Somoy TV
ভঙ্গুর অর্থনীতিকে টেকসই করতে বর্তমান সরকার যেসব উদ্যোগ নিয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আসন্ন বাজেটে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো, দ্বৈত কর ব্যবস্থা এড়ানো এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট কর কমানোর দাবি জানিয়েছে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ)। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, শুধু কর সুবিধা নয়, পুঁজিবাজারে সুশাসন নিশ্চিত করতেই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।উন্নত দেশগুলোতে বড় ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম শেয়ারবাজার হলেও বাংলাদেশে এখনো এ খাত অনেকটাই পিছিয়ে। অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই খাত মূলধনের জোগান ও মানুষের আয়ের সুযোগ তৈরি করলেও এখনও অস্থিরতা, অসন্তোষ ও বিনিয়োগকারীদের অনাস্থা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। সাধারণ বিনিয়োগকারী সাযিদ রহমান বলেন, পুঁজিবাজার পুরোপুরি আস্থার ওপর নির্ভর করে। শুধু সমস্যার কথা বললে হবে না, সমাধানের কথাও বলতে হবে। না হলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা আরও বাড়বে। তবে এবার জাতীয় বাজেটে পুঁজিবাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সরকার কিছু পদক্ষেপ নিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, পুঁজিবাজার, বিনিয়োগ বাজার ও আর্থিক খাতকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের বাজারে আসতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এদিকে, পুঁজিবাজারকে আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন অংশীজনও দিয়েছেন নানা প্রস্তাব। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো, ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ আয়ের ওপর কাটা উৎসে করকে চূড়ান্ত কর দায় হিসেবে গণ্য করা, দ্বৈত কর পরিহার এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট কর কমানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। আরও পড়ুন: পুঁজিবাজারসহ আর্থিক খাতকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ চলছে: অর্থমন্ত্রী ডিবিএর সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর ব্যবধান কিছুটা বাড়ানো হলে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো কর সুবিধা পাবে। এতে আরও প্রতিষ্ঠান শেয়ারবাজারে আসতে আগ্রহী হতে পারে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কর ছাড়ের চেয়ে পুঁজিবাজারে সুশাসন নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি। সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, পুঁজিবাজারে আস্থার ঘাটতির মূল কারণ হলো সুশাসনের অভাব। এটি ঠিক না করে শুধু বিভিন্ন সুবিধা দিলেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য পুঁজিবাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাজেটে এ খাতের জন্য কিছু আর্থিক প্রণোদনা রয়েছে, প্রয়োজনে আরও সহজ করার সুযোগ বিবেচনা করা যেতে পারে। পাশাপাশি পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়াতেও এখন থেকেই বরাদ্দ দেয়া প্রয়োজন। অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, বহুজাতিক কোম্পানি ও লাভজনক সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করার জন্যও আসন্ন বাজেটে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা থাকা উচিত।
Go to News Site