Collector
স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোসহ কম খরচে সেবা নিশ্চিতের আহ্বান | Collector
স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোসহ কম খরচে সেবা নিশ্চিতের আহ্বান
Jagonews24

স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোসহ কম খরচে সেবা নিশ্চিতের আহ্বান

দেশের স্বাস্থ্য খাতের বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি তা সাধারণ মানুষের জন্য সহজে ও কম খরচে সেবা প্রাপ্তির উপযোগী করা প্রয়োজন। আমাদের দেশে জনগণের ব্যক্তিগত চিকিৎসাব্যয় প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। পরিস্থিতি উত্তরণে চিকিৎসাকেন্দ্রিক ব্যবস্থার চেয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও রোগ প্রতিরোধমূলক খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। একই সাথে বহুখাতভিত্তিক সমন্বয়ের মাধ্যমে ‘ওয়ান হেলথ’ (সমন্বিত স্বাস্থ্য কাঠামো) গড়ে তোলা দরকার। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সন্ধ্যায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত ‘বৈশ্বিক অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশের বাজেট: কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও সংস্কারে অগ্রাধিকার এবং জনপ্রত্যাশার বৈষম্যহীন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানের তৃতীয় সেশনে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘স্বাস্থ্য, প্রতিরক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা’ শিরোনামে সেশনটি আয়োজিত হয়। নাভিদ নওরোজের সঞ্চালনায় এই সেশনে সভাপতিত্ব করেন আরিফুল ইসলাম আদীব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও গবেষক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ, ঢাবির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক, এনসিপি-এর যুগ্ম আহ্বায়ক সারওয়ার তুষার, ইন্টারন্যাশনাল সায়েন্স রিসার্চ ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ডা. জাহিদুল বারী এবং জাতীয় প্রতিবন্ধী নাগরিক শক্তির নির্বাহী সদস্য আমজাদ হোসেন এতে বক্তব্য রাখেন। ব্যক্তিগত চিকিৎসাব্যয় ভারতের চেয়েও বেশি ড. রুমানা হক বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের টেকসই উন্নয়ন ও জনগণের চিকিৎসাসেবার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি বরাদ্দের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশে জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ এবং জাতীয় বাজেটের প্রায় ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, যা সার্বিক চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। এত অল্প বিনিয়োগে স্বাস্থ্য খাতে উন্নতি সম্ভব নয়। ইউনিভার্সাল হেলথ কাভারেজ (সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা) অর্জন করতে চাইলে আমাদেরকে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের দেশে জনগণের ব্যক্তিগত চিকিৎসাব্যয় বা আউট অব পকেট এক্সপেন্ডিচার অনেক বেশি। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে এ ব্যয়ের হার প্রায় ৭৯ শতাংশ, যা প্রতিবেশী ভারত (৪৪%) ও থাইল্যান্ডের (১০%) তুলনায় অনেক বেশি। তিনি আরও বলেন, বিগত বছরগুলোতে সংশোধিত বাজেটে স্বাস্থ্যের উন্নয়ন বাজেট প্রায় ৬১ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনার প্রবণতা দেখা গেছে। এছাড়া প্রশাসনিক অদক্ষতা ও অডিট আপত্তির আশঙ্কায় প্রতি বছর স্বাস্থ্য বাজেটের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ অব্যবহৃত থেকে যায়। ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী কেবল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনেই প্রায় ৪৮ হাজার পদ শূন্য ছিল। এই পরিস্থিতি উত্তরণে চিকিৎসাকেন্দ্রিক ব্যবস্থার চেয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও রোগ প্রতিরোধমূলক খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং পাবলিক ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্টের (সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা) দক্ষতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। বাজেটে পরিচালন ব্যয়ই বেশি সারওয়ার তুষার বলেন, আমাদের এবারের বাজেট রেকর্ড ৯ লক্ষ ৩০ হাজার কোটি টাকার হচ্ছে। তার মধ্যে দ্বিগুণেরও বেশি হচ্ছে পরিচালন ব্যয়। যার সোজা অর্থ হচ্ছে—আমলাদের চা-নাস্তা, গাড়ি, তাদের আরাম-আয়েশের জন্য খরচ বাড়ছে এবং এটি আল্টিমেটলি দিতে হবে বাংলাদেশের জনগণকে। তিনি বলেন, বাজেট নিয়ে মানুষের মধ্যে কোনো আগ্রহ নেই। ব্যাংকিং খাতে পুরোনো লুটেরাদের ফিরিয়ে নিয়ে আসা এবং এনবিআর সংস্কার না করার কারণে আপনারা লোন (ঋণ) পাননি। ফ্যামিলি কার্ড স্বাস্থ্য সেবায় বড় সমাধান হতে পারে অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, বর্তমানে এই খাতে একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক সদিচ্ছা তৈরি হয়েছে। সরকারপ্রধান জিডিপির ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে ব্যয়ের সদিচ্ছা প্রকাশ করেছেন, যা ইতিবাচক। তবে এই সুযোগকে কার্যকর করতে বাস্তবসম্মত কৌশল প্রয়োজন। তিনি বলেন, সরকারের চালু করা \'ফ্যামিলি কার্ড\'স্বাস্থ্য সেবায় একটি বড় সমাধান নিয়ে আসতে পারে। কার্ডের সাথে বছরে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার একটি হেলথ বেনিফিট বা সিলিং (সর্বোচ্চ সীমা) নির্ধারণ করে দিলে সাধারণ মানুষ হসপিটালাইজড কেয়ার বা সেকেন্ডারি সেবার জন্য ক্ষমতায়িত হবে। বর্তমানে প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ ইনফরমাল প্রোভাইডার (অনানুষ্ঠানিক খাত) থেকে সেবা নেয়, যেখানে সরকারি হাসপাতালের অবদান মাত্র ১২ থেকে ১৪ শতাংশ। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরকারি ব্যবস্থাপনাকে কার্যকর করা সম্ভব হলে এই পরিস্থিতির উন্নতি হবে। এছাড়া তামাকের ওপর অতিরিক্ত কর বা মোবাইল ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে ইনোভেটিভ সোর্স (উদ্ভাবনী উৎস) থেকে তহবিল গঠন করে জটিল রোগের চিকিৎসায় সহায়তা দেওয়া যেতে পারে। জিডিপির ৫% আর মোট বাজেটের ৫% এক কথা নয় সভাপতির বক্তব্যে আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, আমাদের বাজেট প্রণয়নের সময় পলিসিগত সংকট হয়, কারণ সরকারের কাছে যথাযথ তথ্য থাকে না। বাজেট প্রণয়নের সময় স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দের ক্ষেত্রে মোট বাজেটের ৫ শতাংশ বলা হয়। কিন্তু মোট বাজেটের ৫ শতাংশ এবং জিডিপির ৫ শতাংশ এক কথা নয়। এবার স্বাস্থ্য খাতে বড় বরাদ্দ থাকবে, এমনটাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। এনএস/এসএইচএস

Go to News Site