Jagonews24
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর খুলে দেওয়া হয়েছে কুমিল্লায় মহাসড়কের পাশে নির্মিত শত কোটি টাকার সেই অত্যাধুনিক বিশ্রামাগারটি। প্রথম দিনে মাত্র দুইটি গাড়ি ওই বিশ্রামাগারে প্রবেশ করেছে। বুধবার (২০ মে) দুপুর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচলকারী দূরপাল্লার ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ পণ্যবাহী যানবাহনের চালকদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিশ্রামাগারটি খুলে দেওয়া হয় কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষে থেকে। কুমিল্লার নিমসার এলাকায় নির্মিত এই বিশ্রামাগারটিতে চালকদের জন্য আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। বিশ্রামের ব্যবস্থা, গাড়ি পার্কিং, নামাজের ঘর, গোসলখানা, ক্যান্টিন, চিকিৎসাসেবা কেন্দ্রসহ নানা সুবিধা থাকায় এটি চালকদের জন্য এক পূর্ণাঙ্গ সেবাকেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। একইসঙ্গে দেশের আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশের বিশ্রামাগারও চালু করা হচ্ছে। সড়ক ও জনপথ সূত্র জানায়, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মহাসড়কে চলাচলকারী পণ্যবাহী গাড়ির চালকদের কথা বিবেচনা করে কুমিল্লা, সিলেট, খুলনা ও রাজশাহীতে নির্মিত চারটি বিশ্রামাগার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ব্যবহার উপযোগী করে চালু করা হচ্ছে। ঈদকেন্দ্রিক ব্যস্ত সময়ে দীর্ঘপথে পণ্য পরিবহনকারী চালকদের চাপ কমানো এবং নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চালকরা এ বিশ্রামাগারের সব সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন। চালকদের আগ্রহ বাড়াতে এবং বিশ্রামাগারটি জনপ্রিয় করতে শুরুতে সড়ক বিভাগের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আপাতত এটি পরিচালিত হবে। পরবর্তীতে ইজারাদার নিয়োগের মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের বিষয়টি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়। ট্রাকচালক নাবিল সর্দার বলেন, বিশ্রামাগার নির্মাণ ভালো উদ্যোগ। এই বিশ্রামাগারটি আরও আগে চালু হলে আমাদের জন্য খুব ভালো হতো। কারণ সড়কের পাশে গাড়ি দাঁড় করিয়ে বিশ্রাম নিলে মালামাল চুরি ছিনতাইসহ জীবনের ঝুঁকিতে থাকতে হতো। খুলে দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কাভার্ডভ্যান চালক শাহেদ মিয়া বলেন, দূরপাল্লার ভ্রমণের মাঝে বিশ্রাম নিতে হয়। গোসল, খাবারদাবার ও গাড়িতে ত্রুটি দেখা দিলে মেরামত করতে হয়। সে হিসেবে বিশ্রামাগারটি একটি নিরাপদ স্থান বলে আমরা মনে করছি। এখানে চুরি ছিনতাইয়ের কোনো ভয় নেই। এতে আমাদের ভোগান্তি কমবে বলে মনে করছি। কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, অধিদপ্তরের নির্দেশনায় ঈদুল আজহা উপলক্ষে পণ্যবাহী চালকদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিশ্রামাগারটি খুলে দেওয়া হচ্ছে। আজ থেকে দীর্ঘ যাত্রাপথে ক্লান্ত চালকরা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশে বিশ্রাম নিতে পারবেন। ২০১৯ সালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার নিমসার এলাকায় চালকদের জন্য আধুনিক বিশ্রামাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় ১৩ একর জায়গাজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে চারতলা বিশিষ্ট দুটি ভবন। যেখানে একসঙ্গে প্রায় ১০০ জন চালক অবস্থান করতে পারবেন। এছাড়া রয়েছে শতাধিক ট্রাক পার্কিংয়ের ব্যবস্থা এবং চালকদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো পণ্যবাহী চালকদের জন্য একটি নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও আধুনিক বিশ্রামব্যবস্থা নিশ্চিত করা, যাতে তারা দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার পর ক্লান্তি দূর করে পুনরায় সতেজ ও নিরাপদভাবে গাড়ি চালাতে পারেন। এতে মহাসড়কে দুর্ঘটনার হার কমে আসবে বলে জানানো হয়। জাহিদ পাটোয়ারী/এফএ/এমএস
Go to News Site