Jagonews24
ঈদ মানেই নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা। কেউ যাচ্ছেন লঞ্চে, কেউ বাসে, আবার কেউ ট্রেনে করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিচ্ছেন প্রিয়জনের কাছে। তবে আনন্দের এই যাত্রা অনেক সময় ছোটখাটো শারীরিক সমস্যার কারণে অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে। দীর্ঘ ভ্রমণ, অনিয়মিত খাবার, গরম আবহাওয়া কিংবা অতিরিক্ত ভিড়-সব মিলিয়ে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিও থাকে বেশ। তাই ঈদযাত্রায় ব্যাগ গোছানোর সময় কাপড় কিংবা উপহারের পাশাপাশি কিছু প্রয়োজনীয় মেডিসিনও রাখতে হবে গুরুত্ব দিয়ে। ভ্রমণে কেন প্রয়োজন মেডিসিন? অনেক সময় যাত্রাপথে কাছাকাছি ফার্মেসি পাওয়া যায় না। আবার যানজট বা গভীর রাতে অসুস্থ হলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসাও কঠিন হয়ে পড়ে। তাই আগে থেকেই কিছু জরুরি ওষুধ সঙ্গে রাখলে ছোটখাটো সমস্যা সহজেই সামাল দেওয়া সম্ভব। বাগেরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. সাকিয়া হক বলেন, ‘ঈদে দীর্ঘ ভ্রমণে ক্লান্তি, পানিশূন্যতা, গ্যাস্ট্রিক, মাথাব্যথা কিংবা ঠান্ডাজনিত সমস্যা খুব সাধারণ বিষয়। তাই ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু প্রাথমিক ওষুধ সঙ্গে রাখা উচিত। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি।’ ডা. সাকিয়া হক বলেন, ঈদে দীর্ঘ ভ্রমণে ক্লান্তি, পানিশূন্যতা, গ্যাস্ট্রিক, মাথাব্যথা কিংবা ঠান্ডাজনিত সমস্যা খুব সাধারণ বিষয়। তাই ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু প্রাথমিক ওষুধ সঙ্গে রাখা উচিত। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। আরও পড়ুন: কোরবানির ব্যস্ততার আগে সেরে ফেলুন এই বাজার পশুর হাটে যাওয়ার আগে জেনে নিন করণীয়-বর্জনীয় যেসব ওষুধ অবশ্যই রাখবেন জ্বর ও ব্যথার ওষুধ: হঠাৎ জ্বর, মাথাব্যথা বা শরীর ব্যথা দেখা দিতে পারে। তাই প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সঙ্গে রাখুন। গ্যাস্ট্রিক ও বদহজমের ওষুধ: ঈদে খাবারের অনিয়ম প্রায় সবারই হয়। অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবারে অম্বল, গ্যাস বা বদহজম হতে পারে। এন্টাসিড বা গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ সঙ্গে রাখলে উপকার পাওয়া যায়। ডায়রিয়া ও বমির জন্য: ভ্রমণের সময় বাইরের খাবার খাওয়ার কারণে অনেকের পেটের সমস্যা দেখা দেয়। এজন্য ওআরএস, ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণের ওষুধ ও বমি প্রতিরোধক ওষুধ রাখতে পারেন। ঠান্ডা-কাশির ওষুধ: আবহাওয়ার পরিবর্তন বা ধুলাবালির কারণে সর্দি-কাশি হতে পারে। তাই প্রয়োজনীয় কফ সিরাপ বা অ্যালার্জির ওষুধ রাখা ভালো। ব্যক্তিগত নিয়মিত ওষুধ: যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাঁপানি বা হৃদরোগ আছে, তারা নিয়মিত ব্যবহারের ওষুধ পর্যাপ্ত পরিমাণে সঙ্গে রাখবেন। প্রেসক্রিপশনের কপি রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। ছোট্ট একটি মেডিকেল কিট রাখুন: একটি ছোট ব্যাগে রাখতে পারেন- ব্যান্ডেজ, এন্টিসেপটিক ক্রিম, তুলা ও গজ, থার্মোমিটার, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক। এসব জরুরি মুহূর্তে বেশ কাজে আসে। অন্যদিকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের কনসালটেন্ট ও বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. সাঈদ হোসেন বলেন, ‘ঈদযাত্রায় অনেকেই পর্যাপ্ত পানি পান করেন না, যা শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করে। তাই বিশুদ্ধ পানি পান করা, হালকা খাবার খাওয়া এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো রোগী যদি নিয়মিত ওষুধ খান, তাহলে যাত্রার আগে সেগুলো আলাদা করে গুছিয়ে নেওয়া উচিত।’ ডা. মো. সাঈদ হোসেন বলেন, ‘ঈদযাত্রায় অনেকেই পর্যাপ্ত পানি পান করেন না, যা শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করে। তাই বিশুদ্ধ পানি পান করা, হালকা খাবার খাওয়া এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো রোগী যদি নিয়মিত ওষুধ খান, তাহলে যাত্রার আগে সেগুলো আলাদা করে গুছিয়ে নেওয়া উচিত।’ শিশু ও বয়স্কদের জন্য বাড়তি সতর্কতা শিশুদের ক্ষেত্রে জ্বর, বমি বা ডায়রিয়ার ওষুধ আলাদা করে রাখতে হবে। অন্যদিকে বয়স্কদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রেসক্রিপশন, ইনহেলার বা সুগার মাপার যন্ত্র সঙ্গে রাখা ভালো। যাত্রাপথে যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখবেন অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন পর্যাপ্ত পানি পান করুন মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহার করবেন না চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না শিশুদের ওষুধ আলাদা করে রাখুন ঈদের আনন্দ যেন অসুস্থতায় ম্লান না হয়ে যায়, তাই একটু সচেতনতা আর ছোট্ট প্রস্তুতিই হতে পারে স্বস্তিদায়ক ভ্রমণের চাবিকাঠি। প্রয়োজনীয় মেডিসিন সঙ্গে রাখুন, নিরাপদ থাকুন, আনন্দে কাটুক ঈদের যাত্রা। জেএস
Go to News Site