Somoy TV
পাহাড়ের উন্মুক্ত ও প্রাকৃতিক পরিবেশে বড় হওয়া রাঙামাটির গরুর কদর এখন আর শুধু স্থানীয় মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, তা ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের জেলাগুলোতেও। কোনো ধরনের কৃত্রিম খাবার বা রাসায়নিক ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে লালন-পালন করায় আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ক্রেতাদের চাহিদার তুঙ্গে রয়েছে পাহাড়ি এসব গরু। তবে গরুর দাম নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।শনিবার (২৩ মে) সরেজমিনে রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার গরুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, চারপাশের সবুজ পাহাড়ের পাদদেশে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা শত শত গরু বেঁধে রাখা হয়েছে। পাহাড়ি পল্লী থেকে এসব গরু হাটে নিয়ে এসেছেন বিক্রেতারা। হাটে মাঝারি আকারের গরুর চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। কাউখালী ছাড়াও জেলার কাপ্তাই, লংগদু ও বাঘাইছড়ির হাটগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে।ক্রেতা ও খামারিরা জানান, রাঙামাটির গরুর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এখানকার বেশিরভাগ গরুই প্রথাগত খামারে ছকবাঁধা নিয়মে পালন করা হয় না। পাহাড়ের লতাপাতা ও প্রাকৃতিক ঘাস খেয়ে এগুলো বড় হয়। ফলে এসব গরুর মাংসে চর্বি থাকে না বললেই চলে এবং মাংসের স্বাদও সম্পূর্ণ আলাদা। এই বিশেষ গুণের কারণে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ক্রেতা ও বেপারিরা রাঙামাটির হাটগুলোতে ভিড় করছেন।চেলাছড়া গ্রামের খামারি ডলি চাকমা জানান, তিনি কোরবানির জন্য দুটি গরু লালন-পালন করেছিলেন, যা বেপারিরা বাড়িতে এসেই ১ লাখ ৯২ হাজার টাকায় কিনে নিয়েছেন। সঠিক দাম পেয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমাদের লস হওয়ার প্রশ্নই আসে না। আমরা গরুকে খামারে আলাদা খাবার খাইয়ে পালি না। পাহাড়ে চড়ে তাজা ঘাস খেয়ে এগুলো বড় হয়, তাই বাড়তি কোনো বিনিয়োগ করতে হয় না।'একইভাবে নিজের পাহাড়ে গরু ছেড়ে দিয়ে বড় করা আরেক বিক্রেতা কালা জান চাকমা এক জোড়া গরুর দাম চাচ্ছেন আড়াই লাখ টাকা। ক্রেতারা ২ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম তুললেও তিনি ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা হলে ছেড়ে দেবেন বলে জানান।চট্টগ্রাম থেকে আসা ক্রেতা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, 'বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে গত চার বছর ধরে আমি রাঙামাটি থেকে কোরবানির গরু কিনি। এখানকার গরুর মাংসের স্বাদ আলাদা ও চর্বিমুক্ত। পাহাড়ের উন্মুক্ত পরিবেশে চড়ে বেড়ানোর কারণে এই গরুগুলো সমতলের চেয়ে আলাদা।'তবে বাইরের জেলা থেকে প্রচুর ক্রেতা ও বেপারি আসার কারণে স্থানীয় ক্রেতারা কিছুটা বিপাকে পড়েছেন। স্থানীয় ক্রেতা জয়নাল হোসেন বলেন, বাইরের বেপারিরা বেশি দাম দিয়ে গরু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ফলে স্থানীয় ক্রেতাদের প্রতি বছরই কোরবানির বাজেট বাড়াতে হচ্ছে।আরও পড়ুন: হাটে চাপ বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত দাম বলছেন না ক্রেতারা, দুশ্চিন্তায় খামারিকাউখালী গরুর হাটের ইজারাদার মো. বাবুল মিয়া জানান, হাটে গরুর সরবরাহ ও বেচাকেনা বেশ ভালো। বাজারে ৫০ হাজার থেকে শুরু করে ৬ লাখ টাকা দামের গরু রয়েছে। তবে ৯০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা দামের মাঝারি গরুর বিক্রি সবচেয়ে বেশি।রাঙামাটি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. আবু সাদাৎ মোহাম্মদ সায়েম জানান, চলতি বছর রাঙামাটি জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৪৬ হাজার। এর বিপরীতে জেলায় প্রস্তুত করা হয়েছে ৫৬ হাজার পশু। অর্থাৎ চাহিদার চেয়ে ১০ হাজার বেশি পশু মজুত রয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে এই বাড়তি পশুকুলাও সহজেই বিক্রি হয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।তিনি আরও জানান, জেলার ১০টি উপজেলায় মোট ১৯টি পশুর হাট বসেছে। হাটে যাতে কোনো অসুস্থ পশু বিক্রি না হতে পারে, সেজন্য ভেটেরিনারি সার্জনদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছে।
Go to News Site