Jagonews24
কাজী মনজুর করিম মিতুল, প্রকৌশলী ও প্রাবন্ধিক ইসলাম ধর্মে সাম্যের যে বিশেষ মাহাত্ম্য আছে, তার একটা সুন্দর দৃষ্টান্ত তৈরি করে হজ। এখানে ভিআইপি, সিআইপি বলে কিছু নেই। ধনী-দরিদ্র, সাদা-কালো, সবাই এখানে এক। কে আমেরিকান, কে আফ্রিকান, কে ইরানি, কে পাকিস্তানি- সবার পরনে দুই টুকরা ইহরামের কাপড়, সবার জন্য একই নিয়ম, সবাইকে মসজিদের পুলিশের তাড়া খেতে হয়, বকা শুনতে হয়। তবু যারা বিত্তবান, তারা ভালো হোটেল, মিনায় বাড়তি কিছু সুযোগ সুবিধা ইত্যাদি পেয়ে থাকেন। হজের সেসব বিস্তারিত বর্ণনায় আজ যাব না। আজকের পর্বে তিনটি আত্মসমালোচনা করব, যেন ভবিষ্যতে যারা হজে যাবেন, তাদের হয়তো সচেতন করবে। ১. খাবার অপচয়: আমাদের দেশের মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে ভিক্ষুক ও হকার। আর এদেশে দাঁড়িয়ে থাকে সৌদির অধিবাসী বা তাদের প্রতিনিধিরা, তাদের কেউ আমাদের পানি দেয়, কেউ খাবার দেয়, কেউ বা বিনামূল্যে তসবিহ বিতরণ করে। আমরা হাজিরা হাত পেতে সেগুলো নিই। যার প্রয়োজন নেই, সেও খাবার/পানীয় নিই। তারপর কিছুটা খেয়ে বাকিটা নষ্ট করি। একই দৃশ্য হোটেলেও। খাবার নেওয়ার বিষয়ে কোনো সীমা নির্দিষ্ট করা নেই, তাই আমরা চোখের ক্ষুধা মেটাতে বেশি বেশি খাবার নিয়ে প্লেট ভরি। পেট ভরার পর অনেক খাবার ফেলে দিই। এটা কি ভালো? ২. ভিডিও কল: আমাদের আপনজনেরা দেশে আছে, তাদের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করি। কিন্তু ভিডিও কল কেন, তাও আবার মাসজিদে? অডিও কল কি যথেষ্ট নয়? তাদের সাথে আমাদের কী কথা হচ্ছে, তারা ঘরে কী পোশাক পরে আছে, তারা কী খাচ্ছে - এসব ব্যক্তিগত বিষয় চলে আসছে জন সমক্ষে। সেই সাথে মসজিদ, বাস/ট্রেন/বিমানে এভাবে কথা বলে অন্য হাজিদের ইবাদত ও মনোযোগ নষ্ট হচ্ছে। সবকিছু লাইভ দেখাতে হবে কেন? এটা কি ঠিক? ৩. জামাতে নামাজ আদায়: আমরা সবাই জানি, মসজিদের ভেতরে স্থান অপর্যাপ্ত। এত মানুষের ঠাঁই সেখানে হবে না। তবু আমরা আজানের পর ভেতরে ঢুকে নামাজরত ব্যক্তির সামনে/পেছনে দাঁড়িয়ে জায়গা তৈরির চেষ্টা করি। এতে তার নামাজের মন:সংযোগ নষ্ট হয়। অল্প জায়গায় বেশি মানুষ দাঁড়ালে কেউই ঠিকঠাক নামাজ আদায় করতে পারে না। তবু আমরা দেরি করে যাই, আবার ভেতরেই বসতে চাই, বাইরের চত্বরে অনেক জায়গাজুড়ে কার্পেট বিছানো আছে। তবু দেরি করে গিয়েও আমরা ভেতরে গিয়ে হুড়াহুড়ি করি। এটা কি সহীহ? একটা তীর্থযাত্রায় অনেক ঘটনা ঘটে। কিছু প্রীতিকর, কিছু অপ্রীতিকর। এটাও ধৈর্য বা সবরের পরীক্ষা। আল্লাহ তাঁর ঘরে আমাদের মেহমান হয়ে আসার তাওফিক দিয়েছেন। আমরা নিজেরাই যদি নিজেদের মর্যাদা না রাখতে পারি, তাহলে কীভাবে আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে দুহাত তুলে কিছু চাইব? সেই মুখ কি আমাদের থাকবে? এমআরএম
Go to News Site