Collector
হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জে স্বস্তির ঈদযাত্রা উত্তরের পথে | Collector
হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জে স্বস্তির ঈদযাত্রা উত্তরের পথে
Jagonews24

হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জে স্বস্তির ঈদযাত্রা উত্তরের পথে

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে স্বজনদের কাছে ফিরতে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা শুরু হলেও যমুনা সেতুর পশ্চিমে সিরাজগঞ্জ মহাসড়কে এবার দেখা মিলছে ভিন্ন চিত্রের। অতীতের মতো দীর্ঘ যানজট ও ভোগান্তি না থাকায় স্বস্তিতে পথ পাড়ি দিচ্ছেন যাত্রীরা। সংশ্লিষ্টদের দাবি, মহাসড়কে নির্মিত ১১টি উড়াল সেতু এবং হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের সার্ভিস সড়ক চালু হওয়ায় এবারের ঈদযাত্রা অনেকটাই নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক হয়ে উঠেছে। দেশের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই প্রকল্পটি সম্পূর্ণরূপে চালু হলে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ২২ জেলার সঙ্গে রাজধানীর সড়ক যোগাযোগ যেমন সহজ হবে, তেমনি গতি পাবে ব্যবসা-বাণিজ্য। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে জাতীয় অর্থনীতিতে। এ বছরের আগস্টেই কাজ শেষের আশা প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের। উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল গোল চত্বর। ঢাকা-বগুড়া, ঢাকা-রাজশাহী, আর ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের সংযোগ স্থল এটি। দুই জাতীয় মহাসড়কের সংযোগস্থল এবং অন্তত ১০টি স্থলবন্দরের সড়ক যোগাযোগের কেন্দ্র এই গুরুত্বপূর্ণ মোড়। আর এখানেই গড়ে উঠছে দেশের সবচেয়ে বড় ও আন্তর্জাতিক মানের হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ। আলাদা ছয়টি র‍্যাম্প ও একটি গ্রাউন্ড রোড থাকবে ইন্টারচেঞ্জে। ঢাকামুখী ও উত্তর-দক্ষিণমুখী যান চলবে আলাদা র‍্যাম্প দিয়ে, আর ধীরগতির যান চলবে নিচের গ্রাউন্ড রোডে। ৭৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে চায়না রেলওয়ে ব্রিজ করপোরেশন। যা সম্পূর্ণ নির্মাণ শেষ হলে বদলে যাবে উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা। কমবে যানজট, তৈরি হবে নতুন শিল্পকারখানা, বাড়বে কর্মসংস্থান। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানায়, প্রকল্পটির কাজ ২০২২ সালে শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু তাতেও সম্পন্ন না হওয়ায় তৃতীয় দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের আগস্ট নির্ধারণ করা হয়। তবে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রথমে জমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে প্রায় দেড় বছর সময় নষ্ট হয়ে যায়। ফলে ৭৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের কাজের সময়কাল ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়। সেই সঙ্গে প্রকল্পের ব্যয়ও কিছুটা বেড়েছে। এদিকে ইন্টারচেঞ্জের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি রয়েছে ৩০ শতাংশ কাজ। আশা করা হচ্ছে, আগামী ১৬ ডিসেম্বর ইন্টারচেঞ্জটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে। এটি নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হলে জাতীয় ও আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্য এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কারণ, এটি দেশের উত্তর ও দক্ষিণঞ্চলের যানবাহন চলাচলের সংযোগস্থল। এ সংযোগস্থল দিয়ে প্রতিদিন ২০ থেকে ২২ হাজার যানবাহন চলাচল করে৷ তবে ঈদযাত্রায় এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৮ থেকে ৫৪ হাজার। সওজ সূত্র জানায়, মহাসড়কের নিরাপত্তা ও যাত্রীদের সেবার মান বাড়াতে সাসেক-২ প্রকল্পের ওয়ার্ক প্যাকেজ-১৩’র অধীনে আন্তর্জাতিক মানের হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জটি নির্মাণ করা হচ্ছে। যা বিভিন্ন দিক থেকে আসা যানবাহনগুলোকে নির্বিঘ্ন ও নিরবচ্ছিন্নভাবে চলাচল, সময় বাঁচানো ও পরিবহন ব্যবস্থার আমূল-পরিবর্তন আনবে। শুধু তাই নয়, স্থানীয় জনগণের চলাচল সহজ ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে এই প্রকল্পে আন্ডারপাস, ফুটপাত এবং জংশন পয়েন্ট বাস বে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়াও, হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের জন্য একটি হাইওয়ে সার্ভিস এরিয়া, একটি অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ (ওঅ্যান্ডএম) ভবন নির্মাণাধীন রয়েছে। সূত্রটি আরও জানায়, চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যুরো গ্রুপ কোং লিমিটেড নির্মাণকাজটি বাস্তবায়ন করছে এবং তিন বছরের নির্মাণকাল শেষে আগামী ছয় বছর রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা রংপুরগামী যাত্রীবাহী বাসের চালক উজ্জ্বল শেখ বলেন, হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের বগুড়া-রংপুরগামী লেনটি খুলে দেওয়ায় এবার ঈদ যাত্রা আরও স্বস্তিদায়ক হবে। কারণ বগুড়া ও রংপুর অঞ্চলের মানুষ কোন প্রকার বাধা ছাড়াই বাড়ি ফিরতে পারবে। হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ঈদুল আজহায় একদিকে মানুষ ঢাকা ছাড়বে, অন্যদিকে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চল থেকে পশুবাহী যানবাহনগুলো ঢাকার দিকে ছুটবে। যানবাহনের এই বিশাল দ্বিমুখী চাপ সামলাতে নির্মাণাধীন হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ উদ্বোধনের আগেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের প্রকল্প উপ-ব্যবস্থাপক শরফরাজ হোসাইন জাগো নিউজকে বলেন, উত্তরাঞ্চলের ৬০ ভাগ মানুষ বগুড়া-রংপুরগামী লেন ব্যবহার করে। যা আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র ইতোমধ্যে উন্মুক্ত করা হয়েছে। ফলে উত্তরাঞ্চলের মানুষ এবার আরও স্বস্তিতে বাড়ি ফিরবে। সড়ক ও জনপথ’র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এবং সাসেক-২ প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. ওয়ালিউর রহমান বলেন, উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়ে নির্মিত ইন্টারচেঞ্জটি আগামী ১৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে। ইন্টারচেঞ্জটির নির্মাণকাজ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। ইতোমধ্যে সব সার্ভিস লেনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। যার সুফল পরিবহন চালক ও যাত্রীরা উদ্বোধনের আগেই পেতে শুরু করেছে। এম এ মালেক/এনএইচআর/জেআইএম

Go to News Site