Somoy TV
কোরবানির ঈদ সামনে রেখে রংপুরের ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী লালবাগ হাট এখন ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে মুখর। প্রতি রবি ও বুধবার বসা শহরের প্রাণকেন্দ্রের এই ঐতিহাসিক হাটে দুপুরের পর থেকেই ভিড় জমতে শুরু করে।নসিমন, করিমন আর ছোট পিকআপে করে গৃহস্থ ও খামারিরা নিয়ে আসছেন ছোট-বড় নানা আকারের গরু, ছাগল ও ভেড়া। তবে হাটজুড়ে এখন সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে একটি চেনা সুর 'দাম কত বাহে?'বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এবার হাটে পশুর সরবরাহ প্রচুর। গৃহস্থের গোয়ালঘর থেকে শুরু করে স্থানীয় বিভিন্ন খামারের পশুতে সয়লাব পুরো হাট। তবে পশুর এই প্রাচুর্যের মধ্যেও দাম নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে চলছে মনস্তাত্ত্বিক লড়াই।গৃহস্থের উঠান থেকে শুরু করে রংপুরের বিভিন্ন খামারসহ সব জায়গা থেকেই এবার পশু এসেছে সদরের লালবাগ হাটে। ছোট আকৃতির গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার মধ্যে। আর মাঝারি ও বড় গরুর দাম হাঁকছেন ১ লাখ থেকে ৩ লাখ পর্যন্ত।বিক্রেতারা বলছেন, হাটে প্রচুর মানুষ এলেও প্রকৃত ক্রেতার সংখ্যা কম। সবাই ঘুরে ঘুরে দাম দেখছেন, কিন্তু চূড়ান্তভাবে কেনার সিদ্ধান্ত নিতে সময় নিচ্ছেন।রংপুরের মাহিগঞ্জ থেকে তিনটি গরু নিয়ে হাটে এসেছেন রহিম উদ্দিন। তিনি বলেন, 'দুটি ছোট আর একটা বড় গরু নিয়ে সকাল থেকে দাঁড়িয়ে আছি। দাম জিজ্ঞেস করছে অনেকেই, কিন্তু কিনতে চাইছে না। এবার পশুখাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় লালন-পালনের খরচ বেড়েছে। তাই হিসাব করেই দাম চাচ্ছি, কিন্তু ক্রেতারা তা বুঝতে চাইছেন না।'আরও পড়ুন: চাহিদা কম বড় গরুর, ছোট আর মাঝারিতে ঝুঁকছে ক্রেতাএকই আক্ষেপ গঙ্গাচড়া থেকে আসা বিক্রেতা সজীবের। নিজের যত্নে লালন-পালন করা একটি বড় ষাঁড় নিয়ে এসেছেন তিনি। সজীব বলেন, 'গরুটির দাম চাচ্ছি ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। শুধু সাধারণ খড়-ভুসি নয়, ওকে নিয়মিত ফলমূল খাইয়ে বড় করেছি। কিন্তু হাটে এসে দেখছি ক্রেতারা মনের মতো দাম বলছে না। তবে আশা করছি ঈদের ঠিক আগে আগে ভালো দামে বিক্রি করতে পারব।'বিক্রেতারা যখন লোকসানের আশঙ্কায় চিন্তিত, ক্রেতাদের অভিযোগ তখন সম্পূর্ণ উল্টো। তাদের দাবি, গত বছরের তুলনায় এবার দাম অনেকটাই চড়া।হাটে গরু কিনতে আসা স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী করিম আলী বলেন, 'একটি লাল রঙের গরু পছন্দ হয়েছে। আমি দাম বলেছি ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, কিন্তু বিক্রেতা ১ লাখ ৬০ হাজারের নিচে ছাড়বেন না। এবার বাজার সাধারণ মানুষের বাজেটের বাইরে চলে গেছে। আজকে মনের মতো দামে না পেলে চাঁদ রাতের অপেক্ষায় থাকতে হবে।'শহরের কেন্দ্রস্থলে হওয়ায় লালবাগ হাটে বরাবরের মতোই সাধারণ মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ শুধু কিনতে নয়, ঐতিহ্যবাহী এই হাটের আমেজ দেখতেও আসছেন।
Go to News Site