Collector
বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালি দিনের এক অমলিন গল্প শোনালেন ববিতা | Collector
বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালি দিনের এক অমলিন গল্প শোনালেন ববিতা
Somoy TV

বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালি দিনের এক অমলিন গল্প শোনালেন ববিতা

বাংলা চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল দুই নক্ষত্র শাবানা ও ববিতা। একজন আবেগের গভীরতায় দর্শককে মুগ্ধ করেছেন, অন্যজন অভিনয়ের সৌন্দর্যে জয় করেছেন সময়কে। দর্শকের চোখে অনেক সময় তারা ছিলেন একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। তবে বাস্তবে তাদের সম্পর্ক ছিল গভীর শ্রদ্ধা, আন্তরিকতা ও বন্ধুত্বে ভরা; সম্প্রতি এমনটাই জানিয়েছে অভিনেত্রী ববিতা।ববিতা জানান, দীর্ঘ ক্যারিয়ারে শাবানার সঙ্গে ববিতার সম্পর্ক যেমন গাঢ় হয়েছে, তেমনি সময় পেরিয়ে ক্যারিয়ার ছাড়ার পরও শাবানার সঙ্গে বন্ধুত্ব অটুট রয়েছে। পেশাগত প্রতিযোগিতার বাইরে তাদের দু’জনের পারস্পরিক এ বোঝাপড়া ও সৌহার্দ্য বাংলা চলচ্চিত্রাঙ্গনে তৈরি করেছে এক অনুকরণীয় উদাহরণ। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে একসঙ্গে একাধিক চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন দুজনে, সৃষ্টি করেছেন অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত। পুরনো সেই দিনগুলোর কথা স্মরণ করে শাবানাকে প্রশংসায় ভাসান ববিতা। নায়িকা বলেন,শাবানা আপাকে ছাড়া আমার চলচ্চিত্রজীবনের গল্প কখনও পূর্ণ হতে পারে না। চলচ্চিত্রাঙ্গনে জনপ্রিয় দুই নায়িকার মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকাটা খুব স্বাভাবিক। কিন্তু প্রথম দেখাতেই শাবানার মধ্যে আন্তরিকতা খুঁজে পেয়েছিলেন ববিতা। ধীরে ধীরে পরিচয় থেকে সম্পর্কের গভীরতা বাড়তে থাকে। তারা একে অপরের কাজকে সম্মান করেছেন, সাফল্যে পেয়েছেন আনন্দ। ববিতা জানান, শাবানার সবচেয়ে বড় গুণ ছিল তার অসাধারণ পেশাদারিত্ব। শুটিং ফ্লোরে সময়মতো উপস্থিত থাকতেন তিনি। সংলাপ মুখস্থ, চরিত্র নিয়ে প্রস্তুতি- সবকিছুতেই ছিলেন বেশ সতর্ক। বিশেষ করে আবেগঘন দৃশ্যে তার অভিনয় ছিল অসাধারণ। পাশাপাশি সংলাপ ছাড়াও শুধু দৃষ্টির মাধ্যমে আবেগ প্রকাশ করার এক আশ্চর্য ক্ষমতা ছিল তার। শুটিংয়ের ফাঁকে আড্ডা দিতেন দুই নায়িকা। আলাদা আলাদা টিফিন ক্যারিয়ারে খাবার আনলেও খেতেন ভাগাভাগি করে। শুধু একজন গুণী অভিনেত্রী নন, ববিতার চোখে শাবানা একজন অসাধারণ মানুষ। এত জনপ্রিয়তা, এত সাফল্যের পরও তার মধ্যে ছিলো না কোনো অহংকার। সবার সঙ্গে খুব সহজভাবেই মিশতেন তিনি, কথা বলতেন হাসিমুখে। আরও পড়ুন: দুবাইতে ‘গুড লাইফ ডকুমেন্টেশন’ উদ্বোধনে নুসরাত ফারিয়া দুজনে একসঙ্গে প্রথম অভিনয় করেছিলেন সাইফুল আজম কাশেম পরিচালিত ‘সোহাগ’ সিনেমায়। ১৯৭৮ সালে মুক্তির পর সিনেমাটি বেশ দর্শকপ্রিয়তা পায়। এরপর আলমগীর কুমকুমের ‘কাপুরুষ’, দারাশিকোর ‘ফকির মজনু শাহ’, দেওয়ান নজরুলের ‘বারুদ’ এবং সিরাজুল ইসলাম সিরাজের ‘সোনার হরিণ’ সিনেমায় একসঙ্গে পর্দা শেয়ার করেন দুই কিংবদন্তি। একবার কক্সবাজারে শুটিংয়ে পোশাক ও পরচুলা ধার নেয়ার মতো ছোট্ট ঘটনা তাদের বন্ধুত্বের আন্তরিকতা আরও স্পষ্ট করে। সময়ের সঙ্গে শাবানা চলচ্চিত্র থেকে দূরে সরে গেলেও সম্পর্কের উষ্ণতা কখনও কমেনি। বহু বছর পর হঠাৎ দেখা হলে দুজনেই আবেগে জড়িয়ে ধরেন একে অপরকে। আজও সেই স্মৃতি জানিয়ে দেয় ক্যামেরার সামনে প্রতিযোগিতা থাকলেও বাস্তব জীবনে তাদের মাঝে রয়েছে শুধুই শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর বন্ধুত্ব। আরও পড়ুন: নিউইয়র্কের মেয়রের সঙ্গে অভিনয়ে জায়েদ খান

Go to News Site