Somoy TV
কল্পনা করুন, ঘুটঘুটে অন্ধকার রাত। আপনি খোলা আকাশের দিকে তাকিয়ে। হঠাৎ বিশাল এক রহস্যময় যান চোখের পলকে মেঘ ফুঁড়ে বেরিয়ে এল। কোনো শব্দ নেই, চেনা কোনো অবয়বও নেই। আপনি কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেটি মহাশূন্যে বিলিন হয়ে গেল। না এটি কোনো ড্রোন, না কোনো বিমান। তাহলে এটা ঠিক কী ছিল?দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এমন অসংখ্য অমীমাংসিত ঘটনা গোপন করেছিল মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদফতরর পেন্টাগন। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের এক নির্দেশে হঠাৎই পর্দাফাঁস। পেন্টাগনের সদ্য প্রকাশিত ইউএফও সংক্রান্ত ১৬১টি গোপন নথি বলছে, আকাশে এবং মহাকাশে এমন কিছু রহস্যময় বস্তু দেখা গেছে যা পুরো পৃথিবীর বিজ্ঞানকে চ্যালেঞ্জ করে। এমনকি খোদ সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও স্বীকার করেছিলেন, আকাশে এমন কিছু বস্তুর গতিবিধি আছে যার ব্যাখ্যা মানুষের বিজ্ঞানের জানা নেই। কিন্ত প্রশ্ন হলো- হঠাৎ কেন ট্রাম্প এই মহাজাগতিক সত্যের পর্দাফাঁস করলেন? সত্যিই কি তবে এলিয়েনরা চলে এসেছে? নাকি ভয়ংকর কোনো সত্যকে আড়াল করতেই এলিয়েন নামক এই রোমাঞ্চকর টোপ। ইউএফও কী? ইউএফও বা ‘আনআইডেন্টিফাইড ফ্লাইং অবজেক্ট’ মানে হলো আকাশে বা মহাকাশে ভেসে বেড়ানো এমন কোনো আলো বা বস্তু, যার কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই। মার্কিন সামরিক ভাষায় এটিকে ‘ইউএপি’ বা ‘আনআইডেন্টিফাইড অ্যানোম্যালাস ফেনোমেনা’ বলা হয়। পেন্টাগনের কাছে আকাশে উড়ন্ত বস্তুর এমন কিছু তথ্য, ছবি বা ভিডিও আছে, যা দেখে তারা নিশ্চিত নয় বস্তুগুলো আসলে কী। এগুলো কি উন্নত কোনো প্রযুক্তি, নাকি প্রাকৃতিক কোনো বিভ্রম? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই দশকের পর দশক গবেষণা চলছে। কী আছে পেন্টাগনের ইউএফও নথিতে? পেন্টাগনের প্রকাশিত নথিতে এমন কিছু ঘটনা আছে, যা শুনলে আপনার গায়ের লোম খাড়া হয়ে যাবে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন অ্যাপোলো চন্দ্রাভিযানের নভোচারীরা। ১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো ১১ মিশনের নভোচারী বাজ অলড্রিন চাঁদে যাওয়ার পথে একটি অত্যন্ত উজ্জ্বল আলো দেখতে পান। যা অনেকটা লেজারের মতো মনে হয়েছিল। একইভাবে অ্যাপোলো ১২ এবং অ্যাপোলো ১৭’র নভোচারীরাও মহাকাশে আলোর ঝলকানি এবং অজ্ঞাত কণা উড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। অ্যাপোলো ১২’র নভোচারী অ্যালান বিন জানিয়েছেন, তিনি কিছু রহস্যময় বস্তুকে চাঁদ থেকে বেরোতে দেখেন। যেগুলো তীব্র গতিতে মহাকাশে মিলিয়ে যায়। আরও পড়ুন: ট্রাম্প: রাজনীতিবিদ নাকি জুয়াড়ি? এছাড়া ১৯৬৫ সালের জেমিনি ৭ মিশনের অডিও রেকর্ডিংয়েও নভোচারীদের একটি রহস্যময় বস্তু নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়।শুধু মহাকাশেই নয়, পৃথিবীর আকাশেও ধরা পড়েছে অদ্ভুত সব দৃশ্য। ২০২২ সালে ইরাক, সিরিয়া এবং আমিরাতে মার্কিন বাহিনীর ক্যামেরায় ধরা পড়ে ডিম্বাকৃতির রহস্যময় বস্তু। এরপর ২০২৩ সালে কয়েকজন সাধারণ নাগরিক দাবি করেন, তারা আকাশে উজ্জ্বল আলো থেকে হঠাৎ ধাতব বস্তু বেরিয়ে আসতে দেখেছেন। এমনকি ১৯৫৭ সালের এফবিআই ফাইলে এক ব্যক্তির জবানবন্দিতে রয়েছে, তিনি একটি বিশাল গোলাকার যান উড়ে যেতে দেখেছেন। সত্যিই কি এলিয়েনের অস্তিত্ব আছে? তবে সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নটি সামনে আসছে তা হলো— সত্যিই কি এলিয়েন আছে? পেন্টাগনের নথিতে কিন্তু এর কোনো সরাসরি উত্তর নেই। পেন্টাগন একটি সতর্কতা জারি করে বলেছে, এসব নথিতে থাকা বর্ণনাগুলো মূলত প্রত্যক্ষদর্শীদের ব্যক্তিগত ধারণা। এখন পর্যন্ত ভিনগ্রহের প্রাণি বা এলিয়েনের অস্তিত্বের অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গত ফেব্রুয়ারিতে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, মহাকাশে এমন কিছু বস্তু আছে যেগুলোর গতিবিধি ব্যাখ্যা করা অসম্ভব। কিন্তু এলিয়েন দেখার কোনো প্রমাণ তিনি পাননি। ইউএফও ফাইল নিয়ে গোপনীয়তা কেন? যুক্তরাষ্ট্র মূলত চার কারণে যুগের পর যুগ এসব ইউএফও নথিগুলো গোপন রাখতো। এগুলো হলো-১. সামাজিক বিশৃঙ্খলা এড়ানো২. জাতীয় নিরাপত্তা৩. সামরিক প্রযুক্তির উন্নয়ন৪. তথ্য ও প্রমাণের অভাব আরও পড়ুন: আমেরিকার দুর্বল মুহূর্তে চীনের বড় চাল যুক্তরাষ্ট্র মনে করে ভিনগ্রহী যান বা এলিয়েনের উপস্থিতি সম্পর্কিত খবর প্রকাশ্যে এলে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া অনেক সময় অজ্ঞাত আকাশযানগুলোকে রাশিয়াসহ অন্যান্য দেশের ড্রোন, গুপ্তচর বিমান হিসেবে সন্দেহ করা হতো। যুক্তরাষ্ট্র কেন ইউএফও নথি প্রকাশ করলো? দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকা এসব রহস্যময় ঘটনা নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটে ছিল। ২০২২ সালে মার্কিন কংগ্রেসে ইউএফও নিয়ে একটি শুনানি হয়। এরপর থেকে এ বিষয়ে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দেয়। ফলে এসব নথি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করতে চাপ বাড়ছিল। চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এসব নথি প্রকাশের ঘোষণা দেন।ট্রাম্প বলেন, ইউএফও নিয়ে মানুষের বিপুল আগ্রহের কারণেই এসব নথি প্রকাশ করা হবে। এপস্টেইন ফাইল ধামাচাপা দেয়ার কৌশল? ইউএফও নথি প্রকাশের পর শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য টিম বার্চেট একে ‘চমৎকার শুরু’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এমনকি নাসার প্রধান জ্যারেড আইজ্যাকম্যানও এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তবে সবাই কিন্তু বিষয়টিকে সহজভাবে নিচ্ছেন না। সাবেক কংগ্রেস সদস্য মার্জোরি টেলর গ্রিন মনে করেন, এটি আসলে একটি ‘প্রোপাগান্ডা’। তার মতে, অর্থনৈতিক সংকট এবং ইরান ইস্যু থেকে মানুষের মনোযোগ সরাতেই ইউএফও নথিগুলো সামনে আনা হয়েছে।অন্যদিকে প্রখ্যাত জ্যোতির্পদার্থবিদ নীল ডিগ্র্যাস টাইসন ইঙ্গিত দিয়েছেন, হয়তো এপস্টেইন বা ওই জাতীয় গোপন নথিকে ধামাচাপা দিতেই ইউএফও-র মতো রোমাঞ্চকর বিষয়কে সামনে আনা হয়েছে।এদিকে পেন্টাগন জানিয়েছে, কয়েক সপ্তাহ পরপরই তারা ইউএফও সংক্রান্ত আরও গোপন নথি প্রকাশ করবে। এই নথিগুলো হয়তো কোনো এলিয়েনকে আমাদের সামনে এনে দেয়নি, কিন্তু মানুষের মনে এমন কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে যা সহজে মিটবে না।
Go to News Site