Jagonews24
পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের পশুর খামারগুলো বেশ জমজমাট অবস্থা রয়েছে। সেই সঙ্গে ক্রেতারাও আগে থেকেই পছন্দের পশু কিনে রাখছেন এসব খামার থেকে। তবে এবার ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে এলবিনিউ প্রজাতির গোলাপি রঙের মহিষ। জানা গেছে., এলবিনিউ জাতের মহিষটি ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। সেই সঙ্গে ক্রেতারা আগে থেকেই খামারগুলোতে এলবিনিউ প্রজাতির গোলাপি রঙের মহিষ কিনে রেখে দিয়েছেন। এদিকে খামার ছাড়াও হাটগুলোতেও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গরু আসতে শুরু করেছে। বন্দরের এসএস ক্যাটেলের ম্যানেজার মেহেদী হাসান বলেন, শুধু ঈদের জন্য নয় সারা বছর আমাদের খামার থেকে বড় জাতের মহিষ ক্রয় করেন দেশের বিভিন্ন জেলার ক্রেতারা। তবে এর মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ক্রেতা বেশি। ৬ প্রজাতির বড় জাতের মহিষ আমরা তৈরি করেছি। এর মধ্যে গোলাপি রঙের এলবিনিউ জাতের মহিষের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। ক্রেতাদের সাড়া পাচ্ছি। এ মহিষগুলো দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে ভিড় করছে। জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচটি উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৬ হাজার ৫৩৭টি খামার রয়েছে। এসব খামারে কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৭৫৪টি পশু। আর জেলায় কোরবানি পশুর চাহিদা হচ্ছে ১ লাখ ৩ হাজার ৪৭টি পশু। ফলে জেলা উদ্বৃত্ত রয়েছে ১০ হাজার ৭০৭ টি পশু। খামারে কোরবানির জন্য প্রস্তুত পশুগুলোর মধ্যে ৬১ হাজার ৮৯৯ টি ষাঁড়, ৬ হাজার ৪৮৬টি বলদ, ১৯ হাজার ৭৪৩টি গাভী, ২ হাজার ৮৪১ টি মহিষ, ১৭ হাজার ১৭২টি ছাগল, ৫ হাজার ৪৯৩টি ভেড়া রয়েছে। ১২৭টি অন্যান্য পশু রয়েছে। মহিষগুলোর মধ্যে এলবিনিউ প্রজাতির গোলাপি রঙের মহিষও অনেক রয়েছে। এসএস ক্যাটল অ্যাগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী মেহেনুমা মেহজাবিন বলেন, আমাদের এখানে সব ধরনের পশু রয়েছে। আমাদের খামানের অনেক পশু অনেক আগে বিক্রি হয়ে গেছে। এর মধ্যে এলবিনিউ প্রজাতির গোলাপি রঙের মহিষের চাহিদা অনেক বেশি। এর আগে কখনও ঈদের জন্য এতগুলো মহিষ লালন-পালন করা হয়নি। গত বছর আমরা ২৫টি গোলাপি মহিষ লালন পালন করেছিলাম। সবকটিই বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। তিনি আরও বলেন, যারা একবার গোলাপি মহিষ ক্রয় করে তারা আবারও এই মহিষ ক্রয় করে। গরু থেকে এগুলোতে চর্বি কম হয়। মাংসও মানের দিক থেকে অনেক ভালো হয়। এ কারণে এই মহিষের চাহিদা বেশি। গত বছর চাহিদা থাকায় আমরা এবার ৩৪টি গোলাপি মহিষ পালন করেছি। ইতোমধ্যে এসব মহিষের জন্য অনেক সারা পাচ্ছি। আশা করছি বিক্রি হয়ে যাবে। রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী জিয়াউদ্দিন মৃধা বলেন, গোলাপি হওয়ার কারণে এই মহিষগুলোর চাহিদা বেশি থাকে। আমি আমার খামারে গরু বেশি লালন পালন করি। কিন্তু গোলাপি মহিষের চাহিদা বেশি হওয়ার কারণে এই বছর থেকে লালন পালন শুরু করেছি। আমার খামারে যতগুলো মহিষ ছিলো সবগুলোই বিক্রি হয়ে গেছে। বন্দর উপজেলা প্রণিসম্পদ কর্মকর্তা হলেন ডা. সরকার আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, বন্দরের অনেক খামারেই এলবিনিউ প্রজাতির গোলাপি রঙের মহিষ দেখেছি। এই মহিষটি সাধারণত একটু আকর্ষণীয় থাকে। যার কারণে অনেকেরই আগ্রহ থাকে মহিষকে ঘিরে। এমনিতে এই মহিষের আলাদা উল্লেখযোগ্য কোনো বৈশিষ্ট্য নেই। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন, ঈদুল আজহা পবিত্র উৎসব। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের চ্যালেঞ্জ থাকে। আমরা সব অংশীজনদের নিয়ে সম্মিলিতভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করি। নারায়ণগঞ্জের হাটগুলোতে আমাদের ২৫ ভেটেনারি টিম কাজ করছে। এ বছর নারায়ণগঞ্জের অনেক জায়গাতেই গোলাপি মহিষ লক্ষ্য করেছি। মনে হচ্ছে এই গোলাপি মহিষের চাহিদা বাড়ছে। মোবাশ্বির শ্রাবণ/এনএইচআর/এমএস
Go to News Site