Somoy TV
আফগানিস্তানে পরোক্ষভাবে বাল্যবিবাহের বৈধতা দিলো তালেবান প্রশাসন। সম্প্রতি জারি করা নতুন বিবাহবিচ্ছেদ আইন নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর থেকেই আফগানিস্তানে মেয়েদের ষষ্ঠ শ্রেণির পর স্কুল-কলেজে যাওয়া এবং নারীদের কর্মসংস্থান নিষিদ্ধ করা হয়। শিক্ষা ও স্বাবলম্বী হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত কয়েক বছরে দেশটিতে বাল্যবিয়ে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বেসরকারি এক জরিপ অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৭০ শতাংশ আফগান মেয়েকে জোরপূর্বক কম বয়সে বিয়ে দেয়া হচ্ছে। যার মধ্যে ৬৬ শতাংশেরই বয়স ১৮ বছরের নিচে। এরইমধ্যে বাল্যবিবাহকে পরোক্ষভাবে সমর্থন দিয়ে নতুন আইন জারি করেছে দেশটির সরকার। তালেবান সরকারের অনুমোদিত নতুন এই আইনটি মূলত বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত একটি আদেশ। আইনটিতে বলা হয়েছে, কোনো নাবালিকা মেয়ের পরিবার তার বিয়ে দিয়ে দিলে মেয়েটি বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানোর পর সেই বিয়ে বাতিলের আবেদন করতে পারবে। জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, একে অধিকার মনে হলেও এই ধারাটি মূলত শিশুবয়সের বিয়েকে আইনিভাবে বৈধতা দেয়। বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানোর পর কোনো মেয়ে ভয়ে বা লজ্জায় চুপ থাকলে তার সেই নীরবতাকে বিয়ের চূড়ান্ত সম্মতি হিসেবে গণ্য করার বিধানও রাখা হয়েছে। আরও পড়ুন: ‘কুমারী মেয়ের’ মৌনতাই বিয়ের সম্মতি, আফগানিস্তানে নতুন আইন! নতুন এই আইন আফগান নারীদের জন্য বিবাহবিচ্ছেদের পথকে একপ্রকার অসম্ভব করে তুলেছে। প্রথমত, কোনো মেয়েকে জোর করে বিয়ে দেয়া হলেও, স্বামী যদি বিবাহবিচ্ছেদে আপত্তি জানান তবে স্ত্রী আর কোনোভাবেই বিচ্ছেদ পাবেন না। দ্বিতীয়ত, স্বামী যদি স্ত্রীকে ফেলে চলে যায় কিংবা কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা বা ভরণপোষণ নাও দেয়, তবে শুধু এই কারণ দেখিয়ে কোনো নারী আদালতে বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারবেন না। তালাক পেতে হলে নারীকে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ, পরিবার ও স্বামীর সম্মতিসহ এক জটিল সালিশি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। যা একজন নির্যাতিতা মেয়ের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। এর আগে জারি করা ফৌজদারি বিধি অনুযায়ী, কোনো স্বামী তার স্ত্রীকে গুরুতরভাবে মারধর করলেও সেই স্বামীর সর্বোচ্চ সাজা হবে মাত্র ১৫ দিনের জেল। তার ওপর আদালত থেকে নারী আইনজীবীদের বহিষ্কার করায় এবং বিচারব্যবস্থা পুরুষতান্ত্রিক হওয়ায় আফগান নারীদের আইনি সুরক্ষা পাওয়ার সুযোগ এখন চার গুণ কমে গেছে। আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র সমালোচনা ও জাতিসংঘের উদ্বেগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তালেবান প্রশাসন। সরকারের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে, যারা ইসলামী ব্যবস্থার বিরোধী তাদের কোনো প্রতিবাদ বা আপত্তিতে মনোযোগ দেয়ার প্রয়োজন মনে করে না তারা।
Go to News Site