Collector
দীর্ঘদিনেও শেষ হয়নি ২ ব্রিজের কাজ, মোংলায় ‘বাঁশের সাঁকোয় বন্দি’ হাজারো মানুষের জীবন | Collector
দীর্ঘদিনেও শেষ হয়নি ২ ব্রিজের কাজ, মোংলায় ‘বাঁশের সাঁকোয় বন্দি’ হাজারো মানুষের জীবন
Somoy TV

দীর্ঘদিনেও শেষ হয়নি ২ ব্রিজের কাজ, মোংলায় ‘বাঁশের সাঁকোয় বন্দি’ হাজারো মানুষের জীবন

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার মোংলা উপজেলার চিলা ও সুন্দরবন ইউনিয়নের হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল দুটি সেতু। কিন্তু স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলায় সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ ৮ বছরেও শেষ হয়নি সেতুর কাজ। ফলে স্কুলগামী শিশু থেকে বৃদ্ধ; সবারই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো পার হতে হচ্ছে।অনুসন্ধানে জানা গেছে, এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল করতে সুন্দরবন ইউনিয়নের বাঁশতলা বাজার সংলগ্ন এলাকায় মাত্র ১৫০ মিটার ব্যবধানে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। এর মধ্যে পাখিমারা খালের ওপর ৯০ মিটার দীর্ঘ সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের ৬ জুন। প্রায় ৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতু ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু ৮ বছর পার হলেও এখনো শেষ হয়নি সংযোগ সড়কের কাজ। অন্যদিকে, পুটিমারী খালের ওপর ৪০ মিটার দীর্ঘ আরেকটি সেতুর নির্মাণ শুরু হয় ২০২১ সালে। প্রায় ৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের কাজ ২০২৩ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও রহস্যজনক কারণে এখন পুরো কাজ বন্ধ হয়ে আছে। প্রায় ১২ কোটি টাকার এই দুই প্রকল্প এখন শুধু কংক্রিটের কাঠামো হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, যা সাধারণ মানুষের কোনো উপকারে আসছে না। মোংলা উপজেলার চিলা ও সুন্দরবন ইউনিয়নের মিলনস্থল ঐতিহাসিক বাঁশতলা বাজারে প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ৪ থেকে ৫ হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। মাছ, শাকসবজি ও কৃষিপণ্য বেচাকেনার অন্যতম কেন্দ্র এই বাজার। কিন্তু সেতু দুটি চালু না হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরাও তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। ব্যবসায়ীদের মতে, সেতু চালু হলে এলাকার অর্থনীতি সচল হতো, কিন্তু এখন তারা নিজেরাই অচল অবস্থায় পড়ে গেছেন। যে খাল পার হতে সেতু দিয়ে কয়েক মিনিট লাগার কথা, সেখানে এখন কয়েক কিলোমিটার ঘুরে যেতে হচ্ছে কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করতে হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ১০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে এখন দুই ঘণ্টা সময় লাগছে। জরুরি পরিস্থিতিতে অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার সার্ভিসের গাড়িও প্রবেশ করতে পারে না। মুমূর্ষু রোগীদের খাটিয়ায় করে সাঁকো পার করতে হচ্ছে, যা আধুনিক যুগে কল্পনাও করা যায় না। আরও পড়ুন: রত্নাই সেতুর নির্মাণকাজে ধীরগতি, নকশা নিয়ে বিতর্ক স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকৌশলীদের উদাসীনতা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বহীনতার কারণেই এই দুর্ভোগ। তারা দাবি করেন, বরাদ্দের বড় একটি অংশ তুলে নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ অসমাপ্ত রেখেই এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় সেতুর লোহার রডসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী মরিচা ধরে নষ্ট হচ্ছে। এলজিইডি কর্মকর্তাদের তদারকির অভাব ও ঠিকাদারের সঙ্গে গোপন আঁতাতের অভিযোগও তুলছেন তারা। স্থানীয়দের প্রশ্ন, বারবার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কেন ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না? এক স্কুলশিক্ষার্থী জানায়, বর্ষাকালে সাঁকো পার হতে গিয়ে অনেক সময় বই-খাতা নিয়ে পানিতে পড়ে যেতে হয়। দ্রুত নিরাপদ সেতু নির্মাণ করা হোক। এলাকার প্রবীণরাও বলছেন, নির্বাচন আসে-যায়, কিন্তু সেতুর কাজ আর শেষ হয় না। তাদের কষ্ট দেখার যেন কেউ নেই। এ বিষয়ে মোংলা উপজেলা প্রকৌশলী নাবিদুল হাসান বলেন, পাখিমারা ও পুটিমারী সেতুর মূল অবকাঠামোর কাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গড়িমসির কারণেও কাজ পিছিয়ে গেছে। তিনি আরও জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্ত নোটিশ দেয়া হয়েছে। জমি অধিগ্রহণের সমস্যা সমাধানে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। দ্রুত কাজ শুরু করে সেতুর সংযোগ সড়ক চলাচলের উপযোগী করা হবে। মোংলার এই অবহেলিত জনপদের মানুষের এখন একটাই দাবি; আর কোনো টালবাহানা নয়, দ্রুত সংযোগ সড়কসহ সেতুর কাজ সম্পন্ন করে জনদুর্ভোগ দূর করা হোক। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে দ্রুত প্রাণ ফিরে পাবে বহু প্রতীক্ষিত এই প্রকল্প।

Go to News Site