Collector
সমুদ্রে ডুবে প্রেমিকার মৃত্যু, ইতালীয় যুবকের হৃদয়স্পর্শী চিঠি | Collector
সমুদ্রে ডুবে প্রেমিকার মৃত্যু, ইতালীয় যুবকের হৃদয়স্পর্শী চিঠি
Jagonews24

সমুদ্রে ডুবে প্রেমিকার মৃত্যু, ইতালীয় যুবকের হৃদয়স্পর্শী চিঠি

‘আমাদের আরও বেশি ভালোবাসতে শেখা দরকার। হৃদয়ের কথা বলতে হবে, প্রিয় মানুষকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরতে হবে, ছোট ছোট মুহূর্তের আনন্দ খুঁজে নিতে হবে। কারণ শেষ পর্যন্ত এই ছোট মুহূর্তগুলোই সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতি হয়ে থাকে।’ প্রেমিকার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে স্তব্ধ প্রেমিক ফেদেরিকো কলম্বো ইতালীয় সংবাদমাধ্যমে লিখেছেন এক হৃদয়স্পর্শী চিঠি। মালদ্বীপে ডাইভিং দুর্ঘটনায় নিহত ২২ বছর বয়সী জর্জিয়া সোমাকালের প্রেমিক ফেদেরিকো কলম্বোর (২৬) এই আর্তনাদ এখন ডাইভিং দুনিয়া ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে লাখো মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার মালদ্বীপের ভাভু আলিমাথা এলাকার কাছে গভীর সমুদ্রের নিচে একটি গুহায় ডাইভিং করতে গিয়ে ঘটে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা। এতে প্রাণ হারান ইতালীয় তরুণী জর্জিয়া এবং তার মা, ৫১ বছর বয়সী প্রখ্যাত সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী মনিকা মন্টেফালকোনে। এ ঘটনাকে মালদ্বীপের ইতিহাসের অন্যতম মর্মান্তিক ডাইভিং দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রিয় মানুষগুলোকে হারানোর তীব্র বেদনা থেকে ইতালীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকার ও এক আবেগঘন শোকের চিঠিতে জীবনের অনিশ্চয়তা ও ভালোবাসার গভীরতা তুলে ধরেছেন ফেদেরিকো। চিঠিতে ফেদেরিকো লিখেছেন, ‘জর্জিয়া ও মনিকাকে হারিয়ে আমি এমন এক কঠিন শিক্ষা পেয়েছি, যা আগে কখনও বুঝিনি। জীবনে কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয়। জীবন খুব ক্ষণস্থায়ী, তাই প্রিয় মানুষদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে আমাদের আর দেরি করা উচিত নয়।’ তিনি জানান, জর্জিয়ার সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল প্রায় তিন বছরের। তারা ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক সুন্দর স্বপ্ন দেখছিলেন। সমুদ্র আর ডাইভিংকে ভীষণ ভালোবাসতেন জর্জিয়া। সমুদ্রের নিচে থাকলে তিনি নিজেকে সত্যিকারের মুক্ত অনুভব করতেন। জানা গেছে, দুর্ঘটনার দিন ডাইভে নামার আগে জর্জিয়া ফোনে ফেদেরিকোর সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তখন তিনি খুবই উচ্ছ্বসিত ছিলেন এবং সমুদ্রের নিচের সুন্দর দৃশ্যগুলোর ছবি তুলে পাঠানোর কথাও বলেছিলেন ফেদেরিকোকে। কিন্তু সেই ছবিগুলো আর কোনোদিন পৌঁছায়নি। এই ডাইভিং অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন ইতালির পাঁচজন গবেষক ও ডাইভার। তারা ‘ডিউক অব ইয়র্ক’ নামের একটি বিলাসবহুল ডাইভিং সাফারি নৌযান থেকে ৫০ থেকে ৬০ মিটার গভীর গুহায় প্রবেশ করেছিলেন, যা সাধারণ বিনোদনমূলক ডাইভিংয়ের নির্ধারিত সীমার চেয়েও অনেক গভীর ছিল। নিহত মনিকা মন্টেফালকোনে ইতালির সামুদ্রিক গবেষণা প্রকল্প ‘মারে কালদো’-এর বৈজ্ঞানিক পরিচালক ছিলেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের ওপর কী প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে গবেষণা করছিলেন। অন্যদিকে জর্জিয়াও ছিলেন বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী। দুর্ঘটনার পর মালদ্বীপের জাতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী (এমএনডিএফ) বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া ও গভীর গুহার জটিলতার কারণে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। এ সময় উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া এমএনডিএফ কোস্টগার্ডের ডাইভার মোহাম্মদ মাহদীও ডিকম্প্রেশন সিকনেসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, অতিরিক্ত গভীরতায় অক্সিজেন টক্সিসিটি বা গুহার ভেতরে পথ হারিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। ঘটনার পর মালদ্বীপের পর্যটন মন্ত্রণালয় ‘ডিউক অব ইয়র্ক’ সাফারির অপারেটিং লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। একইসঙ্গে ইতালির রোমের প্রসিকিউটররাও অবহেলার অভিযোগে একটি ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছেন। চিঠির শেষ অংশে ফেদেরিকো বিশ্ববাসীকে আহ্বান জানিয়ে লিখেছেন, ‘আমরা যেন ভালোবাসতে কখনও দেরি না করি। কারণ ভালোবাসা মানুষকে খুব অল্প সময়ের জন্যই দেওয়া হয়, আর সেটাও আসে অনেক দেরিতে।’ জর্জিয়া ও মনিকার স্মৃতি তিনি সারাজীবন বুকে বয়ে বেড়াবেন বলেও জানান। এমআরএম/এমআরএম

Go to News Site