Jagonews24
কুড়িগ্রামের উলিপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় নূরানী বেগম (৩৫) নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ৭টার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। নিহত নূরানী বেগম উপজেলার বজরা ইউনিয়নের খামারদামারহাট এলাকার মশিউর রহমানের স্ত্রী। তিনি এক সন্তানের জননী ছিলেন। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, প্রসব বেদনা উঠলে নূরানী বেগমকে ‘উলিপুর আধুনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড হাসপাতাল’ এ ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা সিজারিয়ান অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন। অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকদের অসাবধানতায় প্রসূতির জরায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়লে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করে এবং গভীর রাতে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে। নিহতের ভাতিজা নুর আলম বলেন, আমরা যখন চাচিকে ওই ক্লিনিকে নিয়ে যাই, তখন ওখানকার গাইনি চিকিৎসক বলছিলেন প্রেসার বেশি হওয়ায় এখন সিজার করা সম্ভব না। কিন্তু ক্লিনিকের লোকজন জোর করে সেখানে সিজার করায়। এরপর রক্তক্ষরণ শুরু হলে রাতে তাকে রংপুরে পাঠানো হয়। সেখানে সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তিনি বলেন, এ ঘটনায় স্বজনরা দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. আতা এলাহী সোহাগ ও ডা. নজরুল ইসলামকে দায়ী করছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. নজরুল ইসলামের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে অপারেশনকারী চিকিৎসক ডা. আতা এলাহী সোহাগ ভুল চিকিৎসার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রাত সাড়ে ৯টার দিকে রোগীকে অপারেশন করা হয়। রোগীর জরায়ু আগে থেকেই ফাটা ছিল এবং জরায়ুর নিচে ফুলে গিয়েছিল। ফলে অস্ত্রোপচারের পর ব্লিডিং শুরু হয়। এরপর রোগীর স্বজনরা সময়মতো রক্ত সরবরাহ করতে ব্যর্থ হন। পরে বাধ্য হয়ে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি হয়নি। কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন কর্মকর্তা ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, ক্লিনিকে প্রসূতি মৃত্যুর বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। এই বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে এবং গাফিলতি প্রমাণ হলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রোকনুজ্জামান মানু/কেএইচকে/এএসএম
Go to News Site