Collector
নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে নিউজিল্যান্ডের সহযোগিতা চায় বিজিএমইএ | Collector
নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে নিউজিল্যান্ডের সহযোগিতা চায় বিজিএমইএ
Jagonews24

নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে নিউজিল্যান্ডের সহযোগিতা চায় বিজিএমইএ

নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে নিউজিল্যান্ডের উন্নত কারিগরি সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। পাশাপাশি দেশটির বাজারে বাংলাদেশের নিজস্ব ব্যান্ড প্রমোট করার প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি। বৃহস্পতিবার (২১ মে) উত্তরায় বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত নিউজিল্যান্ডের অনাবাসিক হাইকমিশনার পিটার পাইন এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচন ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। হাইকমিশনার বিজিএমইএর প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দেন। বাংলাদেশ কোন কোন খাতে নিউজিল্যান্ডের সহযোগিতা চায়, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দিলে দেশটি অর্থনৈতিক ও শিল্প উন্নয়নে কারিগরি এবং কৌশলগত সহযোগিতায় ইতিবাচকভাবে অংশীদারত্ব নিয়ে এগিয়ে আসবে বলে জানিয়েছেন পিটার পাইনে। বিজিএমইএর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও শিল্প উন্নয়নে কারিগরি-কৌশলগত সহযোগিতা দিতে নিউজিল্যান্ড সরকার আগ্রহী। বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান হাইকমিশনারের সহযোগিতার প্রস্তাবকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, বিজিএমইএ ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার সুদূরপ্রসারী রোডম্যাপ ও দূরদর্শী উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে। এই লক্ষ্য অর্জন ও বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে বিজিএমইএ প্রচলিত বাজারের বাইরে নিউজিল্যান্ডের মতো নতুন এবং সম্ভাবনাময় বাজারগুলোর ওপর বিশেষভাবে জোর দিচ্ছে বলে জানান তিনি। বর্তমানে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যার মধ্যে ৯৪ শতাংশই তৈরি পোশাক। এই বাণিজ্য ব্যবধান কমিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে উভয় পক্ষ যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে একমত পোষণ করেছে। বিজিএমইএ সভাপতি উল্লেখ করেন, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি পোশাকের বাইরে অন্য পণ্য রপ্তানি বিশেষ করে টেক্সটাইল ফুটওয়্যার, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং ফার্নিচার শিল্পের বহুমুখীকরণে কাজ করছে, যেখানে নিউজিল্যান্ডের প্রযুক্তিগত অংশীদারত্ব বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বৈঠকে তৈরি পোশাক খাতের টেকসই রূপান্তরের অংশ হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয় এবং বিজিএমইএ সভাপতি এ খাতে নিউজিল্যান্ডের উন্নত কারিগরি সহযোগিতা কামনা করেন। আলোচনায় বাংলাদেশের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে। হাইকমিশনার এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রস্তুতি জানতে চাইলে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, বর্তমান ব্যবসাবান্ধব সরকার ব্যবসায়ীদের নিয়ে এ লক্ষ্যে কাজ করছে। বিজিএমইএ সভাপতি এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার জন্য নিউজিল্যান্ড সরকারের আন্তরিক সহযোগিতা ও সমর্থন চেয়েছেন। বৈঠকে নিউজিল্যান্ডের বাজারে বাংলাদেশি পোশাকের ব্র্যান্ড ভিজিবিলিটি বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈশ্বিক অনেক শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড নিউজিল্যান্ডে সরাসরি কাজ না করায় দেশটির স্থানীয় ক্রেতা ও রিটেইলারদের সঙ্গে কীভাবে সরাসরি ব্যবসায়িক যোগাযোগ স্থাপন করা যায়, সে বিষয়ে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইকমিশনার ডেভিড পাইন নিউজিল্যান্ডে আয়োজিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এক্সপো ও ট্রেড ফেয়ারে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণের পরামর্শ দেন। বৈঠকে নিউজিল্যান্ডের বাজারে বাংলাদেশের নিজস্ব ব্যান্ড প্রমোট করার প্রস্তাব দেওয়া হলে হাইকমিশনার তাতে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে সাড়া দেন। বৈঠকে বিজিএমইএর ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব এবং নিউজিল্যান্ড হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আইএইচও/এএসএ

Go to News Site