Somoy TV
শিশু রামিসা ধর্ষণ-হত্যার বিচার দাবিতে উত্তপ্ত ঢাকার রাজপথ। ঢাকার বাইরেও রামিসা হত্যার প্রতিবাদে ক্ষোভে ফুঁসছে সর্বস্তরের মানুষ। জেলায় জেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন হয়েছে। দ্রুততম সময়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উচ্চারিত হয় সবার কণ্ঠে। এরপরও দেশের বিভিন্ন জায়গায় থেমে নেই শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা।শুক্রবারও অন্তত চার শিশুকে ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিচার দৃশ্যমান না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের অপরাধ পুরোপুরি দমন সম্ভব নয়। গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পল্লবীর একটি বাসা থেকে শিশু রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সেদিন ওই ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরে বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করা হয়। নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। শিশু রামিশা হত্যাকাণ্ডে দায়ের করা মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত সময়ের মধ্যে আদালতে জমা দেয়া হবে। শিশু রামিসা আক্তারকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় ফুঁসে উঠেছেন দেশের মানুষ। হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন জনতা। তবে এরপরও দেশের বিভিন্ন জায়গায় থেমে নেই শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যা চেষ্টার ঘটনা। তিন বছরের শিশুকে খাবারের লোভ দেখিয়ে বাড়ির পাশের টং ঘরে নিয়ে যায় প্রতিবেশী। শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করা হলে, তার চিৎকারে ছুটে আসেন আশপাশের লোকজন। তবে তার আগেই পালিয়ে যায় অভিযুক্ত আলম গাজী। শুক্রবার (২২ মে) যশোরের শার্শায় এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে শিশুটি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে পরিবারের সঙ্গে পুলিশের আশ্রয়ে রয়েছে। এলাকাবাসীরা জানান, শিশুটির কান্নার শব্দ শুনে তারা ছুটে যান। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটিকে ঘর থেকে বের করে দিলে সে দৌড়ে বাড়িতে চলে যায়। অভিযুক্তের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। প্রকাশ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে এ ধরনের ধর্ষণের ঘটনা কমে আসবে। আরও পড়ুন: দেশে একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড, যেসব কারণ দেখছেন মনোবিজ্ঞানীরা এ ঘটনায় শিশুটির বাবা মামলা দায়ের করলে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আলম গাজীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। যশোরের শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন জানান, আলম গাজীকে গ্রেফতার করে থানায় আনা হয়েছে। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। একই দিন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ছয় বছরের শিশুকে কৌশলে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে মনির ও সোহেল নামের দুই মাদকাসক্ত যুবক। শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে মুন্সীগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনা জানাজানি হলে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্ত মনিরকে ধরে গণপিটুনি দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে পাঠায়। এদিন চট্টগ্রামের ডবলমুরিংয়ে ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে আটক করে গণপিটুনি দেয় স্থানীয় জনতা। দুই ঘণ্টার চেষ্টায় অভিযুক্তকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। এছাড়া, নগরীর বায়েজিদে মোহাম্মদ নগরে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ একজনকে আটক করেছে পুলিশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার সুযোগ নিচ্ছে অপরাধীরা। সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, বিচার দৃশ্যমান না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।
Go to News Site