Collector
বিয়ে ও চাকরির প্রলোভনে তরুণীকে পতিতাপল্লীতে বিক্রির চেষ্টা, গ্রেফতার ৩ | Collector
বিয়ে ও চাকরির প্রলোভনে তরুণীকে পতিতাপল্লীতে বিক্রির চেষ্টা, গ্রেফতার ৩
Somoy TV

বিয়ে ও চাকরির প্রলোভনে তরুণীকে পতিতাপল্লীতে বিক্রির চেষ্টা, গ্রেফতার ৩

বিয়ে ও ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে (১৯) ফরিদপুর শহরের রথখোলা পতিতাপল্লীতে এনে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক নারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে গ্রেফতারদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।এর আগে শুক্রবার সকালে ভুক্তভোগী ওই তরুণী বাদী হয়ে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।গ্রেফতাররা হলেন- মনির শেখ (৩০), আলম ফকির (২০) ও মুন্নি (২০)। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ নারী পাচারকারী চক্রের সদস্য।পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী তরুণীর বাড়ি বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার কাসাহাট এলাকায়। তিনি ঢাকার ধামরাই এলাকায় মায়ের সঙ্গে বসবাস করে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। ধামরাইয়ে থাকাকালীন একই এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করা মনির, আলম ও মুন্নির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে মনির শেখ ওই তরুণীকে বিয়ে এবং ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন।গত ১৪ মে মনির শেখ ওই তরুণীকে ফুসলিয়ে ফরিদপুর শহরের শিবরামপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে আসেন। পরে সেখানে আলম ফকির ও মুন্নিও এসে যোগ দেন। সেখানে কয়েক দিন আটকে রাখার পর গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই তরুণীকে শহরের রথখোলা পতিতাপল্লীতে নিয়ে যাওয়া হয়।পতিতাপল্লীতে পৌঁছানোর পর তরুণীটি বুঝতে পারেন তাকে বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি সেখানে ঢুকতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা তাকে জোরপূর্বক ভেতরে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ওই তরুণী চিৎকার করে দৌড়ে পালিয়ে গিয়ে পতিতাপল্লীর সামনে একটি দোকানে আশ্রয় নেন। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে অভিযুক্ত তিনজনকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়।আরও পড়ুন: রামিসার হত্যাকারী রানার বিষয়ে যা জানালেন ঢাকার ডিবিপ্রধানকোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, 'স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগী তরুণীকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সরল ও অসহায় তরুণীদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে পতিতালয়ে বিক্রি করে আসছিল।'কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, 'এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী নিজে বাদী হয়ে মামলা করেছেন (মামলা নম্বর-৭৮)। গ্রেফতারকৃত দুই পুরুষ ও এক নারীকে শুক্রবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে এই চক্রের সঙ্গে আরও দুজনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। পলাতক ওই আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।'

Go to News Site