Collector
মাদক ও প্রতারণার প্রতিবাদ করায় বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম | Collector
মাদক ও প্রতারণার প্রতিবাদ করায় বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম
Somoy TV

মাদক ও প্রতারণার প্রতিবাদ করায় বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম

বিদেশে পাঠানোর নামে টাকা আত্মসাৎ ও মাদক ব্যবসায় বাধা দেয়ার জেরে মানিকগঞ্জে এক বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে আহত করেছে চিহ্নিত এক মাদক কারবারি ও তার সহযোগীরা। বর্তমানে ওই নেতা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।আহত ওই নেতার নাম গোলাম মোস্তফা। তিনি মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা বিএনপির অর্থবিষয়ক সম্পাদক। সোমবার (১৮ মে) মসজিদে যাওয়ার পথে তার ওপর এই হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঘিওর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার মাথায় ১৪টি সেলাই লেগেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা, তবে বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আহত গোলাম মোস্তফা অভিযোগ করেন, ‘মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীরের নির্দেশে আমরা প্রতিটি মহল্লায় মাদকবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করছি। এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী মনির ও তার বাবা আবু বকর দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা করে আসছে। সাধারণ মানুষ তাদের ভয়ে কিছু বলতে পারে না। তাই সবার পক্ষ থেকে আমি তাকে মাদক থেকে দূরে থাকতে বলি।’ তিনি আরও বলেন, ‘মাদকের পাশাপাশি বিদেশে নেয়ার কথা বলে বিভিন্ন এলাকার মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়ে তাদের নিঃস্ব করে দিচ্ছে মনিরের পরিবার। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ নিয়ে এলে স্থানীয় বিএনপি নেতা হিসেবে আমি তাদের টাকা বুঝিয়ে দেয়ার কথা বলি। গত সোমবার মসজিদে যাওয়ার সময় মনিরকে মাদক লেনদেন করতে দেখে বাধা দিলে সে আমার ওপর হামলা চালায় এবং কুপিয়ে আহত করে। এ সময় আমার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আমাকে উদ্ধার করে।’ এই ঘটনার পর আহত নেতার স্ত্রী বাদী হয়ে মঙ্গলবার (১৯ মে) থানায় মামলা দায়ের করেছেন এবং পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করেছে। আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা এদিকে এমন ঘটনায় চরম আতঙ্ক ও ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন চর-ঘিওরের বাসিন্দারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, মনিরের একটি বিশাল গ্যাং রয়েছে। তারা বারবার পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে এসে আবারও মাদক ব্যবসা ও অপকর্মে লিপ্ত হয়। এ কারণে ভয়ে কেউ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে চান না। এলাকাবাসী অবিলম্বে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘মনির ও তার বাবা আবু বকর এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তারা বারবার গ্রেফতার হয়ে জেল খেটেছেন। কিন্তু বেরিয়ে এসে নতুন করে মাদক ব্যবসা ও মানবপাচার চক্রের সাথে জড়িয়ে পড়েন।’ ওসি আরও বলেন, ‘বিএনপি নেতা মোস্তফার স্ত্রীর দায়ের করা মামলাটি আমরা নিয়েছি। তবে সেটি মাদক মামলা নয়; হত্যাচেষ্টা ও অর্থ আত্মসাতের মামলা। আইনের ফাঁকে বারবার জেল থেকে বেরিয়ে তারা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। থানায় তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। আমরাও চাই তাদের সঠিক বিচার হোক।’

Go to News Site