Collector
ঘৃণার রাজনীতি প্রত্যাখ্যানের আহ্বান আনোয়ার ইব্রাহিমের | Collector
ঘৃণার রাজনীতি প্রত্যাখ্যানের আহ্বান আনোয়ার ইব্রাহিমের
Jagonews24

ঘৃণার রাজনীতি প্রত্যাখ্যানের আহ্বান আনোয়ার ইব্রাহিমের

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম দেশকে শান্তিপূর্ণ, উন্নত ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে রাখতে ঘৃণা ও বিভেদের রাজনীতি প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এখনই সময় শান্তি ও সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের সামনে এসে মানবতা, ভালোবাসা এবং জাতিগত ও ধর্মীয় সম্প্রীতির পক্ষে সোচ্চার হওয়ার। শনিবার (২৩ মে) কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়ান বৌদ্ধ পরামর্শ কাউন্সিল আয়োজিত ওয়েসাক দিবস উদযাপন ও ‘ওয়াচানা হারমোনি মাদানি’ অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘৃণা ও বিভেদের রাজনীতি যথেষ্ট হয়েছে। এখন সময় এসেছে মালয়েশিয়ার জনগণ বিবেক, ভালোবাসা এবং পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। তিনি বলেন, মালয়েশিয়া প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বহু জাতি ও বহু ধর্মের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে। তাই পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতার মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করতে হবে, যা ‘মালয়েশিয়া মাদানি’ ধারণার অন্যতম ভিত্তি। আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘মাদানি’ কেবল অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ডিজিটাল প্রযুক্তি বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি নৈতিকতা, মূল্যবোধ এবং ধর্মীয় শিক্ষার আলোকে মানবিক সমাজ গঠনের ওপর গুরুত্ব দেয়। তিনি বলেন, আমরা উন্নয়ন, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি চাই। তবে একই সঙ্গে মানবিকতা, সহমর্মিতা, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মূল্যবোধও ধরে রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সব ধর্মই মানুষকে কল্যাণ ও শান্তির শিক্ষা দেয়, ঘৃণা নয়। ইসলামে যেমন ‘রহমাহ’ ও ভালোবাসার শিক্ষা রয়েছে, তেমনি বৌদ্ধ ধর্মেও রয়েছে ‘মেত্তা’ ও ‘করুণা’র দর্শন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বর্তমান সময়ে সমাজে ঘৃণা ও বৈরিতাকেই বেশি উসকে দেওয়া হচ্ছে। তিনি স্বীকার করেন, কিছু গোষ্ঠী জাতিগত ও ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে সমাজে উত্তেজনা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তবে শান্তিপ্রিয় সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের কণ্ঠস্বরকে কোনোভাবেই চরমপন্থি সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর কাছে হার মানতে দেওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বিশ্বাস করি, মালয়েশিয়ার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মালয়, চীনা, ভারতীয়, ইবান, কাদাজানসহ সব জাতিগোষ্ঠী একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও সফল দেশ চায়। অর্থনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিক্ষার মানোন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জনগণের কল্যাণে কাজ চালিয়ে যাবে। বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক সংকটের প্রভাব মোকাবিলায়ও সরকার জনগণকে সহায়তা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, একটি বড় মালয়েশিয়ান পরিবার হিসেবে আমরা কী সব অসহায় মানুষকে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সাহায্য করতে পারি না? এছাড়া, ওয়েসাক দিবস উদযাপন এবং আন্তধর্মীয় সম্প্রীতির বিভিন্ন কর্মসূচিতে সরকারের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানের শেষ দিকে তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার জনগণ যদি শান্তি, সম্মান ও ভালোবাসার পথ বেছে নেয়, তবে দেশ অবশ্যই আরও সফলতার দিকে এগিয়ে যাবে। এমআরএম

Go to News Site