Jagonews24
এআইয়ের অভাবনীয় উত্থান, চাঙা বাজার এবং অনুকূল আর্থিক নীতির কারণে বিলিয়নিয়ারদের জন্য এর চেয়ে ভালো সময় আর কখনোই ছিল না। এ বছর বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় রেকর্ড ৩ হাজার ৪২৮ জন উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও উত্তরাধিকারীর নাম উঠেছে, যা ২০২৫ সালের তুলনায় ৪০০ বেশি। তাদের মোট সম্পত্তির পরিমাণও ইতিহাসের সর্বোচ্চ— ২০ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলার বেশি। সবচেয়ে বেশি বিলিয়নিয়ার রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে রেকর্ড ৯৮৯ জন বিলিয়নিয়ার রয়েছেন। এরপর রয়েছে চীন, হংকংসহ যেখানে বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা ৬১০। তৃতীয় স্থানে থাকা ভারতে বিলিয়নিয়ার রয়েছেন ২২৯ জন। ২০২৬ সালের ১ মার্চের শেয়ারমূল্য ও বিনিময় হার ব্যবহার করে এ তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এখন আমরা প্রবেশ করেছি পরবর্তী ধাপে—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে। আগের প্রতিটি বড় পরিবর্তনের মতোই, যারা এআইকে কাজে লাগাতে শিখবে, তারা অন্যদের তুলনায় দ্রুত সম্পদ গড়ে তুলতে পারবে বিশ্বের শীর্ষ বিলিয়নিয়ার যারা বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের মধ্য সব সময় যার নাম সামনে চলে আসে তিনি হলেন ইলন মাস্ক। ২০২৬ সালে যার মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৮৩৯ বিলিয়ন ডলার। ২০২৫ সালে মাস্ক ৩৪২ বিলিয়ন ডলারের মালিক ছিলেন। ইলন মাস্ক সাতটি প্রতিষ্ঠানের সহপ্রতিষ্ঠাতা। এর মধ্যে রয়েছে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলা, রকেট প্রস্তুতকারী স্পেসএক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা স্টার্টআপ এক্সএআই। বিলিয়নিয়ারদের তালিকায় এর পরের অবস্থানে রয়েছেন ল্যারি পেজ। চলতি বছর যার সম্পত্তির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৫৭ বিলিয়ন ডলারে। আগের বছর তার সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ১৪৪ বিলিয়ন ডলার। ল্যারি পেজ ২০১৯ সালে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের প্রধান নির্বাহী পদ ছাড়েন। তবে তিনি এখনো প্রতিষ্ঠানটির বোর্ড সদস্য ও নিয়ন্ত্রণকারী শেয়ারহোল্ডার। আরও পড়ুন> বিশ্বসেরা ৮ বিলিয়নিয়ার বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনীর ৯ জনই যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৫ সালে বিশ্বের শীর্ষ ধনী যারা তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন সের্গেই ব্রিন। যিনি ২৩৭ বিলিয়ন ডলারের মালিক। ২০২৫ সালে তার সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ১৩৮ বিলিয়ন ডলার। সের্গেই ব্রিন ২০১৯ সালে অ্যালফাবেটের প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়েন। তবে তিনিও এখনো বোর্ড সদস্য ও নিয়ন্ত্রণকারী শেয়ারহোল্ডার হিসেবে রয়েছেন। বিশ্বের ধনীদের তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন জেফ বেজোস। তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ ২২৪ বিলিয়ন ডলার। জেফ বেজোস ১৯৯৪ সালে সিয়াটলের নিজের গ্যারেজ থেকে ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে ২২২ বিলিয়ন ডলারের সম্পত্তি নিয়ে বিলিয়নিয়ারদের তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছেন মেটার প্রতিষ্ঠাতা। ২০২৫ সালে সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ২১৬ বিলিয়ন ডলার। মাত্র ১৯ বছর বয়সে মার্ক জাকারবার্গ ২০০৪ সালে ফেসবুক চালু করেন, যেখানে শিক্ষার্থীরা সহপাঠীদের ছবি ও নাম মিলিয়ে দেখতে পারতো। এরপরেই ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছেন ল্যারি এলিসন। তিনি ১৯০ বিলিয়ন ডলারের মালিক। ২০২৫ সালে তার সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ল্যারি এলিসন সফটওয়্যার জায়ান্ট ওরাকলের চেয়ারম্যান, প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ও সহপ্রতিষ্ঠাতা। প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৪০ শতাংশ শেয়ারের মালিক তিনি। সপ্তম স্থানে রয়েছেন বার্নার্ড আর্নল্ট ও পরিবার। তাদের সম্পত্তির পরিমাণ ১৭১ বিলিয়ন ডলার। বার্নার্ড আর্নল্ট ৭৫টি ফ্যাশন ও প্রসাধনী ব্র্যান্ডের সমন্বয়ে গড়া এলভিএমএইচ সাম্রাজ্যের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে লুই ভুইতোঁ ও সেফোরার মতো ব্র্যান্ড। অষ্টম স্থানে রয়েছেন জেনসেন হুয়াং। ১৫৪ বিলিয়ন ডলারের মালিক তিনি।জেনসেন হুয়াং ১৯৯৩ সালে গ্রাফিক্স চিপ নির্মাতা এনভিডিয়া সহপ্রতিষ্ঠা করেন এবং তখন থেকেই প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৪৯ বিলিয়ন ডলার নিয়ে ধনীদের তালিকায় নবম স্থানে রয়েছেন ওয়ারেন বাফেট। ২০২৫ সালে তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ১৫৪ বিলিয়ন ডলার। ‘ওরাকল অব ওমাহা’ নামে পরিচিত ওয়ারেন বাফেটকে বিশ্বের অন্যতম সফল বিনিয়োগকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আরও পড়ুন> বিশ্বসেরা ৮ বিলিয়নিয়ার বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনীর ৯ জনই যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৫ সালে বিশ্বের শীর্ষ ধনী যারা আমানসিও ওর্তেগা ১৪৮ বিলিয়ন ডলারের সম্পত্তি নিয়ে তালিকায় দশম স্থানে রয়েছেন। স্পেনের আমানসিও ওর্তেগা বিশ্বের অন্যতম ধনী পোশাক খুচরা বিক্রেতা। ২০২৫ সালে তার সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ১২৪ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে সম্পদ গড়ে তোলার বিশাল সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইতিহাসজুড়ে সম্পদের মূল উৎস ছিল জমি ও শ্রম। শিল্পবিপ্লবের পর মূল্য স্থানান্তরিত হয় যন্ত্র, কারখানা, রেলপথ এবং পরে আর্থিক সম্পদের দিকে। এরপর প্রযুক্তির উত্থান আমাদের এমন এক যুগে নিয়ে আসে, যেখানে সফটওয়্যার, নেটওয়ার্ক, ডেটা ও মেধাস্বত্ব সম্পদ তৈরির প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে। ইন্টারনেট এবং পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিতরণব্যবস্থাকে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়। ফলে খুব কম পুঁজি নিয়েও একজন নির্মাতা বা উদ্যোক্তা লাখো মানুষের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হন। যারা প্রযুক্তিগত এই পরিবর্তনগুলো শুরুতেই বুঝতে পেরেছিলেন, তারা বড় অঙ্কের আয় করতে পেরেছেন। আর যারা সেই আয়কে শৃঙ্খলার সঙ্গে ধরে রাখতে পেরেছেন, তারা দীর্ঘস্থায়ী সম্পদ গড়ে তুলেছেন। এখন আমরা প্রবেশ করেছি পরবর্তী ধাপে—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে। আগের প্রতিটি বড় পরিবর্তনের মতোই, যারা এআইকে কাজে লাগাতে শিখবে, তারা অন্যদের তুলনায় দ্রুত সম্পদ গড়ে তুলতে পারবে। প্রযুক্তি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বিপুল সম্পদ তৈরি করেছে। বিল গেটস, পল অ্যালেন, স্টিভ জবস এবং ইলন মাস্ক ভবিষ্যতের দিক বুঝে প্রযুক্তিকে গ্রহণ করেছিলেন এবং বিশাল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাদের কোম্পানিগুলোর প্রাথমিক বিনিয়োগকারীরাও দ্রুত সম্পদ বাড়াতে পেরেছেন। এনভিডিয়ার বাজারমূল্য ৫ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। এক দশক আগে এনভিডিয়ায় ১০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করা হলে, সেই বিনিয়োগ এখন মিলিয়ন ডলারে পরিণত হতো। এআইয়ের গল্প এখনো শেষ হয়নি, এবং এটি ভবিষ্যতে সম্পদ তৈরির আরও অনেক সুযোগ সৃষ্টি করবে। এমএসএম
Go to News Site