Collector
তেলাপোকার ঝাঁক কি এবার ব্যালট বাক্সে? ভারতে আলোচনায় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ | Collector
তেলাপোকার ঝাঁক কি এবার ব্যালট বাক্সে? ভারতে আলোচনায় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’
Somoy TV

তেলাপোকার ঝাঁক কি এবার ব্যালট বাক্সে? ভারতে আলোচনায় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’

ভারতে রাতারাতি রাজনৈতিক সুনামি বইয়ে দিয়েছে জেন-জিদের এক অভিনব উদ্ভাবন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি। ব্যঙ্গাত্মক এই অনলাইন আন্দোলন মাত্র পাঁচ দিনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনুসারীর সংখ্যায় পেছনে ফেলে দেয় বিজেপিকে। বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি আর প্রশ্ন ফাঁসে জর্জরিত ক্ষুব্ধ তরুণ সমাজ এখন তেলাপোকাকে বানিয়েছে তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতীক। এক্স অ্যাকাউন্ট বন্ধ কিংবা সরকারি চাপ কোনো কিছুই থামাতে পারছে না ককরোচ জনতা পার্টির বাড়তে থাকা জনপ্রিয়তাকে।ভারতের রাজনীতিতে এখন কাঁপন ধরাচ্ছে জেন-জিদের অভিনব উদ্ভাবন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ সিজেপি। বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে দাবি করা বিজেপির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার যেখানে ৯০ লাখের নিচে, সেখানে সিজেপির ফলোয়ার সংখ্যা দেড় কোটির ঘর ছুঁয়ে ফেলেছে। গুগল ফর্মের মাধ্যমে এরমধ্যেই ৪ লাখের বেশি তরুণ এই দলের সদস্য হওয়ার নিবন্ধন করেছেন। যাদের ৭০ শতাংশেরই বয়স ১৯ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। এই দলে যোগ দেয়ার শর্তগুলোও ভিন্নধর্মী। সিজেপি'র সদস্যপদ পেতে আপনাকে হতে হবে বেকার, অলস, ২৪ ঘণ্টা অনলাইনে অ্যাক্টিভ এবং ক্ষোভ প্রকাশে পারদর্শী। দলের সদর দফতর ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানেই ওয়াইফাই পাওয়া যাবে, সেখানেই।সিজেপির এই বিপুল জনপ্রিয়তা দেখে অখিলেশ যাদব, মহুয়া মৈত্র, কীর্তি আজাদ থেকে শুরু করে প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের মতো বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতারাও একে সমর্থন দিচ্ছেন। অখিলেশ যাদব তো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি পোস্টই করেছেন, বিজেপি বনাম সিজেপি। সিজেপি গঠিত হয় ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। গত ১৫ মে একটি মামলার শুনানিতে দেশের বেকার ও অ্যাক্টিভিস্ট তরুণদের তীব্র কটাক্ষ করে ‘তেলাপোকা’ ও ‘পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করেন তিনি। বিচারপতির এই তীর্যক মন্তব্যে অপমানিত হয়ে প্রতিবাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র বানিয়ে বোস্টন ইউনিভার্সিটির পাবলিক রিলেশনসের শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজিস্ট ৩০ বছর বয়সি অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি প্রশ্ন ছুড়ে দেন ‘যদি সব তেলাপোকা একসঙ্গে হয়, তাহলে কী হবে?’ ব্যস, এই এক ভাবনা থেকেই জন্ম নেয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। আরও পড়ুন: এবার পাকিস্তানে তেলাপোকা’র হানা, ‘ককরোচ আওয়ামী পার্টি’র আত্মপ্রকাশ! প্যারোডি বা মজার ছলে তৈরি হলেও সিজেপির ৫ দফা ইশতেহারে লুকিয়ে আছে ভারতের গভীর রাজনৈতিক সংকট ও দাবি। দুর্নীতি দমন, ঘনঘন দলবদল ঠেকানো, নির্বাচনী স্বচ্ছতা, সংবাদ মাধ্যমের সংস্কার এবং ভারতের পার্লামেন্ট ও মন্ত্রিসভায় নারীদের জন্য ৫০ শতাংশ আসন সংরক্ষণের মতো গুরুগম্ভীর বিষয়গুলো উঠে এসেছে তাদের ডিজিটাল কন্টেন্টে। সেইসঙ্গে সাম্প্রতিক ২৩ লাখ শিক্ষার্থীর জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা মেডিকেল পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়েও সরব তারা। ডিজিটাল দুনিয়ায় বিজেপির রাজনীতিকে বিপাকে ফেলা ককরোচ জনতা পার্টিকে সামলাতে মোদি সরকারও বসে নেই। ‘আইনি নোটিশের’ অজুহাতে এরমধ্যেই ভারতে সিজেপির দেড় কোটি ফলোয়ারের অফিশিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টটি ব্লক করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে দমে যাবার পাত্র নন। মাত্র কয়েক মিনিটেই নতুন অ্যাকাউন্ট খুলে পোস্ট করেছেন ‘ককরোচ আবার ফিরেছে’। এমনকি ককরোচ পার্টির হাত থেকে রেহাই মিলবে না বলেও হুমকি দেন। অনলাইনে সিজেপির আত্মপ্রকাশকে সমালোচকরা বিরোধী দলের আইটি সেলের সাজানো নাটক বা ক্ষণস্থায়ী বুদবুদ বলে উড়িয়ে দিতে চাইলেও, ডেলয়েট গ্লোবালের সাম্প্রতিক জরিপ বলছে ভিন্ন কথা। ভারতের জেন-জিরা বর্তমানে তীব্র অর্থনৈতিক ও আবাসন সংকটে ভুগছে। বাংলাদেশ, নেপাল বা শ্রীলঙ্কায় জেনজিদের হাত ধরে যেভাবে সরকার পতন হয়েছে, ভারতের তরুণদের এই ক্ষোভের আগুনও সেই ইঙ্গিত দিচ্ছে কিনা তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল বিশ্লেষণ চলছে। দীপকে অবশ্য বলছেন, তারা যা করবেন শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক উপায়েই করবেন আরও পড়ুন: বিজেপিকে ছাড়িয়ে যেতেই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র এক্স হ্যান্ডেল ব্লক, নেপথ্যে কী? অতীতে তরুণদের রাজনৈতিক ক্ষোভ থেকে জন্ম নিত বড় বড় দীর্ঘ ইশতেহার কিংবা রাজপথের আন্দোলন। আর ২০২৬ সালে এসে ভারতের জেন-জিরা তৈরি করল তেলাপোকা মার্কার এক অদম্য মিম-পার্টি। বিশ্লেষকরা বলছেন, সামাজিক মাধ্যমের দেয়াল ভেঙে এই তেলাপোকার ঝাঁক যদি সত্যি সত্যিই ব্যালট বাক্সে হানা দেয়, তবে মোদি সরকারের জন্য এই উপদ্রব সামলানো যে বেশ কঠিন হবে তা বলাই যায়।সিজেপির এই বিপুল জনপ্রিয়তার রেশ ধরেই এবার বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘ন্যাশনাল প্যারাসাইটিক ফ্রন্ট’ বা এনপিএফ। সিজেপি যেখানে অলস ও বেকারদের প্রতিনিধিত্ব করছে, এনপিএফ সেখানে খুঁজছে এমন প্রতিবাদী সমাজকে, যারা ভাঙা ব্যবস্থার ভেতরে ঢুকে একে পরিবর্তন করতে চায়। অতিরঞ্জিত বিপ্লবী ভাষা আর তীব্র বিদ্রূপকে অস্ত্র করে তারা মূলত আঙুল তুলেছে সমাজের আসল ‘পরজীবী’ শোষকদের দিকে। ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন হলেও দুই দলেরই রয়েছে চমকপ্রদ ‘নির্বাচনী ইশতেহার’। সিজেপি যেখানে বিচারপতিদের অবসর-পরবর্তী রাজ্যসভার আসন নিষিদ্ধ করা কিংবা প্রশ্নপত্র ফাঁসে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের অধিকারের কথা বলছে, এনপিএফ সেখানে আরও নাটকীয় পথে সমাজব্যবস্থার শোষণকে তুলে ধরছে। ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচন কমিশনের খাতায় দল দুটির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না থাকলেও, জেন-জি প্রজন্মের এই মিম-রাজনীতি পুরো ভারতকে একাধারে হাসাতে এবং গভীরভাবে ভাবাতে বাধ্য করছে।

Go to News Site