Collector
টানা তিন কার্যদিবস চাঙা শেয়ারবাজার | Collector
টানা তিন কার্যদিবস চাঙা শেয়ারবাজার
Jagonews24

টানা তিন কার্যদিবস চাঙা শেয়ারবাজার

টানা দরপতন প্রবণতা থেকে বেরিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে শেয়ারবাজার। ভালো-মন্দ সব খাতের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার পাশাপাশি লেনদেনের গতিও বাড়তে দেখা যাচ্ছে।   বৃহস্পতিবার (২১ মে) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেশিসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে সবকটি মূল্যসূচক। এর মাধ্যমে টানা তিন কার্যদিবস শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকলো। ঈদ কেন্দ্রিক শেয়ার বিক্রির চাপ কমায় শেয়ারবাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, ঈদ কেন্দ্রিক বিক্রির চাপ থাকায় কিছুদিন আগে শেয়ারবাজারে টানা দরপতন হয়েছে। এখন সেই প্রবণতা থেকে বাজার বেরিয়ে এসেছে। বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে ডিএসইর এক সদস্য বলেন, প্রতিবছর ঈদের আগে বাজারে শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়ে। অনেকে ঈদের খরচের জন্য শেয়ার বিক্রি করেন। এবারও শেয়ার বিক্রির এক ধরনের চাপ ছিল। যে কারণে বাজারে পতন প্রবণতা দেখা যায়। তিনি বলেন, ঈদের আগে যেভাবে তারল্য সংকোচন ও বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছিল, সেটি এখন অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। পাশাপাশি ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন শেয়ারে ধীরে ধীরে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ফিরছে। তবে বাজার এখনও সম্পূর্ণ স্থিতিশীল হয়নি, তাই বিনিয়োগে সতর্কতা প্রয়োজন। ডিএসইর আর এক সদস্য বলেন, বাজারে এখন অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বিনিয়োগের উপযুক্ত অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘ মন্দার কারণে বেশির ভাগ শেয়ার দাম অনেক কমে গেছে। অস্বাভাবিক কিছু না ঘটলে এখান থেকে বাজার ঘুরে দাঁড়ানো স্বাভাবিক। বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, বৃহস্পতিবার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলে। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। ফলে দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচক বেড়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ২৩৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ৯৩টির এবং ৪৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১২২টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৪৪টির দাম কমেছে এবং ২৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৪৯টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২১টির এবং ৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৬২টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২৮টির এবং ২৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ১৭টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৭ দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। কোনো মিউচুয়াল ফান্ডের দাম কমেনি। দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৪১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২৬৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৬৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ২০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৯৫ পয়েন্টে উঠে এসেছে। মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৮৬৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৮৪১ কোটি ১২ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে  ২৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে আরডি ফুডের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৯ কোটি ৭০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা এশিয়াটিক ল্যাবরেটরির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৮ কোটি ৯২ লাখ টাকার। ২২ কোটি ৪৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে মীর আখতার হোসেন লিমিটেড। এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- বিডি থাই ফুড, বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার, টেকনো ড্রাগস, কেডিএস অ্যাকসেসরিজ, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং এবং একমি পেস্টিসাইড। অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ২১ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২০০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১৭টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫৮টির এবং ২৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৩০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এমএএস/এমএএইচ/

Go to News Site