Somoy TV
ফেসবুকের নিউজফিড, ইউটিউবের শর্টস-- কদিন ধরে সবখানে একটি বাক্য বহুল চর্চিত; ‘রাগ করলা? কথা ঠিক না বেঠিক?’ এক তথাকথিত কবিরাজের এই সাধারণ সংলাপটি এখন আমাদের মুখে মুখে। সাধারণ বিষয় থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা, যে কোনো প্রসঙ্গে এই সংলাপের ছড়াছড়ি। এই দৃশ্য দেখে একজন সচেতন মানুষের মনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক-- আমাদের সামাজিক রুচিবোধ, বিবেক আর ঈমানী গাম্ভীর্য আজ কোথায় গিয়ে ঠেকেছে? সামান্য একটা অর্থহীন বাক্য নিয়ে আমাদের এই যে উন্মাদনা ও মাতামাতি, তা কি আসলেই একটি সুস্থবোধ সম্পন্ন ও চিন্তাশীল সমাজের পরিচয় দেয়? বিশেষ করে একজন মুমিন, যার জীবনের প্রতিটি সেকেন্ডের হিসেব মহান আল্লাহর কাছে দিতে হবে, সে কি এভাবে যেকোনো সস্তা স্রোতে গা ভাসিয়ে দিতে পারে?ইসলাম মানুষকে রুচি, ব্যক্তিত্ব এবং সময় সচেতনতাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। শরিয়তের একটি মৌলিক মূলনীতির মর্মার্থ হলো-- কারও যেমন ক্ষতি করা যাবে না, তেমনি নিজেকেও ক্ষতির মধ্যে ফেলা যাবে না। এই যে নিরর্থক ট্রেন্ডের পেছনে আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় অপচয় করছি, এটা কি আমাদের মানসিক ও আত্মিক গঠনের জন্য চরম ক্ষতিকর নয়? মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে সফল মুমিনের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে বলেন, যারা অনর্থক বিষয় থেকে বিরত থাকে। (সুরা আল-মুমিনুন, আয়াত: ৩) আরও পড়ুন: এক যুগ ধরে হজের খুতবা দিয়েছেন যারা আমরা যদি একটু নীরবে ভাবি, দেখা যাবে, এই ভাইরাল সংস্কৃতির কোনো উপকার নেই। আমাদের পরকালের উন্নতির ক্ষেত্রে ক্ষতি বৈ কিছুই নয়। প্রিয় নবী (সা.) একজন মুসলিমের ব্যক্তিত্বের সৌন্দর্য পরিমাপের চমৎকার এক মূলনীতি শিখিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মানুষের ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য হলো, তার জন্য অনর্থক বিষয় বর্জন করা। (জামে তিরমিজি : ২৩১৭) ইসলাম সাময়িক হাসির খোরাক বা বৈধ বিনোদনের বিরোধী নয়, তবে বিনোদন যেন আমাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন বানিয়ে না তোলে। শয়তান ও নফস আমাদেরকে সোশাল মিডিয়ার সস্তা স্রোতে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে চায়-- মুমিন স্রোতের বিপরীতে শরিয়ত ও সুস্থ বিবেক বোধের পাটাতনে দৃঢ়পদ থাকতে হবে। লেখক: শিক্ষার্থী, দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম
Go to News Site