Collector
ঈদযাত্রার প্রস্তুতি: রেলের বগি মেরামতে কর্মব্যস্ততা পাহাড়তলী ওয়ার্কশপে | Collector
ঈদযাত্রার প্রস্তুতি: রেলের বগি মেরামতে কর্মব্যস্ততা পাহাড়তলী ওয়ার্কশপে
Somoy TV

ঈদযাত্রার প্রস্তুতি: রেলের বগি মেরামতে কর্মব্যস্ততা পাহাড়তলী ওয়ার্কশপে

জনবল সংকট ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহে নানা জটিলতা থাকলেও আসন্ন ঈদযাত্রায় ১১৮টি কোচ সরবরাহ করে চমক দেখিয়েছে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ওয়ার্কশপ। ৪০ থেকে ৫০ বছর পুরোনো এসব বগি দীর্ঘ দেড় বছরের বেশি সময় ধরে ওয়ার্কশপে পড়ে ছিল। মেরামতের অন্তত ১০০ ধরনের কাজ শেষে এখন সেগুলো যুক্ত হচ্ছে ঈদযাত্রার বহরে।ওয়ার্কশপ ঘুরে দেখা যায়, কোথাও জরাজীর্ণ বগির ভাঙা অংশ খুলে নতুন লোহার পাত লাগানো হচ্ছে। কোথাও আবার ব্যবহার অনুপযোগী চেয়ার ও ফ্যান সরিয়ে নতুন করে বসানো হচ্ছে। কেউ ব্যস্ত রঙের কাজে। যেসব বগির মেরামত শেষ হয়েছে, সেগুলো সারিবদ্ধভাবে রাখা হচ্ছে ইয়ার্ডে, বহরে যুক্ত করার অপেক্ষায়। আসন্ন ঈদযাত্রায় বাড়তি যাত্রীচাপ সামাল দিতে গত দুই মাস ধরে পাহাড়তলী ওয়ার্কশপে চলছে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ। কর্মীরা জানান, কিছু নতুন বগির পাশাপাশি ৫০ বছর পুরোনো বগিও মেরামত করা হচ্ছে। গাড়িগুলো যখন ওয়ার্কশপে আসে তখন সেগুলো চলাচলের অনুপযোগী ও ভাঙাচোরা অবস্থায় থাকে। এখানে মেরামত, রংসহ প্রয়োজনীয় কাজ শেষে আবার যাত্রী পরিবহনের উপযোগী করে বের করা হয়। ঈদযাত্রার যাত্রী চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিশেষ ট্রেন চালু করতে ১১৮টি বগি মেরামতের জন্য আসে পাহাড়তলী ওয়ার্কশপে। এজন্যই ভাঙাচোরা ও চলাচল অনুপযোগী কোচগুলো পাহাড়তলী ওয়ার্কশপে এনে ডেন্টিং, পেইন্টিং, ওয়েল্ডিং ও ফিটিংসহ প্রায় ১০০ ধরনের কাজের মাধ্যমে নতুনভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে। আরও পড়ুন: ঝিনাইদহে মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত, খুলনার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ এরমধ্যে ৯০টি বগির কাজ শেষ হয়েছে এবং সেগুলো মার্শাল ইয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে। ৪০ থেকে ৫০ বছর পুরোনো এসব বগিকে আবার চলাচলের উপযোগী করে তোলা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল পাহাড়তলী ওয়ার্কশপের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোস্তফা জাকির হাসান বলেন, একটি কোচ আসার পর সেটির বগি পুরোপুরি খুলতে হয়। ভেতরের ইন্টেরিয়র, এসি, লাইট, ফিটিংস, চেয়ার-সবকিছু নতুন করে ঠিক করতে হয়। এরপর রং করে সেটিকে আবার চলাচলের উপযোগী করা হয়। ওয়ার্কশপে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ট্রেনের চাকা মেরামতের কাজও চলছে। হুইলশপ ইনচার্জ মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, সিএনসি মেশিনের মাধ্যমে চাকাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেরামত করা হয়, যাতে কোনো ত্রুটি না থাকে। কর্মচারীরা জানান, ঈদে মানুষ যেন নিরাপদে বাড়ি যেতে পারে, সেজন্য তারা নিরলসভাবে কাজ করছেন। চাকাগুলো মেরামতের পর ট্রেনে যুক্ত করা হচ্ছে। এরপর সেগুলো ঈদের বাড়তি ট্রেনগুলোতে সংযুক্ত করা হচ্ছে। আগামী ২৩ মে থেকে শুরু হবে রেলওয়ের আনুষ্ঠানিক ঈদযাত্রা। এবারও নিয়মিত ট্রেনের পাশাপাশি বিভিন্ন রুটে চলবে ৫ জোড়া বিশেষ ট্রেন।

Go to News Site