Collector
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে চাপে ইউরোপের অর্থনীতি, বাড়ছে মূল্যস্ফীতি | Collector
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে চাপে ইউরোপের অর্থনীতি, বাড়ছে মূল্যস্ফীতি
Jagonews24

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে চাপে ইউরোপের অর্থনীতি, বাড়ছে মূল্যস্ফীতি

ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট ইউরোপের অর্থনীতিতে ক্রমেই গভীর প্রভাব ফেলছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) প্রকাশিত বিভিন্ন অর্থনৈতিক তথ্য অনুযায়ী, এ পরিস্থিতি একদিকে প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা নীতিনির্ধারকদের জন্য নতুন সংকট তৈরি করেছে। অর্থনীতিবিদদের বেশিরভাগই বলছেন, পরিস্থিতি এখনো ১৯৭০-এর দশকের মতো উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও স্থবির প্রবৃদ্ধির পর্যায়ে পৌঁছেনি। তবে এটি কোভিড-১৯ মহামারির পর শুরু হওয়া জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটকে আরও তীব্র করে তুলবে, যার প্রভাব এখনো লাখো পরিবার বহন করছে। এর ফলে সুদের হার নির্ধারণ এবং বাড়তি জ্বালানি ব্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ভোক্তাদের জন্য কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে, তা নিয়ে ইউরোপের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারগুলোর সিদ্ধান্ত আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের এক জরিপে দেখা গেছে, মে মাসে ইউরোজোনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম গত আড়াই বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত হারে সংকুচিত হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সেবাখাতে চাহিদা কমেছে এবং উৎপাদন ব্যয়ের মূল্যস্ফীতি সাড়ে তিন বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ইউরোপীয় কমিশন ইউরোজোন অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে। কমিশন বলেছে, জ্বালানির দাম যদি চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত বাড়তেই থাকে, তাহলে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। ইউরোজোনের বাইরে ব্রিটেনেও ব্যবসায়িক কার্যক্রম এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কমেছে। ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাও এর জন্য দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের ফ্ল্যাশ ইউরোজোন কম্পোজিট পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স (পিএমআই) মে মাসে ৪৮.৮ থেকে কমে ৪৭.৫-এ নেমেছে, যা অক্টোবর ২০২৩-এর পর সর্বনিম্ন। ৫০-এর নিচের পিএমআই অর্থনৈতিক কার্যক্রমে সংকোচন নির্দেশ করে। জেপি মরগানের বিশ্লেষকেরা বলেছেন, এটি ২০২৩ সালের শেষ দিকের পর সবচেয়ে দুর্বল অবস্থান এবং এতে বোঝা যাচ্ছে মে মাসে অর্থনীতি কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতি জার্মানিতে মে মাসে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বেসরকারি খাতের কার্যক্রম কমেছে। ফ্রান্সে প্রধান পিএমআই সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাকে উৎপাদন কমার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। জার্মানির কেন্দ্রীয় ব্যাংক বুন্ডেসব্যাংক জানিয়েছে, দেশটিতে মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রায় স্থির থাকতে পারে। ইউরোজোনজুড়ে নতুন অর্ডারও দ্রুত কমেছে। বেসরকারি খাতে নতুন রপ্তানি আদেশ জানুয়ারি ২০২৫-এর পর সবচেয়ে বেশি হারে কমেছে। সেবাখাতে নতুন ব্যবসা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং উৎপাদন খাতেও চাহিদা আবার কমতে শুরু করেছে। ইউরোজোন অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত সেবাখাতের কার্যক্রম ফেব্রুয়ারি ২০২১-এর পর সবচেয়ে দ্রুত হারে সংকুচিত হয়েছে। মে মাসে এ খাতের সূচক ৪৭.৬ থেকে কমে ৪৬.৪-এ দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে উৎপাদন ব্যয়ও দ্রুত বেড়েছে। ইনপুট মূল্যস্ফীতি সাড়ে তিন বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া মূল্যও ৩৮ মাসের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বেড়েছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল সতর্ক করেছে, আগামী মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি ৪ শতাংশের কাছাকাছি থাকতে পারে। শ্রমবাজার পরিস্থিতিও অবনতি হয়েছে। ইউরোজোনের কোম্পানিগুলো টানা পঞ্চম মাস কর্মী ছাঁটাই করেছে। চাকরি কমানোর হার নভেম্বর ২০২০-এর পর সর্বোচ্চ এবং মহামারি বাদ দিলে আগস্ট ২০১৩-এর পর সবচেয়ে বেশি। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ইসিবি) গত মাসে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখলেও জুনে আবার সুদ বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অর্থনৈতিক দুর্বলতা বিবেচনায় এরপর তারা বিরতি দেবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের অ্যান্ড্রু কেনিংহ্যাম বলেন, জুনে ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদ বাড়ানোর পরিকল্পনা থেকে ইসিবিকে সরিয়ে দেওয়ার মতো কিছু এখানে নেই। একই সঙ্গে মন্দার ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ কমেনি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে ইউরোজোনে মূল্যস্ফীতি ছিল ৩ শতাংশ, যা ইসিবির ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। ইউরোপীয় কমিশন এখন পূর্বাভাস দিয়েছে, ইউরোজোনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২০২৬ সালে ০.৯ শতাংশে নেমে আসবে, যেখানে ২০২৫ সালে তা ১.৩ শতাংশ ছিল। ২০২৭ সালে প্রবৃদ্ধি ১.২ শতাংশ হতে পারে বলেও জানিয়েছে তারা। নভেম্বরের পূর্বাভাসে এই হার যথাক্রমে ১.২ ও ১.৪ শতাংশ ধরা হয়েছিল। সূত্র: রয়টার্স এমএসএম

Go to News Site