Jagonews24
সৌরবিদ্যুতের সুফল বাড়তে থাকায় ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে। তবে বৈশ্বিক এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না বাংলাদেশ। বরং, বিশ্ব যখন দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে তখনও দেশটি জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি ও এ সংক্রান্ত জটিলতায় ধুঁকছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) গ্লোবাল এনার্জি মনিটর কর্তৃক প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বুম অ্যান্ড বাস্ট কোল-২০২৬ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বে কয়লাভিত্তিক নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। এরপরও এ বছর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ। মূলত, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলো ব্যাপকভিত্তিক সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে ঝুঁকে পড়ায় কয়লার ব্যবহার কমে গেছে। তবে, এক্ষেত্রে বাংলাদেশের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। গ্লোবাল এনার্জি মনিটর বলছে, ভারতের বাইরে দক্ষিণ এশিয়ায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন মূলত আমদানিনির্ভর। বাংলাদেশ প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কয়লা আমদানি করে। ফলে জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় নানা প্রযুক্তিগত ও জ্বালানি সরবরাহ সমস্যার মুখে রয়েছে বাংলাদেশ এবং এখনও উল্লেখযোগ্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি সক্ষমতা গড়ে তুলতে পারেনি। প্রতিবেদনটিতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রতিবেশী পাকিস্তান অস্থির জ্বালানি বাজারের ওপর নির্ভরতা কমাতে দ্রুত সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণ করেছে। কিন্তু, বাংলাদেশ এখনো আমদানিকৃত কয়লা ও এলএনজির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, যার কারণে প্রায়ই জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এমন সময় এই প্রতিবেদন প্রকাশ হলো, যখন জ্বালানি ঘাটতি, বাড়তি আমদানি ব্যয় এবং ব্যয়বহুল জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপের মুখে রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ চললেও বাস্তবে কয়লার ব্যবহার কমছে। এই প্রবণতা সবচেয়ে স্পষ্ট ছিল চীন ও ভারতে। চীনে কয়লা সক্ষমতা ৬ শতাংশ বাড়লেও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে ১ দশমিক ২ শতাংশ। ভারতে সক্ষমতা বেড়েছে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ, কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে ২ দশমিক ৯ শতাংশ। দুই দেশেই নতুন বিদ্যুৎ চাহিদার বড় অংশ পূরণ করেছে সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ। গ্লোবাল এনার্জি মনিটরের গ্লোবাল কোল প্ল্যান্ট ট্র্যাকার প্রকল্প ব্যবস্থাপক ক্রিস্টিন শিরার বলেন, ২০২৫ সালে বিশ্ব আরও বেশি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছে, কিন্তু কয়লার ব্যবহার কমেছে। উন্নয়ন এখন আরও বেশি কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়েছে- বিশ্বের ৯৫ শতাংশ কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে চীন ও ভারতে। অথচ, তারাও এত দ্রুত সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ সম্প্রসারণ করছে যে তা কয়লাকে প্রতিস্থাপন করার মতো সক্ষমতা তৈরি করছে। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের দিকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো বিকল্প প্রযুক্তির অভাব নয়; বরং সেই নীতিগুলোর স্থায়িত্ব, যেগুলো এখনো কয়লাকে অপরিহার্য হিসেবে ধরে রাখছে। যদিও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ধীরে ধীরে এর বাইরে চলে যাচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মাত্র ৩২টি দেশ নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রস্তাব বা নির্মাণ করেছে, যা ২০১৪ সালের ৭৫টির তুলনায় অনেক কম। এখন বৈশ্বিক কয়লা প্রকল্পের মাত্র ৫ শতাংশ চীন ও ভারতের বাইরে হচ্ছে। একই সময়ে লাতিন আমেরিকা ২০২৫ সালে নতুন কয়লা প্রকল্প বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে এবং দক্ষিণ কোরিয়া কয়লা থেকে সম্পূর্ণ বেরিয়ে যাওয়ার নীতিতে অগ্রসর হচ্ছে। তবে, প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, পুরোনো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করার প্রক্রিয়া এখনো ধীর। ২০২৫ সালে অবসরে যাওয়ার কথা থাকা প্রায় ৭০ শতাংশ কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র এখনও চালু রয়েছে, বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রে। প্রতিবেদনটি ২০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক সংস্থার যৌথ উদ্যোগে তৈরি হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ প্রতিবেশ ও উন্নয়ন কর্মজোট (বিডব্লিউজিইডি) এবং ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ। এনএস/এএমএ
Go to News Site