Collector
‘বুকে ব্যথার’ কথা বলে ১০ দিন ধরে অনুপস্থিত দিনাজপুর বোর্ডের চেয়ারম্যান | Collector
‘বুকে ব্যথার’ কথা বলে ১০ দিন ধরে অনুপস্থিত দিনাজপুর বোর্ডের চেয়ারম্যান
Jagonews24

‘বুকে ব্যথার’ কথা বলে ১০ দিন ধরে অনুপস্থিত দিনাজপুর বোর্ডের চেয়ারম্যান

বুকে ব্যথার কথা বলে ১০ দিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুহা. তৌহিদুল ইসলাম। লিখিতভাবে কিছু না জানিয়ে বা কাউকে দায়িত্বভার না দিয়েই অনুপস্থিত রয়েছেন তিনি। এমনকি ফোনও ধরছেন না চেয়ারম্যান। বোর্ডের চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকায় চলমান এসএসসি পরীক্ষা, পরীক্ষা সংক্রান্ত নানান কাজ, কর্মচারীদের পদোন্নতি, বিদ্যালয় ও কলেজ কমিটির অনুমোদন, এইচএসসি পরীক্ষার ফয়েল পেপার ক্রয়ের টেন্ডার কার্যক্রম, বেতন-ভাতাসহ—সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শিক্ষাবোর্ড প্রধানের অনুপস্থিতিতে ফাইলপত্র সই না হওয়ায় দেখা দিয়েছে অচলাবস্থা। শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত ১১ মে সন্ধ্যায় শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুহা. তৌহিদুল ইসলাম বুকে ব্যথার কথা জানিয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বোরহান উদ্দিনকে সরকারি মোবাইলফোনটি জমা দেন। পরে তিনি বোর্ডের গাড়ি নিয়ে রংপুরে যান। এর পরের দিন হোয়াটসঅ্যাপে বোর্ডের সচিব অধ্যাপক নূর মো. আব্দুর রাজ্জাককে কর্মচারীদের পদোন্নতির মিটিং স্থগিত করতে বলেন এবং তিনি ঢাকায় গেছেন বলে জানান। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত তিনি বা তার পরিবারের কেউই মোবাইলফোন ধরেননি। নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান ছুটিতে থাকলে লিখিতভাবে দায়িত্ব দিয়ে যেতে হয় বোর্ডের সচিবকে। কিন্তু কোনো দায়িত্ব না দেওয়ায় এবং মন্ত্রণালয় থেকেও কোনো নির্দেশনা না থাকায় বিপাকে পড়েছেন শিক্ষাবোর্ডের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা। এসএসসি পরীক্ষা ও পরীক্ষা সংক্রান্ত কেন্দ্রসহ সংশ্লিষ্ট ব্যয়ভার বহন করতে হচ্ছে ব্যক্তিগত অর্থ দিয়ে। সইয়ের জন্য বন্ধ রয়েছে আগামী এইচএসসি পরীক্ষার ইজিপি টেন্ডার কার্যক্রম। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভেঙে দেওয়া বিদ্যালয় ও কলেজ কমিটি অনুমোদনের কার্যক্রমও বন্ধ। স্থগিত হয়ে গেছে কর্মচারীদের পদোন্নতি, বেতন-ভাতাসহ যাবতীয় কার্যক্রম। শিক্ষাবোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক ও কলেজ পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করা অধ্যাপক আমিনুল হক বলেন, ‌‘আমাকে দুটি শাখার দায়িত্ব পালন করতে হয়। বিগত সরকারের সময় সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসন কিংবা বিভাগীয় কমিশনারদের প্রতিনিধিরা বিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। একটি আদেশের মাধ্যমে ৩১ মার্চ থেকে সব বিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে আগের কমিটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এখন এসব প্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠন করার কাজ চলছে। প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ফাইল অনলাইনের মাধ্যমে জমা দিচ্ছে, কিন্তু চেয়ারম্যানের সই ছাড়া এসব কমিটি অনুমোদন করা যাচ্ছে না। ফলে আমরা এসব প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় সেবা দিতে পারছি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষাবোর্ডের অধীন তিন হাজার ২০২টি বিদ্যালয় এবং ৭২০টি কলেজের কমিটি অনুমোদনের কাজ চলছে। এরমধ্যে মাত্র এক শতাংশ কাজ হয়েছে। বাকি কাজগুলো পর্যায়ক্রমে হওয়ার কথা। কিন্তু চেয়ারম্যানের সই ছাড়া এটা সম্ভব নয়।’ বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘গত ১১ তারিখ সন্ধ্যায় যাওয়ার মুহূর্তে উনি অফিসিয়াল মোবাইল আমাকে দিয়ে যান পরীক্ষা সংক্রান্ত কেন্দ্র থেকে যোগাযোগ ও কোডের ব্যবহারের জন্য। এরপর থেকে আমি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছি কিন্তু ফোন ধরেননি। পরের দিন সচিবের মাধ্যমে শুনলাম তিনি ঢাকায় ভাইয়ের বাড়িতে গেছেন। পরীক্ষা সংক্রান্ত কিছু সমস্যা যেমন-পরীক্ষা পরিচালনার আর্থিক খরচ, আপাতত এটা ব্যক্তিগতভাবে চালানো হচ্ছে। তবে লম্বা সময় ধরে যদি এটা চলে, তাহলে আমাদেরকে সমস্যায় পড়তে হবে।’ তিনি বলেন, ‘এইচএসসি পরীক্ষার জন্য বিজি প্রেসের বিভিন্ন খরচাদি রয়েছে। সেগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ প্রয়োজন। বিশেষ করে যোগাযোগ প্রয়োজন, যেটা সম্ভব হচ্ছে না।’ চেয়ারম্যানের সরকারি গাড়ির চালক সারোয়ার হোসেন বলেন, ‘স্যারকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পূর্বপাশে ভাইয়ের বাড়িতে নামিয়ে দেই। এরপর সচিব স্যার বলেন, স্যার ফোন ধরছেন না। স্যারের স্ত্রীকে ফোন করে শারীরিক অবস্থার বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, স্যার সুস্থ আছেন। এরপর থেকে স্যারের স্ত্রীও ফোন ধরছেন না।’ এ বিষয়ে জানতে শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুহা. তৌহিদুল ইসলামকে তার ব্যক্তিগত ফোন নম্বরে কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এমদাদুল হক মিলন/এসআর/জেআইএম

Go to News Site