Collector
বিচারহীনতার সংস্কৃতি কি বাড়াচ্ছে শিশু নির্যাতন? | Collector
বিচারহীনতার সংস্কৃতি কি বাড়াচ্ছে শিশু নির্যাতন?
Somoy TV

বিচারহীনতার সংস্কৃতি কি বাড়াচ্ছে শিশু নির্যাতন?

একের পর এক নির্যাতনের ঘটনা সামনে আসছে, কিন্তু বিচার পৌঁছাচ্ছে না ভুক্তভোগীদের দরজায়। দীর্ঘসূত্রতা, ঝুলে থাকা মামলা আর ধীরগতির বিচারপ্রক্রিয়া যেন অপরাধীদের জন্য তৈরি করছে নীরব প্রশ্রয়। ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের মাঝেও আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে বিচার বিভাগের ওপর।যে বয়সে প্রজাপতির ডানায় ভর করে ছুটে বেড়ানোর কথা, রঙিন শৈশব নিয়ে পৃথিবীকে নতুন করে আবিষ্কার করার কথা, সেই বয়সেই থেমে গেছে কত নিষ্পাপ প্রাণের গল্প। ফুল হয়ে ফোটার আগেই অমানুষের হিংস্র থাবা কেড়ে নিয়েছে তাদের জীবন। রামিসা, আছিয়া, মুনতাহা, লামিয়ারা ছিল সম্ভাবনায় ভরা ছোট ছোট ফুল। কিন্তু মানুষরূপী হায়েনাদের নির্মমতায় অঙ্কুরেই ঝরে গেছে তাদের জীবন। স্বপ্ন দেখার আগেই থেমে গেছে তাদের শৈশব, স্তব্ধ হয়ে গেছে একটি সুন্দর ভবিষ্যতের সম্ভাবনা। ধীরে ধীরে কমে আসে প্রতিবাদের স্রোত। একটার পর একটা ঘটনায় বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যায় আগের নির্মমতার গল্প। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য বলছে, গত ৪ মাসে দেশের অন্তত ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার। এদের প্রত্যেকের বয়স ৭ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। ২০২৫ সালে ধর্ষণের শিকার ৩২৩ শিশু, যাদেরও বয়স ৪ থেকে ১৮ বছর। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইন, ২০০০ অনুযায়ী ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির বিধান থাকলেও বাস্তবে একটি মামলা শেষ হতে গড়ে ৩ বছর ৭ মাস সময় লাগছে। আরও পড়ুন: রামিসা হত্যার বিচার দাবিতে ফুঁসছে দেশ, তবুও থামছে না শিশুর প্রতি সহিংসতা সাধারণ মানুষের মনে বিচার ব্যবস্থা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও সংশয় কাজ করছে। জনসাধারণের মতে, ‘যদি আমার রাস্তায় কিছু একটা হয় তখন আমি বিচার বিভাগের কাছে কি চাইবো? বিচার কি আদৌ হবে?’ অনেকের ধারণা, হাই প্রোফাইল ভিক্টিম না হলে মামলাগুলো কিছু দিন পরেই হারিয়ে যায় বা গুরুত্ব পায় না। দেশের মানুষ বা যারা দায়িত্বে আছেন, তাদের ওপর সাধারণ মানুষের ভরসার জায়গাটা এখন নেই বললেই চলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মামলা সংখ্যার অনুপাতে বিচারক সংখ্যার ঘাটতিতে চাপ সামাল দিতে পারছে না দেশের বিচার বিভাগ। সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, খন একজন আসামি হাইকোর্টে আপিল করে, তখন নিম্ন আদালতের রায়টি স্থগিত হয়ে থাকে। কারণ কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার পর আপিলে যদি সে নির্দোষ প্রমাণিত হয়, তবে তাকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তাই অভিযোগের ভিত্তিতে সঙ্গে সঙ্গে সাজা কার্যকরের যে দাবি ওঠে, তা মূলত মানুষের ক্ষোভ বা ফ্রাস্ট্রেশন থেকে আসে, যা বাস্তবসম্মত নয়। আবার দেখা যায়, যেসব মামলা সবার বিবেককে নাড়িয়ে দেয়, কেবল সেই রকম বেছে বেছে কিছু মামলার দ্রুত রায় হচ্ছে, কিন্তু অন্য ভিক্টিমরাও সমান বিচারের দাবিদার। ন্যায়বিচার কোনো বিশেষ দয়া নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের অধিকার। আর সেই অধিকার নিশ্চিত করা বিচার বিভাগেরই দায়িত্ব। আইনের বেড়াজালে আটকে থাকা বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি অপরাধীদের যেন আরও সাহসী করে তুলছে। আজ যদি এই ১১৮টি শিশুর বিচার দ্রুত নিশ্চিত করা না যায়, তবে আগামীর বাংলাদেশে বিচার বিভাগের ওপর কতটা আস্থা রাখবে এই দেশের জনগণ; সেই প্রশ্ন এখন সবার।

Go to News Site