Somoy TV
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ময়দানে মাইন বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার আরও এক যুবক। গত ১৮ মে ইউক্রেন সীমান্তে যুদ্ধের ময়দানে মাইন বিস্ফোরণে মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (২৫) নামের ওই যুবক নিহত হন। শুক্রবার (২২ মে) তার মৃত্যুর খবর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে পরিবার ও এলাকায় শোকের মাতম শুরু হয়।নিহত জাহাঙ্গীর হোসেন করিমগঞ্জ উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের কান্দাইল বাগপাড়া গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি আড়াই বছর বয়সী এক সন্তানের জনক। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে জাহাঙ্গীর ছিলেন সবার বড়। এর আগে গত ২ মে এই করিমগঞ্জ উপজেলারই মাঝিরকোনা গ্রামের রিয়াদ রশিদ নামের আরেক যুবক রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন।পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে জমি বন্ধক রেখে এবং ধারদেনা করে ৮ লাখ টাকা জোগাড় করেন জাহাঙ্গীরের মা। গত ৪ ফেব্রুয়ারি বৈধভাবেই রাশিয়ায় পাড়ি জমান জাহাঙ্গীর। সেখানে পৌঁছানোর পর একটি ফার্মে মাসখানেক কাজও করেন তিনি। পরে ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে একটি দালাল চক্র তাকে এক মাসের ট্রেনিংয়ে পাঠায়। মূলত দালালের খপ্পরে পড়েই দুই সপ্তাহ আগে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য হন জাহাঙ্গীর।স্বজনরা জানান, গত ১৮ মে রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্তের ইউক্রেন অংশে মাইন বিস্ফোরণে জাহাঙ্গীর হোসেনসহ মোট তিন বাংলাদেশি প্রাণ হারান। গতকাল শুক্রবার এই দুসংবাদটি বাড়িতে পৌঁছায়। ছেলের ছবি বুকে জড়িয়ে মা জাকিয়া বেগমের বুকফাটা আর্তনাদ আর স্বামীর মৃত্যুর খবরে স্ত্রী মাসুকা হোসেনের বাকরুদ্ধ চাহনিতে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো গ্রাম।আরও পড়ুন: ইউক্রেনের মাইন বিস্ফোরণে মাদারীপুরের যুবক নিহতনিহত জাহাঙ্গীর হোসেনের মা বলেন, 'আমার ছেলে হোটেলে কাজ করার কথা বলে বৈধভাবে রাশিয়া গিয়েছিল। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর ও দালালের খপ্পরে পড়ে। কৌশলে ওকে জিম্মি করে জোরপূর্বক যুদ্ধের ময়দানে পাঠায় তারা। আমরা এখন সরকারের কাছে দাবি জানাই, আমার ছেলের মরদেহ যেন দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়।'জয়কা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, 'খবর পেয়েই আমি শুক্রবার সন্ধ্যায় নিহতের বাড়িতে যাই। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানো হয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ আদায় এবং মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।'
Go to News Site