Collector
অসুস্থ পশু এড়াতে যেসব বিষয় জানা জরুরি | Collector
অসুস্থ পশু এড়াতে যেসব বিষয় জানা জরুরি
Jagonews24

অসুস্থ পশু এড়াতে যেসব বিষয় জানা জরুরি

মুসলিমদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। এ উপলক্ষে দেশজুড়ে কোরবানির পশুর হাটে বসেছে। বিশেষ করে ঢাকাসহ দেশের বড় বড় শহরের পশুর হাটগুলো জমে উঠতে শুরু করেছে। কোরবানির জন্য গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা ও উট কেনার জন্য প্রতিদিন হাটে হাজারো মানুষ ভিড় করছেন। তবে বাহ্যিকভাবে বড় বা মোটাতাজা দেখালেই পশু সুস্থ-এমন ধারণা মোটেও সঠিক নয়। বেশি দামের আশায় অসাধু ব্যবসায়ী ও খামারিরা ঈদের কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই পশু মোটাতাজা করতে বিভিন্ন ওষুধ ও রাসায়নিক মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগ করেন। এতে পশুর শরীরে অতিরিক্ত পানি জমে। পশুর কিডনি, ফুসফুস, পাকস্থলী ও যকৃত নষ্ট হতে থাকে। পশুটি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় কোরবানির হাট থেকে সুস্থ পশু নির্বাচন, কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা পশু শনাক্ত করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গবেষক, ভেটেরিনারিয়ান ও ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ বিশেষজ্ঞ মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোছা. মিনারা খাতুন। কোরবানির পশু কেনার আগে যেসব বিষয়ে অবশ্যই জেনে রাখা উচিত- পশু কেনার সময় প্রথমেই পশুর আচরণ ও শারীরিক অবস্থা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। সুস্থ পশু কান ও লেজ নাড়াবে। তার চোখ উজ্জ্বল ও পরিষ্কার থাকে, নাক সামান্য ভেজা থাকে এবং কান সচলভাবে নড়াচড়া করে। পশুর শরীরে ঘা, চুলকানি, ক্ষত বা পোকা থাকবে না। একই সঙ্গে লোম ও চামড়া মসৃণ ও চকচকে হওয়া ভালো স্বাস্থ্যের লক্ষণ। নাক ও চোখ দিয়ে কোনো তরল পদার্থ বের হবে না। পশু স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করবে এবং খাবারের প্রতি আগ্রহ থাকবে। গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার ক্ষেত্রে ‘জাবর কাটা’ সুস্থতার অন্যতম লক্ষণ। নিয়মিত জাবর কাটলে বোঝা যায় পশুর হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক আছে। তবে অসুস্থ পশু সাধারণত কম জাবর কাটে, বেশি অসুস্থ হলে একেবারেই কাটে না। তাই হাটে গিয়ে তাড়াহুড়ো না করে কিছুক্ষণ সময় দাঁড়িয়ে পশুর স্বাভাবিক আচরণ পর্যবেক্ষণ করা উচিৎ। আরও পড়ুন: পশুর হাটে যাওয়ার আগে সঙ্গে যা রাখবেন কোরবানির ব্যস্ততার আগে সেরে ফেলুন এই বাজার কোরবানির ঈদ আসলেই বাড়তি লাভের আশায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও খামারি পশু মোটাতাজাকরণের জন্য স্টেরয়েড বা হরমোনজাতীয় ওষুধ ব্যবহার করে থাকেন। তাই পশু কেনার সময় এ ধরনের পশু শনাক্ত করতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। সম্ভব হলে হাটে যাওয়ার সময় একজন পশু চিকিৎসক কিংবা অভিজ্ঞ পশুপালনকারীকে সঙ্গে নেওয়া ভালো। এ ধরনের পশুর শরীর সাধারণত অস্বাভাবিকভাবে ফুলে থাকে এবং হাঁটাচলায় দুর্বলতা কিংবা হাঁপানোর লক্ষণ দেখা যায়। অনেক সময় পশুর চামড়া অতিরিক্ত টানটান ও অস্বাভাবিকভাবে চকচকে দেখা যায়। পেট ফোলা থাকলেও মাংসপেশি স্বাভাবিকভাবে গঠিত হয় না। এ ছাড়া শরীরে ইনজেকশনের দাগও দেখা যেতে পারে, যা কৃত্রিমভাবে মোটাতাজাকরণের ইঙ্গিত হতে পারে। কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা পশুর মাংস মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। দীর্ঘদিন এ ধরনের মাংস খেলে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া কিডনি ও লিভারের ক্ষতি, হজমজনিত সমস্যা, অ্যালার্জি এবং বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেতে পারে। অন্যদিকে, হাটে দীর্ঘ সময় পশুকে দাঁড়িয়ে রাখলেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এতে পশু ক্লান্ত ও দুর্বল হয়ে যায় এবং পায়ে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট ও খাবারে অনীহার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণেও মাংসের গুণগত মান কমে যেতে পারে। ফলে মাংস শক্ত, শুষ্ক এবং তুলনামূলক কম স্বাদযুক্ত হয়ে পড়ে। এ ছাড়াও হাটে কোনো পশু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তাকে ভিড় ও রোদ থেকে সরিয়ে শান্ত জায়গা রাখতে হবে। একইসঙ্গে পশুকে পরিষ্কার পানি দিতে হবে এবং জ্বর, শ্বাসকষ্ট বা আঘাত আছে কি না খেয়াল রাখতে হবে। সম্ভব হলে দ্রুত একজন পশু চিকিৎসকের সহায়তা নেওয়া উচিত। কোরবানির সুস্থ পশু নির্বাচন ও পশুর প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে সচেতনতা বাড়ানো ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। জেএস/

Go to News Site