Collector
রাজশাহীর সিটি হাটে মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি | Collector
রাজশাহীর সিটি হাটে মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি
Jagonews24

রাজশাহীর সিটি হাটে মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী সিটি হাটে জমে উঠেছে পশুর বাজার। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে খামারি ও ক্রেতাদের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে হাটটি। ক্রেতাদের সামর্থ্য ও পারিবারিক চাহিদার কথা বিবেচনা নিয়ে অনেকেই মাঝারি গরুর দিকেই ঝুঁকছেন বলে জানিয়েছেন খামারিরা। বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে রাজশাহী সিটি হাট ঘুরে দেখা যায়, বড় গরুর তুলনায় মাঝারি গরুর সামনেই ক্রেতাদের ভিড় বেশি। বিশেষ করে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার মধ্যে থাকা গরুগুলোর প্রতি আগ্রহ বেশি দেখা গেছে। বিভিন্ন জেলা থেকে আনা দেশি গরুর পাশাপাশি খামারে লালন-পালন করা মাঝারি আকারের গরুর সরবরাহও রয়েছে পর্যাপ্ত। এতে ক্রেতারা যেমন পছন্দমতো গরু খুঁজে পাচ্ছেন, তেমনি বিক্রেতারাও ভালো বিক্রির আশা করছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজশাহী ঢাকার মতো বড় বাণিজ্যিক শহর নয়। এখানে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের সংখ্যাই তুলনামূলক বেশি। আবার শিক্ষা নগরী হিসেবে পরিচিত হওয়ায় শহরটিতে শিক্ষক, চাকরিজীবী ও সুশীল সমাজের মানুষের বসবাসও বেশি। তাদের অনেকেই এককভাবে কোরবানি দেওয়ার জন্য মাঝারি কিংবা ছোট গরুকেই বেশি উপযোগী মনে করছেন। ফলে কোরবানির পশু কেনার ক্ষেত্রে অধিকাংশ ক্রেতা সাধ্য ও প্রয়োজন বিবেচনায় মাঝারি গরুর প্রতিই ঝুঁকছেন। এছাড়াও হাটে ছোট আকারের গরুর বিক্রিও বেশ ভালো হচ্ছে। সীমিত বাজেট ও ছোট পরিবারের কথা বিবেচনায় রেখে অনেকে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার মধ্যে গরু কিনছেন। তুলনামূলক কম দামের কারণে এসব গরুর প্রতি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা আনিসুর রহমান মিলন ১ লাখ ৫ হাজার টাকায় একটি মাঝারি গরু কিনেছেন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে বড় গরু কেনা অনেকের পক্ষেই কঠিন। তাই পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও বাজেট বিবেচনায় মাঝারি গরুই ভালো মনে হয়েছে। হাটে পছন্দমতো গরু পেয়েছি, দামও মোটামুটি সহনীয়। হাটে মাঝারি ও ছোট গরু দেখতে আসা শামীম পাটোয়ারী বলেন, আগের তুলনায় এবার বড় গরুর দাম অনেক বেশি। তাই বেশিরভাগ মানুষ মাঝারি গরুর দিকেই ঝুঁকছেন। আমাদের বাজেটের মধ্যেও বেশ কিছু ভালো গরু দেখা যাচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ৩৫টির মতো মাঝারি ও ছোট গরু নিয়ে রাজশাহীর সিটি হাটে এসেছেন খামারি কামাল মিয়া। তিনি বলেন, রাজশাহীর বাজার বুঝেই এবার মাঝারি ও ছোট গরু বেশি এনেছি। বড় গরুর তুলনায় এসব গরু দ্রুত বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারাও দাম শুনে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। আরেক খামারি আব্দুল খালেক বলেন, খাদ্য ও পরিবহন খরচ বাড়লেও ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার কথা মাথায় রেখে আমরা মাঝারি গরুই বেশি প্রস্তুত করেছি। ৩ থেকে ৫ মণ ওজনের গরুর চাহিদা এবার সবচেয়ে বেশি। খামারিরা জানান, রাজশাহীর বাজারে মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি থাকায় বড় গরুর একটি অংশ ঢাকাসহ দেশের বড় বড় পশুর হাটে পাঠানো হয়েছে। এরপরও সিটি হাটে পর্যাপ্ত গরুর সরবরাহ রয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। হাট ইজারাদারদের ভাষ্য, ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে বেচাকেনা আরও বাড়বে। তবে এখন পর্যন্ত হাটে গরুর সরবরাহ ভালো থাকায় ক্রেতা ও বিক্রেতা-দুই পক্ষই সন্তুষ্ট। এদিকে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছর রাজশাহীতে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ১১টি গবাদিপশু। এর মধ্যে রয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৮৪১টি গরু, ৩ হাজার ৪২৫টি মহিষ, ৩ লাখ ১১ হাজার ৩৩৯টি ছাগল এবং ৪৩ হাজার ৪০৬টি ভেড়া। বিপরীতে জেলার চাহিদা রয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৭১ হাজার ৫৮টি পশু। ফলে প্রায় ৯২ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকছে, যা দেশের অন্যান্য জেলায় পাঠানো হবে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতোয়ার রহমান বলেন, একসময় ভারতীয় গরু আসায় স্থানীয় খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হতেন। এবার সীমান্তে বাড়তি নজরদারি নেওয়া হয়েছে, যাতে অবৈধভাবে গরু প্রবেশ করতে না পারে। স্থানীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসন কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, রাজশাহী অঞ্চলে এবার পশুর সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি থাকায় বাজার স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হাটগুলোতে নজরদারি ও মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। মনির হোসেন মাহিন/এনএইচআর/জেআইএম

Go to News Site