Somoy TV
দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত করার জোরালো তাগিদ দিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, খেলাধুলার প্রতি প্রকৃত যাদের আগ্রহ আছে, এমন ক্রীড়াপ্রেমীরাই যেন দেশের সব ডিসিপ্লিন পরিচালনা করে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।শনিবার (২৩ মে) সকালে যশোরের হামিদপুরে অবস্থিত শামসুল হুদা ফুটবল একাডেমিতে ‘এএফসি গ্রাসরুট ফুটবল ডে’ ও ‘ওয়ার্ল্ড ফুটবল ডে’র অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ফিফা ও এএফসির নির্দেশনায় এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ব্যবস্থাপনায় এই উৎসবের আয়োজন করা হয়।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ক্ষোভ ও আশা প্রকাশ করে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, 'বাংলাদেশে সর্বত্রই দুর্বৃত্তায়ন। এখন ভালো মানুষ খুঁজে পাওয়া যায় না। নিঃস্বার্থ ক্রীড়ামোদী প্রজাতি ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আমাদের এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।'তৃণমূলের ক্রীড়া খাতের উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছোট ছোট খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন। এগুলো মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হলে দেশের সামগ্রিক ক্রীড়াঙ্গনে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।'বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত শামসুল হুদা ফুটবল একাডেমি ঘুরে দেখে নিজের মুগ্ধতার কথা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এই ধরণের একটা আধুনিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে পারে, এটি আমাদের ক্রীড়াঙ্গনের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত আশার কথা।তিনি বলেন, 'বাংলাদেশে সর্বত্রই দুর্বৃত্তায়ন। নিঃস্বার্থ ক্রীড়ামোদী প্রজাতি ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। খেলাধুলাকে এর থেকে মুক্ত করতে হবে।'আরও পড়ুন: বেগম জিয়াকে দেখেই রাজনীতিতে এসেছি: স্পিকারভোরের আলো ফুটতেই এদিন খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন ফুটবল একাডেমি থেকে আসা ৮০০ ক্ষুদে বালক ও বালিকা ফুটবলারের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে একাডেমি প্রাঙ্গণ। গ্রুপভিত্তিক প্রীতি টুর্নামেন্টের এই উৎসবে অংশ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বাঘারপাড়ার ক্ষুদে নারী ফুটবলার নাজমা এবং রাজশাহীর সালমান হাসান। তারা জানায়, এই ধরনের একাডেমি থেকে উন্নত প্রশিক্ষণ নিয়ে ভবিষ্যতে জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন দেখে তারা।অনুষ্ঠানে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল ফুটবল ও দেশের সামগ্রিক ক্রীড়া কাঠামো নিয়ে সরকারের সুদূরপ্রসারী মহাপরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, 'তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসারে স্কুল লেভেলে চতুর্থ শ্রেণি থেকে অন্তত চারটি খেলা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে খেলোয়াড়দের অনুশীলনের সুযোগ দিতে সরকার অত্যাধুনিক জিমনেসিয়াম, ফিজিও সেন্টার ও প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্রসহ লজিস্টিক সাপোর্ট নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদেও খেলাধুলা ও ক্রীড়া আইন নিয়ে যেন নিয়মিত গঠনমূলক আলোচনা ও বাজেট বরাদ্দ বাড়ে, সেই চেষ্টা চালানো হচ্ছে।'উৎসবমুখর এই অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো চার্লোস এবং পাকিস্তানের ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট অ্যাটাচি জায়ান আজিজ।
Go to News Site