Collector
চামড়া রফতানি পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ, কিন্তু চাপ বাড়াচ্ছে বৈশ্বিক মন্দা | Collector
চামড়া রফতানি পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ, কিন্তু চাপ বাড়াচ্ছে বৈশ্বিক মন্দা
Somoy TV

চামড়া রফতানি পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ, কিন্তু চাপ বাড়াচ্ছে বৈশ্বিক মন্দা

বর্জ্য শোধনাগারের ছাড়পত্র না থাকায় এবং বৈশ্বিক সংস্থা লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ (এলডব্লিউজি) সনদ না থাকায় গত ১০ বছর ধরে দেশের চামড়া রফতানিতে চলছে ছন্দপতন। এতে একদিকে ইউরোপ-আমেরিকার বাজার হাতছাড়া হয়েছে। অন্যদিকে চামড়ার বড় ক্রয়াদেশ যাচ্ছে ভারত, ভিয়েতনাম ও চীনের মতো দেশে। আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চামড়া ব্যবসায়ীদের ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে রফতানি আয় পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে সরকার। তবে বৈশ্বিক বাজারের মন্দা, ডলারের ঊচ্চমূল্য এবং প্রক্রিয়াকরণের বাড়তি খরচ নিয়ে লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।প্রতি বছর কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি চামড়া সংগ্রহ করা হলেও গত এক দশকে রফতানি বাজারে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। একসময় উন্নতমানের কাঁচা চামড়া রফতানিতে বাংলাদেশ চীন, ইতালি, স্পেন, ভিয়েতনাম, হংকং, জাপান, ভারত, তুরস্ক ও দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিল। এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নামী ব্র্যান্ডগুলোর বড় সরবরাহকারী হয়ে উঠেছে ভারত। একই বাজারে অংশীদারিত্ব বাড়িয়েছে ভিয়েতনাম ও পাকিস্তান। পাশাপাশি ফ্যাশন ব্র্যান্ড ও কাঁচামাল সরবরাহে শক্ত অবস্থানে রয়েছে চীন। ২০০৩ সাল থেকে সাভার ট্যানারি শিল্পনগরীতে খরচ বাড়লেও দুর্বল ব্যবস্থাপনা এবং অপর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) থাকার কারণে এলডব্লিউজি সনদ পাওয়া যায়নি। ফলে ইউরোপ ও আমেরিকার বড় বাজারগুলোও ধীরে ধীরে হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, এখন আমরা ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ চামড়া চীনে বিক্রি করি। কারণ আপগ্রেড চামড়ার যে বাজার ছিল, সেটা এখন কমে গেছে। কোরিয়া, তাইওয়ান, ইতালি, স্পেন, জার্মানি-এই বাজারগুলোতে কমপ্লায়েন্স সমস্যার কারণে আমরা আর আগের মতো বিক্রি করতে পারছি না। আরও পড়ুন: চামড়া খাতে দ্বিমুখী চাপ, বাজেটে কর কমানোর দাবি ২০১৩-১৪ অর্থবছর থেকে গত ১০ বছরের বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাভারের সিইটিপির আন্তর্জাতিক মান না থাকা এবং পরিবেশগত ঝুঁকির কারণে ক্রয়াদেশ চলে গেছে ভারত ও ভিয়েতনামে। বাংলাদেশের প্রধান রফতানি বাজার এখন চীন, যেখানে তুলনামূলক কম দাম পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকা থেকে সোর্সিং করে ভিয়েতনামে উৎপাদনের মাধ্যমে চীন বৈশ্বিক চামড়া শিল্পে নতুন কৌশল তৈরি করেছে, যা বাংলাদেশের বাজার পরিস্থিতিকে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। তবে সে বাজার আবার ঘরে ফেরাতে চায় সরকার। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, এই খাতের শিল্পে কাঁচামাল সহজে সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বিদেশি চামড়াজাত পণ্য যাতে দেশের বাজার দখল না করতে পারে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। দেশীয় বাজার ধরে রেখে রফতানি বৃদ্ধির দিকেও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। চলতি বছরে বিশ্ববাজারে চামড়ার দাম নিম্নমুখী। অন্যদিকে ব্যাংক ঋণ পরিশোধের চাপ থাকায় গুদামজাত করে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার সুযোগও কমে গেছে। ফলে সরকারের উদ্যোগ থাকলেও আসন্ন ঈদে বহুমুখী চাপ ও লোকসানের শঙ্কায় আছেন ব্যবসায়ীরা। বিটিএর ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, আগে যেখানে শুল্ক ছিল ৩৫ শতাংশ, এখনো তা একই আছে। তবে আগে যেভাবে হিসাব হতো, এখন উচ্চ মূল্যের ভিত্তিতে শুল্ক ধরা হচ্ছে, ফলে খরচ অনেক বেড়ে গেছে। আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কাঁচা চামড়া কেনার জন্য ব্যবসায়ীদের চলতি মূলধন ঋণের সীমা গত দুই বছরের তুলনায় বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

Go to News Site