Collector
মালদ্বীপে বাংলাদেশি স্বাস্থ্যকর্মীদের চাহিদা বাড়ছে | Collector
মালদ্বীপে বাংলাদেশি স্বাস্থ্যকর্মীদের চাহিদা বাড়ছে
Jagonews24

মালদ্বীপে বাংলাদেশি স্বাস্থ্যকর্মীদের চাহিদা বাড়ছে

মালদ্বীপের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশি চিকিৎসক, থেরাপিস্ট, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটির সরকার। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি সরকারি পর্যায়ে ওষুধ ও ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য আমদানির আগ্রহও দেখিয়েছে দ্বীপরাষ্ট্রটি। সম্প্রতি মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম এবং মালদ্বীপের স্বাস্থ্যমন্ত্রী আব্দুল্লাহ নাজিম ইব্রাহিমের মধ্যে মালের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য উঠে আসে। বৈঠকে দুই দেশের স্বাস্থ্যখাতের সহযোগিতা, চিকিৎসা শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনায় মালদ্বীপের সরকারি হাসপাতালগুলোতে দক্ষ থেরাপিস্ট ও বিশেষায়িত স্বাস্থ্যকর্মীর তীব্র সংকটের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। মালদ্বীপের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে তাদের প্রায় ৫০ জন থেরাপিস্ট দ্রুত নিয়োগ করা প্রয়োজন এবং এক্ষেত্রে বাংলাদেশ বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, বাংলাদেশি স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতা, পেশাদারত্ব ও আন্তরিকতা প্রশংসনীয়। তাই ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক বাংলাদেশি ফিজিশিয়ান, নার্স ও থেরাপিস্ট নিয়োগ দিতে আগ্রহী দেশটির সরকার। বৈঠকে মালদ্বীপের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের অভূতপূর্ব অগ্রগতির প্রশংসা করেন। তিনি জানান, সরকারি পর্যায়ে আরও সুসংগঠিতভাবে বাংলাদেশি ওষুধ আমদানি করতে চায় মালদ্বীপ। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা ও গুণগত মান যাচাই করতে মালদ্বীপের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করতে পারে। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান স্বাস্থ্যখাত বিষয়ক সমঝোতা স্মারকটি আরও বাস্তবমুখী করতে তা দ্রুত হালনাগাদ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক কোটার আওতায় বর্তমানে মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশ সরকার সাতটি পূর্ণ অর্থায়িত বৃত্তি প্রদান করছে। হাইকমিশনার মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশে এসে চিকিৎসা শিক্ষা গ্রহণের আহ্বান জানান। মালদ্বীপে অবস্থানরত অনিয়মিত (ভিসাহীন) বাংলাদেশি প্রবাসীদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ও আইসিইউ চিকিৎসা প্রদানের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। মালদ্বীপ কর্তৃপক্ষ জানায়, সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও মানবিক বিবেচনায় তারা এই সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশি থেরাপিস্ট ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আমরা আশা করছি, অদূর ভবিষ্যতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দক্ষ বাংলাদেশি স্বাস্থ্যকর্মী মালদ্বীপে যোগ দিয়ে দেশটির স্বাস্থ্যখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন। বৈঠক শেষে উভয় পক্ষই বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং স্বাস্থ্যখাতের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এমআরএম

Go to News Site