Somoy TV
ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ারের সংখ্যা এক কোটি ছাড়িয়ে যেতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় তোলা ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) এক্স হ্যান্ডেল ব্লক করে দেয়া হয়েছে। ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলনের অনুসারীরা সংখ্যায় বিজেপির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলকে ছাড়িয়ে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই এই পদক্ষেপ নিলো এক্স।বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল পর্যন্ত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ইনস্টাগ্রাম অনুসরণকারীর সংখ্যা ১ কোটি ১১ লাখ। সেখানে বিজেপির অনুসরণকারী প্রায় ৮৭ লাখ। কংগ্রেসের সংখ্যা ১ কোটি ৩২ লাখের মতো। নিজের ব্যক্তিগত এক্স হ্যান্ডেলে অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। একটি স্ক্রিনশট শেয়ার করে তিনি লেখেন, যা হওয়ার ছিল, সেটাই হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির এক্স অ্যাকাউন্ট ভারতে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। স্ক্রিনশটে দেখা যায়, আইনি দাবির প্রেক্ষিতে ভারতে অ্যাকাউন্টটি স্থগিত করেছে এক্স কর্তৃপক্ষ। এক্সে নিষিদ্ধ হলেও সিজেপির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট এখনও সচল রয়েছে। ভারতের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তেলাপোকা জনতা পার্টি। তরুণদের নিয়ে রাতারাতি গড়ে উঠে অনলাইন ভিত্তিক এই ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক গোষ্ঠী। ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপির আদলে নাম দেয়া হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। যার নেতৃত্বে রয়েছেন অভিজিত নামের এক তরুণ। যেখানে প্রতিদিন যুক্ত হচ্ছেন হাজারো ভারতীয়। আরও পড়ুন: ‘নির্দিষ্ট কোম্পানিকে সুবিধা’, সমালোচনার মুখে টেন্ডার বাতিল করলেন বিজয় এই বিতর্কের শুরু ভারতের বিচারপতির করা এক মন্তব্য ঘিরে। সুপ্রিম কোর্টের এক শুনানিতে বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, কিছু পরজীবী বিদ্যমান ব্যবস্থাকে আক্রমণ করছে। এ সময় তিনি বেকার তরুণদেরকে তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করে বলেন, তেলাপোকার মতো এমন কিছু তরুণ আছে, যারা কোনো চাকরি পায় না, তাদের কেউ কেউ গণমাধ্যমকর্মী সাজে, কেউ সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী হয়, আবার কেউ তথ্য অধিকার কর্মী বা অন্য কোনো অ্যাক্টিভিস্ট হয়ে সবাইকে আক্রমণ করে। তার এই বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়। বিশেষ করে জেনারেশন জেড বা জেনজিদের মধ্যে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি। নরেন্দ্র মোদির ১২ বছরের শাসনামলে এই তরুণরা সবচেয়ে বেশি বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি ও ধর্মীয় মেরুকরণের ভুক্তভোগী হচ্ছে। বাড়তে থাকা এই ক্ষোভের মাঝেই অভিজিত দিপকে তার এক্স' অ্যাকাউন্টে লেখেন সব তেলাপোকা যদি একজোট হয়ে যায়, তাহলে কেমন হবে? তার এই ব্যঙ্গাত্মক পোস্টের পেছনে লুকিয়ে থাকা চরম হতাশা আর ক্ষোভকে আরো এক ধাপ এগিয়ে দেয়। মোদির দল ‘ভারতীয় জনতা পার্টি’ বা বিজেপির নামের সঙ্গে মিলিয়ে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে একটি ওয়েবসাইট এবং ইনস্টাগ্রাম ও এক্সে অ্যাকাউন্ট খোলেন। এরপর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে চর্চিত ককরোচ জনতা পার্টি। অভিজিত যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে পাবলিক রিলেশনসে স্নাতক করেছেন। বর্তমানে শিকাগোতে আছেন। আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা সাধারণ নাগরিকদের তেলাপোকা আর পরজীবী মনে করেন। তাদের জানা উচিত, নোংরা ও পচা জায়গাতেই তেলাপোকার বংশবৃদ্ধি হয়। বর্তমানে ভারতের অবস্থাও ঠিক তেমন।
Go to News Site