Jagonews24
‘তৃণমূল পর্যায়ে দ্রুত, স্বল্প খরচে ও সহজ উপায়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গ্রাম আদালত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।’ বুধবার (২০ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের জেলা তথ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণে প্রচার কার্যক্রম বিষয়ক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এ কথা বলেন। গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিলের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ-৩য় পর্যায় প্রকল্প’র জাতীয় প্রকল্প পরিচালক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সুরাইয়া আক্তার জাহান। সভায় প্রকল্পের বর্তমান কার্যক্রম ও গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের কাছে প্রত্যাশা তুলে ধরে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন প্রকল্প সমন্বয়ক বিভাস চক্রবর্তী। ‘গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬’ ও এর বিধিমালা নিয়ে আলোচনা করেন ব্যারিস্টার মশিউর রহমান চৌধুরী। এছাড়া গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের প্রচার কার্যক্রম নিয়ে বক্তব্য দেন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রচার ও সমন্বয়) ডালিয়া ইয়াসমিন। বক্তারা বলেন, গ্রাম আদালত অল্প সময়ে ও নামমাত্র খরচে অনধিক তিন লাখ টাকা মূল্যমানের ফৌজদারি ও দেওয়ানি বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারে। এখানে আইনজীবী নিয়োগের বিধান না থাকায় সাধারণ মানুষ সহজেই বিচারপ্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে। সমঝোতার ভিত্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় নতুন বিরোধ সৃষ্টির আশঙ্কাও কম থাকে। তারা আরও বলেন, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ গ্রাম আদালতের মাধ্যমে সহজে ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুরাইয়া আক্তার জাহান বলেন, সম্মিলিত উদ্যোগে গ্রামের সাধারণ মানুষকে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে আইনি সেবা দিতে পারলে তারা আর্থিক ও মানসিক হয়রানি থেকে রক্ষা পাবে। চুরি, দাঙ্গা, প্রতারণা, ঝগড়া-বিবাদ, হুমকি, নারীর অমর্যাদা, বাল্যবিয়ে, তালাক ও অভিভাবকত্বসহ বিভিন্ন দেওয়ানি বিরোধের সুরাহা গ্রাম আদালতের মাধ্যমে সম্ভব বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে গণযোগাযোগ অধিদপ্তর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এসময় গ্রাম আদালত প্রকল্প ও গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের কথাও জানান তিনি। গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিল বলেন, জনগণকে সরকারি সেবা ও অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে তথ্য কর্মকর্তারা নিয়মিত কাজ করছেন। গ্রাম আদালতের সুফল ও কার্যকারিতা নিয়ে ব্যাপক প্রচারের প্রয়োজন রয়েছে। আরএমএম/ইএ
Go to News Site