Jagonews24
ঈদকে সামনে রেখে গণপরিবহনে বাড়তি ভিড় ও অবাধ যাতায়াতে হামের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তাই ঈদের সময় জনাকীর্ণ স্থান কিংবা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে না নেওয়ার জন্য অভিভাবক, বিশেষ করে মায়েদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শনিবার (২৩ মে) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজের (আইএফআরসি) পক্ষ থেকে দেওয়া জরুরি স্বাস্থ্যসামগ্রী হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ এবং সংস্পর্শ ও শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে যেসব শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে বা সম্প্রতি সুস্থ হয়েছে, তাদের ঈদের সময় জনাকীর্ণ স্থান কিংবা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে না নেওয়ার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি আরও যোগ করেন, ভ্যাকসিন দিলেই যে ১০০ শতাংশ গ্যারান্টি দেওয়া যায় তা নয়, ভাইরাসের তীব্রতা বেশি হলে দু-একটি ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হতে পারে। তাই সামাজিক দূরত্ব ও সচেতনতাই প্রধান প্রতিরোধ। সরকারের মধ্যে কোনো সমন্বয়হীনতা নেই বলে দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তথ্য উপদেষ্টার তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তথ্য উপদেষ্টা কী বলেছেন তা আমার জানা নেই। তদন্ত কমিটি গঠন করা উনার মন্ত্রণালয়ের বিষয় হতে পারে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মূল দায়িত্ব এখন মাঠপর্যায়ে শিশুদের জীবন রক্ষা করা এবং চিকিৎসা নিশ্চিত করা। আমাদের মধ্যে কোনো সমন্বয়হীনতা নেই।’ ঈদের ছুটির দিনগুলোতেও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে সার্কুলার জারি করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, \"হামের রোগী এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবার সাথে জড়িত কোনো চিকিৎসক বা নার্সের ঈদের ছুটি হবে না। সবাইকে কর্মস্থলে থেকে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে হবে।\" বিগত সরকারের স্বাস্থ্য খাতের ব্যর্থতার সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, \"অতীত নিয়ে আমি বেশি কথা বলতে চাই না, সমালোচনা করা আমার স্বভাবও নয়। তবে বিগত সরকারের সঠিক সময়ে টিকার সিদ্ধান্ত না নেওয়া এবং বেসরকারি খাত থেকে ক্রয়ের চেষ্টা আমাদের সংকটে ফেলেছিল। বর্তমান সরকার দ্রুততার সাথে সব ব্যবস্থা করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।\" আইএফআরসি-এর পক্ষ থেকে দেওয়া স্বাস্থ্য সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে— ১১ সেট ভেন্টিলেটর, ২৭ সেট নেবুলাইজার, ২৭ সেট অক্সিজেন ফ্লো মিটার এবং ১ লাখ পিস নরমাল স্যালাইন। স্বাস্থ্য সামগ্রী গ্রহণ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে দেশের চলমান হাম পরিস্থিতি, টিকাদান কর্মসূচির অভূতপূর্ব সফলতা এবং আগামী দিনের পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এসইউজে/এমএএইচ/
Go to News Site