Jagonews24
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক (ডিএনআই) তুলসি গ্যাবার্ড। স্বামী আব্রাহাম উইলিয়ামসের বিরল ধরনের বোন (হাড়) ক্যানসারের চিকিৎসা ও পাশে থাকার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ ডিজিটালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (২২ মে) ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের সময় গ্যাবার্ড তাকে ব্যক্তিগতভাবে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান। শনিবার (৩০ জুন) তার দায়িত্বের শেষ দিন হওয়ার কথা রয়েছে। পদত্যাগপত্রে যা লিখেছেন তুলসি গ্যাবার্ড ফক্স নিউজ ডিজিটাল গ্যাবার্ডের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্রের কপি প্রকাশ করেছে। সেখানে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে লিখেছেন, গত দেড় বছর ধরে জাতীয় গোয়েন্দা দপ্তরের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ ও আমার ওপর আস্থা রাখার জন্য আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। তিনি আরও লেখেন, দুঃখজনকভাবে আমাকে ৩০ জুন ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে— এমন একটি পদত্যাগপত্র জমা দিতে হচ্ছে। আমার স্বামী আব্রাহামের সম্প্রতি অত্যন্ত বিরল ধরনের বোন ক্যানসার ধরা পড়েছে। আব্রাহাম আগামী কয়েক মাসে বড় ধরনের শারীরিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবেন। ‘এই মুহূর্তে আমাকে জনসেবা থেকে সরে দাঁড়াতে হবে, যাতে আমি আমার স্বামীর পাশে থাকতে পারি ও এই লড়াইয়ে তাকে পূর্ণ সমর্থন দিতে পারি। তিনি সবসময় আমার শক্তির জায়গা ছিলেন।’ পদত্যাগপত্রে আবেগঘন ভাষায় স্বামীর প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তুলসি গ্যাবার্ড। তিনি বলেন, আমাদের ১১ বছরের দাম্পত্য জীবনে আব্রাহাম সবসময় আমার শক্তির জায়গা ছিলেন। পূর্ব আফ্রিকায় যৌথ বিশেষ সামরিক অভিযানে আমার মোতায়েন, একাধিক রাজনৈতিক প্রচারণা ও এখন এই দায়িত্ব- প্রতিটি সময় তিনি অটলভাবে পাশে ছিলেন। তিনি আরও লেখেন, তার ভালোবাসা ও মানসিক শক্তি আমাকে প্রতিটি কঠিন সময় পার হতে সাহায্য করেছে। এত কঠিন লড়াইয়ে তাকে একা রেখে আমি এই অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও চাপপূর্ণ দায়িত্ব চালিয়ে যেতে পারি না। ট্রাম্প প্রশাসনে গ্যাবার্ডের ভূমিকা তুলসি গ্যাবার্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মার্কিন গোয়েন্দা কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেন। তিনি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আকার ছোট করা, বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তি (ডিইআই) কর্মসূচি বাতিল ও প্রশাসনিক ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেন। তার পদক্ষেপে বছরে ৭০ কোটি ডলারের বেশি সাশ্রয় হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া চলতি মাসে তিনি পাঁচ লাখের বেশি সরকারি নথি গোপনীয়তার তালিকা থেকে প্রকাশ করেন। এর মধ্যে ট্রাম্প-রাশিয়া তদন্ত, সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি (জেএফকে) ও রবার্ট এফ কেনেডি (আরএফকে) হত্যাকাণ্ডসংক্রান্ত নথিও ছিল। ‘ক্রসফায়ার হারিকেন’ তদন্ত নিয়েও পদক্ষেপ গ্যাবার্ড ট্রাম্প-রাশিয়া তদন্তের সূচনা নিয়ে হওয়া ‘ক্রসফায়ার হারিকেন’ অনুসন্ধান সম্পর্কিত নথিও প্রকাশ করেন। তার দাবি, এসব নথিতে দেখা গেছে যে, বারাক ওবামা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপসংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছিলেন ও তা ট্রাম্পের প্রথম প্রেসিডেন্সিকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে কাজে লাগানো হয়েছিল। বাইডেন প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘ওয়েপনাইজেশন ওয়ার্কিং গ্রুপ’ ডিএনআই হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তুলসি গ্যাবার্ড প্রথমবারের মতো ‘ওয়েপনাইজেশন ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠন করেন। এর লক্ষ্য ছিল ফেডারেল সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করে বাইডেন প্রশাসনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা। সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমেও সাফল্যের দাবি প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গ্যাবার্ডের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টার ২০২৫ সালে মাদক-সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১০ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। পাশাপাশি এমন সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আরও ৮৫ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে সন্ত্রাস পর্যবেক্ষণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সূত্র: ফক্স নিউজ এসএএইচ/কেএইচকে
Go to News Site