্গে খেলবে। কিন্তু স্কুলে আর ফেরা হয়নি তার। এর আগেই পাশবিক নির্যাতন ও হত্যার শিকার হতে হয়েছে তাকে। রাজধানীর পল্লবীর বাসিন্দা রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাইস্কুলের শিক্ষার্থী ছিল। পড়াশোনায় সবসময় ভালো ফল করতো। শিক্ষক-সহপাঠীদের কাছে পরিচিত ছিল শান্ত ও মেধাবী শিশু হিসেবে। রামিসা হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বুধবার (২০ মে) স্কুল প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। ‘পপুলার মডেল হাইস্কুলের শিক্ষার্থী রামিসা হত্যার বিচার চাই, হত্যাকারীর জনসম্মুখে ফাঁসি চাই’- এমন ব্যানার নিয়ে তারা কর্মসূচিতে অংশ নেন। সেখানে রামিসার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। মানববন্ধনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুনে লেখা ছিল ‘খুনি সোহেল রানা ও স্বপ্না বেগমের ফাঁসি চাই’, ‘রামিসা আক্তার, শ্রেণি: দ্বিতীয়, রোল: ০১’, ‘রামিসা হত্যার বিচার চাই’সহ আরও অন্যান্য দাবি। এসময় স্কুল প্রাঙ্গণ ভারি হয়ে ওঠে শোক ও ক্ষোভে। সহপাঠীর নির্মম হত্যাকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়ে। শিক্ষকরা বলেন, একটি মেধাবী ও প্রাণবন্ত শিশুকে এভাবে হারানো কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘কখনো প্রথম, কখনো দ্বিতীয় হয়েছে সে। তার পুরস্কারগুলো এখনো আমাদের এখানে রয়েছে। খুবই মেধাবী ও ভদ্র একটা মেয়ে ছিল। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।’ রামিসার সহপাঠীদের কণ্ঠে ছিল শোক আর অপূর্ণ অপেক্ষার কথা। এক সহপাঠী বলে, ‘পরীক্ষার রেজাল্টের দিন ও খুব খুশি ছিল। বলছিল, কালকে মিষ্টি আর চকলেট নিয়ে আসবে। আমরা সবাই মিলে খাবো, খেলবো, অনেক মজা করবো।’ আরেকজন বলে, ‘ও আমার সঙ্গে বসতো, খেলতো। খুব ভালো ছিল। ও আমাদের ক্লাসের মধ্যে সবচেয়ে ভালো রেজাল্ট করতো। বলছিল চকলেট-মিষ্টি নিয়ে আসবে, কিন্তু ও আর আসেনি।’ কাঁদতে কাঁদতে আরেক সহপাঠী বলে, ‘ও আমার বেস্ট ফ্রেন্ড ছিল। এখন আমার পাশে নেই। খুব মন খারাপ লাগে।’ রামিসা পল্লবীতে বাবা, মা ও বড় বোনের সঙ্গে ভাড়া বাসায় বসবাস করতো। গত ১৯ মে সকালে একই ভবনের আরেকটি ফ্লাটে তাকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন ভবনের ভাড়াটিয়া মো. সোহেল রানা। বুধবার তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে জানান, ঘটনার পর আসামি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। একই ঘটনায় গ্রেফতার সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় তদন্তাধীন। এমডিএএ/একিউএফ
Go to News Site