Somoy TV
ফেসবুকে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দেখে অল্প খরচে বিদেশ ভ্রমণের স্বপ্নে বিভোর হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। নিশ্চিত ভিসা আর দ্রুত প্রসেসিংয়ের লোভনীয় প্রস্তাবে লাখ লাখ টাকা তুলে দিয়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন তারা। সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনলাইনে সক্রিয় একাধিক প্রতারক চক্র ভিজিট ভিসার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।বিদেশগামী মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সিলেট অঞ্চলের বাসিন্দারাই এখন এসব চক্রের প্রধান টার্গেটে পরিণত হয়েছেন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ফেসবুকে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে বিদেশ পাঠানোর আশ্বাস দেয়া হলেও বাস্তবে তাদের কোনো বৈধ অফিস কিংবা সরকারি অনুমোদন নেই। যোগাযোগ করা হয় শুধুমাত্র হোয়াটসঅ্যাপে এবং ব্যবহার করা হয় বিদেশি নম্বর। কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই শুধু পাসপোর্ট জমা দিলেই ভিসা হয়ে যাবে বলে প্রলোভন দেখানো হয় সাধারণ মানুষকে। প্রলোভনে পা দেয়ার পর বিকাশ, নগদ কিংবা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ধাপে ধাপে টাকা নেয়া হয়। চার থেকে সাত দিনের মধ্যে পাঠানো হয় কথিত ভিসার কপি। কিন্তু যাচাইয়ে দেখা যায়, এর অধিকাংশই জাল বা ভুয়া। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতারক চক্রের সদস্যরা প্রথমে বিশ্বাস অর্জনের জন্য কথাবার্তায় অত্যন্ত পেশাদার আচরণ করে। কেউ কেউ নিজেদের আন্তর্জাতিক ট্রাভেল কনসালট্যান্ট কিংবা অনুমোদিত এজেন্সির প্রতিনিধি হিসেবেও পরিচয় দেয়। তবে টাকা নেয়ার পর যোগাযোগ কমিয়ে দেয় তারা। ভুয়া ভিসা দেয়ার পর আইনি পদক্ষেপ নিতে চাইলে বা কেউ প্রতিবাদ করলে উল্টো হুমকি পর্যন্ত দেয়া হয়। সিলেটের কয়েকজন যুবক সময় সংবাদকে জানান, বিদেশ যাওয়ার আশায় জমি বিক্রি কিংবা ধারদেনা করে টাকা জোগাড় করেছিলেন তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভিসা জাল প্রমাণিত হওয়ায় এখন নিঃস্ব অবস্থায় দিন কাটছে তাদের। আরও পড়ুন: ‘ফ্রি ভিসার ফাঁদ’: মালদ্বীপে ভোগান্তি ও বেকারত্বের শিকার বহু বাংলাদেশি অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে সময় সংবাদের পক্ষ থেকে ‘ইবিএস এক্সপার্ট এজেন্সি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের জিডিএস অ্যান্ড টেকনিক্যাল এক্সপার্ট মাহমুদুল হাসানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, বিমানবন্দরে কিছু অর্থ খরচ করলেই সমস্যার সমাধান সম্ভব হতো। তবে সেই বক্তব্য সরাসরি নাকচ করেছেন ইমিগ্রেশন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম সময় সংবাদকে মুঠোফোনে জানান, জাল ভিসা বা ভুয়া কাগজপত্র নিয়ে কেউ বিদেশ যেতে চাইলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়। কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তা সমাধানের সুযোগ নেই। এ বিষয়ে সিলেট জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দা শিরীন আক্তার সময় সংবাদকে জানান, প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত আইনি সহায়তা নেয়া জরুরি। একইসঙ্গে লাইসেন্সবিহীন অনলাইন এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। আরও পড়ুন: ঈদুল আজহা ঘিরে ভারতীয় ভিসা সেন্টার বন্ধ থাকবে কতদিন? সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী সময় সংবাদকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জানান, অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে র্যাব-৯, সিলেটের উপ-অধিনায়ক মেজর আসিফ আল রাজেক বলেন, ‘অনলাইন প্রতারণা ঠেকাতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, কেন প্রতারিত হওয়ার পরও অনেকে অভিযোগ করতে ভয় পাচ্ছেন? কার ছত্রছায়ায় গড়ে উঠছে এসব ভুয়া এজেন্সি? আর কেন দৃশ্যমানভাবে বন্ধ করা যাচ্ছে না ফেসবুকভিত্তিক এই প্রতারণা? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে প্রলুব্ধ না হয়ে আগে প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স, বৈধতা এবং সরকারি অনুমোদন যাচাই করা জরুরি। পাশাপাশি প্রযুক্তিজ্ঞান বাড়ানো এবং প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত অভিযোগ করারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়া অনলাইন প্রতারণা রোধে সচেতনতার পাশাপাশি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং ভুক্তভোগীদের সাহসী ভূমিকাকেই এখন সবচেয়ে জরুরি মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Go to News Site