Jagonews24
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শারীরিক শিক্ষা অফিসের উপ-পরিচালক সাবিহা কবীরের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব, ব্যক্তিগত আক্রোশ ও অপেশাদার আচরণের অভিযোগ তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী খেলোয়াড়রা। এ বিষয়ে উপ-উপাচার্যের (শিক্ষা) কাছে একটি লিখিত অভিযোগপত্র দিয়েছেন ফুটবল ও ভলিবল দলের খেলোয়াড়রা। বৃহস্পতিবার (২১ মে) অভিযোগপত্র পাওয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান। এর আগে, গত বুধবার তাকে লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেন নারী খেলোয়াড়রা। লিখিত অভিযোগপত্রে খেলোয়াড়রা জানান, সাবিহা কবীর দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে দল নির্বাচন করছেন এবং মেয়েদের বাজেটে চরম বৈষম্য করছেন। ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের খেলায় বাজেট সংকট লেগেই থাকে। এমনকি বাজেট অনুমোদিত হলেও অনেক সময় মেয়েদের অর্ধেক দৈনিক ভাতা দেওয়া হয় এবং অনুশীলনে পর্যাপ্ত সরঞ্জাম দেওয়া হয় না। অভিযোগে আরও বলা হয়, সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে (১৩-১৪ মে) দায়িত্ব পালনকালে সাবিহা কবীর খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেন। তিনি মাঠে খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমরা হাফ টাইম খেলে, গোল খেয়ে ওদেরকে ম্যাচ জিতিয়ে দিয়ে চলে যাব।’ এছাড়া ভলিবল দলের সঙ্গে গিয়েও (১৫ মে) তিনি কোর্টের ভেতর ঢুকে বকাবকি করেন এবং ভুল নির্দেশনা দিয়ে ম্যাচ হারানোর কারণ হন বলে অভিযোগ খেলোয়াড়দের। খেলোয়াড়দের অভিযোগ, কোচের নিয়মিত দুর্ব্যবহারের কারণে এক নারী খেলোয়াড় মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তার সেমিস্টার পরীক্ষায় ‘রিটেক’ দিতে বাধ্য হয়েছেন। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়রা ৬টি দাবি তুলে ধরেছেন। দাবিগুলো হলো—সাবিহা কবীরের যোগ্যতা যাচাই ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, মেয়েদের সব খেলায় পর্যাপ্ত বাজেট ও স্বচ্ছতা আনা, রাজনৈতিক বিবেচনা উপেক্ষা করে দক্ষ কোচ নিয়োগ দেওয়া, মানসম্মত সরঞ্জাম নিশ্চিত করা, প্র্যাকটিস অ্যাটেনডেন্স ফি তাৎক্ষণিক প্রদান এবং ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে টিম সিলেকশনে জালিয়াতি বন্ধ করা। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-পরিচালক সাবিহা কবীর বলেন, আমি আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগপত্র এখনো পাইনি।’ এর বাইরে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, আমরা নারী খেলোয়াড়দের লিখিত অভিযোগপত্র পেয়েছি। বিষয়টিকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, পরবর্তীতে কোনো টিম কোথাও পাঠানোর আগে যেন আমার অনুমোদন নেওয়া হয়। মো. রকিব হাসান প্রান্ত/কেএইচকে/এএসএম
Go to News Site