Somoy TV
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় পর্যায়ে উদ্যাপিত হতে যাচ্ছে কবির ১২৭তম জন্মবার্ষিকী। তিন দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করতে আজ শনিবার (২৩ মে) ত্রিশালে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ আয়োজনকে ঘিরে পুরো জনপদে এখন বইছে উৎসবের আমেজ। স্থানীয় প্রশাসন, সাংস্কৃতিক সংগঠন, রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।আগামী সোমবার (২৫ মে) জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী হলেও ঈদুল আজহার ছুটিকে সামনে রেখে এবার অনুষ্ঠানসূচিতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে শনিবার থেকেই শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে নজরুলজয়ন্তী উৎসবের উদ্বোধন করবেন এবং সরকারি নজরুল একাডেমি মাঠের ঐতিহ্যবাহী নজরুল মঞ্চে বক্তব্য দেবেন। প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে প্রস্তুত করা হয়েছে ত্রিশালের নজরুল মঞ্চ। জন্মজয়ন্তী উদ্যাপন উপলক্ষে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে সাজানো হয়েছে পুরো মঞ্চ ও আশপাশের এলাকা। আলোকসজ্জা, নান্দনিক সাজসজ্জা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এরই মধ্যে নতুন রূপ পেয়েছে অনুষ্ঠানস্থল। জাতীয় পর্যায়ে এ আয়োজন বাস্তবায়নের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন। তিনি জাতীয় সংসদে একাধিকবার জোরালোভাবে দাবি তোলেন, যেন কবি নজরুলের স্মৃতিধন্য ত্রিশালেই জাতীয়ভাবে জয়ন্তী উদযাপন করা হয়। তার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলেই এবার সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রিশালে জাতীয় আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়। সরকারি নজরুল একাডেমি মাঠ, দরিরামপুর, কাজীর শিমলা, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চলছে সাজসজ্জার কাজ। রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন, আলোকসজ্জা ও তোরণে সেজে উঠেছে পুরো উপজেলা। আরও পড়ুন: তারেক রহমান ঢাবির আইন বিভাগে কোন ব্যাচে ভর্তি হয়েছিলেন জানালেন আসিফ নজরুল প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এরই মধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজরদারি বাড়িয়েছেন। সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও বইছে প্রাণচাঞ্চল্য। স্থানীয় শিল্পী, কবি, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো কবিতা আবৃত্তি, নজরুলসংগীত, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও অংশ নিচ্ছে এ কার্যক্রমে। ত্রিশাল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জাহিদ আমিন বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর জাতীয় পর্যায়ে এমন আয়োজন ত্রিশালের জন্য গৌরবের বিষয়। প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে পুরো এলাকায় এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। এ আয়োজনের মাধ্যমে ত্রিশালের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব আরও বেশি করে জাতীয়ভাবে পরিচিতি পাবে বলে আশা করছি।’ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব নজরুল স্টাডিজের অতিরিক্ত পরিচালক রাশেদুল আলম বলেন, ‘ত্রিশাল উপজেলাকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিধন্য জনপদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কবির কৈশোর ও যৌবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় এই ত্রিশালেই অতিবাহিত হয়েছে। ফলে নজরুলের সাহিত্য, সংগীত ও জীবনস্মৃতির সঙ্গে ত্রিশালের রয়েছে গভীর আত্মিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক।’ তিনি আরও বলেন, ‘কবি নজরুল তার জীবনের দীর্ঘতম সময়ের একটি টানা প্রায় দেড় বছর ত্রিশালেই অবস্থান করেছিলেন। অন্য যেসব স্থানে তিনি গেছেন, সেগুলোতে তুলনামূলকভাবে স্বল্প সময় অবস্থান করেছেন। তাই নজরুলচর্চা ও তার স্মৃতি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ত্রিশালের গুরুত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।’ বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে পুরো ত্রিশাল এখন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। শুধু ত্রিশাল নয়, গোটা ময়মনসিংহ জেলার নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রধানমন্ত্রী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাই ময়মনসিংহবাসীরও তার কাছে এই অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও যোগাযোগ খাতের উন্নয়নে প্রত্যাশা রয়েছে।’ সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ত্রিশাল সফরকে কেন্দ্র করে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার ত্রিশালে পদার্পণ করবেন। সফরের শুরুতেই তিনি বৈলর ইউনিয়নের ধরার খাল পুনর্খনন কাজের শুভ উদ্বোধন করবেন। এরপর ত্রিশাল নজরুল ডাকবাংলোতে সংক্ষিপ্ত বিরতি শেষে জাতীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।’ আরও পড়ুন: রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী: ভারত-বাংলাদেশের অভিন্ন সাংস্কৃতিক বন্ধনের প্রতীক তিনি জানান, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ময়মনসিংহ বিভাগের তিনটি ইউনিটের বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায়ও অংশ নেবেন। এদিকে কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উদ্বোধনের পাশাপাশি কানহর এলাকায় ধরার খালের পুনঃখনন কাজও উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। ১৯৭৯ সালে এ খালটিরই খনন কাজের উদ্বোধন করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। প্রধামন্ত্রীর শনিবারের সফরসূচিতে বলা হয়েছে- সকাল ৯টায় সড়কপথে ময়মনসিংহের ত্রিশালের উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুপুর ১২টায় ত্রিশালের বৈলর ইউনিয়নে ধরার খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন তিনি। বিকেল ৩টায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ত্রিশাল নজরুল মঞ্চে আয়োজিত জাতীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেল ৫টায় ত্রিশাল নজরুল অডিটোরিয়ামে ময়মনসিংহ উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন তিনি। সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
Go to News Site