Jagonews24
চা ছাড়া আমাদের একটিদিনও কাটানো সম্ভব না, সেই সকালে ঘুম ভাঙার পর থেকে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ৭-৮ কাপ চা খান অনেকে। অনেকে এর চেয়েও বেশি। তবে আমরা বেশিরভাগ সময় খেয়ে থাকি লাল চা, দুধ চা, মসলা চা কিংবা স্বাস্থ্য সচেতন যারা তারা গ্রিন টি। ৫-১০টাকায় এক কাপ চা খাওয়া যায় অনায়াশে। তবে যদি বলি এমন অনেক চা আছে যার এক কাপ চায়ের দামে কেনা যায় বাড়ি-গাড়ি। তাহলে বিশ্বাস হবে? বিশ্বের চায়ের ইতিহাস হাজার বছরের পুরোনো। চীন থেকে শুরু হয়ে ভারত, শ্রীলঙ্কা, জাপান হয়ে আজ এটি বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়গুলোর একটি। কিন্তু সব চা-ই যে সাধারণ দামের নয় তা অনেকেই জানেন না। কিছু বিরল, বিলাসবহুল এবং ঐতিহাসিক চা আছে, যেগুলোর দাম সোনার চেয়েও বেশি। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কেন এত দামি এসব চা? বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চাগুলোর উচ্চ দামের পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। যেমন- উৎপাদনের বিরলতা, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব, বিশেষ প্রক্রিয়াজাতকরণ, সীমিত সরবরাহ, ব্র্যান্ড ভ্যালু ও বিলাসবহুল মার্কেটিং-সব মিলিয়ে চায়ের দাম বেড়ে যায়। চা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন পানীয় হলেও কিছু ক্ষেত্রে এটি বিলাসিতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। বিশ্বের সবচেয়ে দামি চাগুলো শুধু পানীয় নয়, বরং ইতিহাস, সংস্কৃতি ও বিলাসিতার এক অনন্য মিশ্রণ। এক কাপ চা যেমন সাধারণ মানুষের আরামের প্রতীক, তেমনি কিছু চা বিশ্বের অভিজাতদের জন্য স্ট্যাটাস সিম্বল। চাপ্রেমীদের জন্য এই বিরল পানীয়গুলো হয়তো স্বপ্নের মতো, কিন্তু এগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় চায়ের জগৎ কতটা বৈচিত্র্যময় ও বিস্ময়কর হতে পারে। আজ আন্তর্জাতিক চা দিবসে চাপ্রেমীদের জন্য থাকছে বিশ্বের সবচেয়ে দামি ৫টি চা-এর খোঁজ- ১. ডা হং পাও চীনের ফুজিয়ান প্রদেশের উয়ি পর্বতমালায় উৎপাদিত ডা হং পাও চা পৃথিবীর সবচেয়ে দামি চাগুলোর মধ্যে শীর্ষে। এটি মূলত একটি রক টি বা পাথুরে মাটিতে জন্মানো চা। ঐতিহাসিক এক কিংবদন্তি আছে, মিং রাজবংশের এক সম্রাটের অসুস্থ মা এই চা পান করে সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। কৃতজ্ঞতায় সম্রাট সেই চা গাছগুলোকে লাল কাপড় দিয়ে ঢেকে দেন সেখান থেকেই নাম ডা হং পাও বা বিগ রেড রব। এ চায়ের দাম প্রতি কেজিতে কয়েক লাখ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। বিরলতা ও ইতিহাসই এর প্রধান মূল্য নির্ধারণ করে। ২. পিজি টিপস ডায়মন্ড টি ব্যাগ চা যে বিলাসিতার প্রতীক তার প্রমাণ এই পিজি টিপস ডায়মন্ড টি ব্যাগ। ব্রিটিশ ব্র্যান্ড পিজি টিপস তাদের ৭৫তম বার্ষিকীতে তৈরি করে একটি হীরকখচিত টি-ব্যাগ, যার নাম দেওয়া হয় ডায়মন্ড টি ব্যাগ। এই টি-ব্যাগে ছিল আসল ডায়মন্ড এবং প্রিমিয়াম চা পাতা। এর দাম ছিল প্রায় ১৫ হাজার ডলার। যদিও এটি বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির জন্য নয়, এটি ব্র্যান্ডের বিলাসবহুল মার্কেটিং স্টান্ট হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। চায়ের চেয়ে এখানে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে বিলাসিতা ও প্রদর্শন। ৩. পান্ডা ডাং টি চায়ের জন্মভূমি চীনেই এই চা পাওয়া যায়। চীনের সিচুয়ান প্রদেশের একটি অদ্ভুত চা হলো পান্ডা ডাং টি। নাম শুনেই অবাক হওয়ার মতো বিষয় হলো, এই চা তৈরি করা হয় পাণ্ডার খাওয়া বাঁশের বর্জ্য ব্যবহার করে। পান্ডা যা খায়, তার মাত্র ৩০ শতাংশ হজম হয়। বাকি অংশকে জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করে চা গাছ চাষ করা হয়। জানেন তো বিশ্বের সবচেয়ে দামি কফিও কিন্তু এক ধরনের গন্ধগোকুল বা সিভেট নামক বিড়ালের বিষ্ঠা বা মল থেকে। বিষ্ঠা থেকে বাছাই করা হয় কফির বীজগুলো। তারপর তা প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি হয় লুয়াক কফি। এই অস্বাভাবিক উৎপাদন পদ্ধতির কারণে এটি অত্যন্ত বিরল ও দামি। এর দাম প্রতি কেজিতে প্রায় ৭০ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। পরিবেশবান্ধব ভাবনা এবং বিরল উৎপাদন পদ্ধতি এটিকে বিশেষ করে তুলেছে। ৪. তাইগুয়ানিন চীনের বিখ্যাত ওলং চা তাইগুয়ানিন টি তার ফুলেল ঘ্রাণ এবং গভীর স্বাদের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। এই চায়ের নাম এসেছে বৌদ্ধ দেবী আয়রন গডেস অব মেরসি থেকে। উচ্চমানের তাইগুয়ানিন বারবার ফারমেন্টেশন ও বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরি করা হয়। বিশেষ গ্রেডের তাইগুয়ানিন প্রতি কেজিতে হাজার থেকে দশ হাজার ডলার পর্যন্ত বিক্রি হয়। এর স্বাদে থাকে অর্কিড ও মধুর মিশ্রিত সুবাস, যা চা প্রেমীদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা। ৫. ইয়েলো গোল্ড টি বাডস সিঙ্গাপুরে বিক্রি হওয়া ইয়েলো গোল্ড টি বাডস বিশ্বের অন্যতম দামি চা হিসেবে পরিচিত। এই চা গাছের কুঁড়িগুলো সোনার পাত দিয়ে ঢেকে কেটে সংগ্রহ করা হয়। এই চা শুধু এক বিশেষ দোকানে পাওয়া যায় এবং এটি সংগ্রহ করতে বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয়। এর স্বাদ নরম হলেও মূল আকর্ষণ হলো এতে থাকা আসল ২৪ ক্যারেট সোনার কণা। প্রতি কাপের দাম সাধারণত একশ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা একে অভিজাত পানীয়তে পরিণত করেছে। সূত্র: ওয়ার্ল্ড টি নিউজ, ফোর্বস, টি অ্যাসোসিয়েশন অব দ্য ইউএসএ, ওনমানোরামা আরও পড়ুনবিশ্বজুড়ে দৈনিক ২ বিলিয়ন কাপ চা পান করেন মানুষবঙ্গদেশে চা পান শুরু হয় যেভাবে কেএসকে
Go to News Site