Somoy TV
জেনেভায় চলমান ৭৯তম বিশ্ব স্বাস্থ্য সমাবেশের (ডব্লিউএইচএ) ফাঁকে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত এবং মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জুলকেফলি আহমদ।বুধবার (২০ মে) অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটিকে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে বাস্তবমুখী ও কার্যকর অংশীদারিত্ব পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের (কেকেএম) দৃঢ় প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন বলে ডা. জুলকেফলি আহমদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন। বৈঠকের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ‘হেলথ ট্যুরিজম’ খাতের সম্প্রসারণ। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কেবল ২০২৫ সালেই বাংলাদেশ থেকে ৭১ হাজারের বেশি রোগী উন্নত চিকিৎসার জন্য মালয়েশিয়া সফর করেছেন, যা থেকে দেশটির আয় হয়েছে প্রায় ৪৯ মিলিয়ন মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত। মালয়েশিয়ার চিকিৎসা সেবার উচ্চ মান, সহজলভ্যতা এবং সাশ্রয়ী ব্যয়ের কারণে এটি বাংলাদেশি রোগীদের কাছে অন্যতম প্রধান ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে। এই ধারাবাহিকতায়, বাংলাদেশের রোগীদের জন্য মালয়েশিয়ার বেসরকারি বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোকে শীর্ষ পছন্দের গন্তব্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে মালয়েশিয়া। চিকিৎসা পর্যটনের পাশাপাশি বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় চার খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের ঘোষণা দিয়েছে উভয় দেশ। এর মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ডেঙ্গুর মতো সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ কৌশল, মানসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর দেশের তালিকায় পৌঁছানোর প্রস্তুতি সংক্রান্ত কৌশলগত পরিকল্পনা অন্যতম। আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ায় ‘সীকেয়ার ২০২৬’ প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশের শীর্ষ চার ফার্মাসিউটিক্যালস এছাড়া দুই দেশই মেডিকেল ডিভাইস, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং স্বাস্থ্য খাতে ডিজিটালাইজেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ক্ষেত্রগুলোতে সমন্বয় বাড়াতে একমত পোষণ করেছে। আন্তর্জাতিক এই ফোরামে মহামারি সংক্রান্ত ডব্লিউএইচও প্যান্ডেমিক চুক্তির স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আলোচনার পক্ষে মালয়েশিয়ার অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়। মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্যাথোজেনিক অ্যাক্সেস সিস্টেম অ্যান্ড বেনিফিট শেয়ারিং সংক্রান্ত যেকোনো আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত অবশ্যই ন্যায়সঙ্গত হতে হবে এবং প্রতিটি দেশের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ আইনের সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানাতে হবে। সার্বিক বিশ্ব স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের নীতি বজায় রেখে একটি কার্যকর স্বাস্থ্য কূটনীতি এগিয়ে নিতে উভয় দেশই তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
Go to News Site