Somoy TV
হুমকির মুখে পড়ছে সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য। একের পর এক প্রাণ হারাচ্ছে কচ্ছপসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণী। চলতি বছরেই কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এসেছে অন্তত ১০টি কচ্ছপ, যার বেশিরভাগই মৃত। তবে এখনো কোনো বৈজ্ঞানিক ময়নাতদন্ত না হওয়ায় এসব মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অজানাই রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, অবৈধ জাল, মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ এবং পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা এসব মৃত্যুর পেছনে প্রধান কারণ হতে পারে।ঢেউয়ের সঙ্গে কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে আসছে সামুদ্রিক কচ্ছপ। কখনো মৃত, আবার কখনো আহত অবস্থায় পাওয়া যাচ্ছে এসব প্রাণী। তবে অধিকাংশের শরীরেই স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। গত ১৬ মে সৈকতে আহত অবস্থায় ভেসে আসে প্রায় ৩৫ কেজি ওজনের একটি অলিভ রিডলি প্রজাতির সামুদ্রিক কচ্ছপ। পরে বন বিভাগ ও পরিবেশবাদী সংগঠন সেটির চিকিৎসা দিয়ে আবারও সাগরে অবমুক্ত করে। তার কিছুদিন আগেই সৈকতে পাওয়া যায় প্রায় ৪০ কেজি ওজনের একটি মৃত মা কচ্ছপ। ডলফিন ও কচ্ছপ রক্ষা কমিটির তথ্য বলছে, শুধু চলতি মাসেই কুয়াকাটা উপকূলে ভেসে এসেছে অন্তত ৮টি মৃত কচ্ছপ। জীবিত উদ্ধার হয়েছে আরও ২টি। আর গত আট বছরে মৃত কচ্ছপ উদ্ধারের সংখ্যা ৩০টিরও বেশি। পরিবেশকর্মীদের অভিযোগ, বারবার দাবি জানানো হলেও এসব মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কার্যকর গবেষণা হয়নি। কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, সরকারি সংস্থাগুলো যারা এসব নিয়ে কাজ করছে তারা যেন অন্তত এটুকু তথ্য দিতে পারে যে কী কারণে এসব কচ্ছপ মারা যাচ্ছে। আরও পড়ুন: কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এলো জীবিত সামুদ্রিক কচ্ছপ উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু বলেন, কচ্ছপ, ডলফিন, জেলিফিশ থেকে শুরু করে তিমির অনেক সময় আমরা মৃত্যুর চিহ্ন দেখতে পাই, আঘাতের দাগ দেখতে পাই। অনেক সময় কচ্ছপের হাত-পায়ে জাল আটকে থাকার ঘটনাও দেখা যায়। সৈকতে আহত অবস্থায় ভেসে এসেছে একটি কচ্ছপ। ছবি: সময় সংবাদ বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধ ট্রলিং জাল, গভীর সমুদ্রে ব্যবহৃত টোন জাল, প্লাস্টিক ও মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ; এসব কারণেই সামুদ্রিক প্রাণীরা মারা যাচ্ছে। শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক বিভাগীয় চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, উপকূলীয় এই অঞ্চলটি মাছ ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর ব্রিডিং ও নার্সিং গ্রাউন্ড হিসেবে বিবেচিত। তাই এখানে ট্রলিং নিষিদ্ধ রাখার পাশাপাশি জেলেদের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। জেলা মৎস্য বিভাগ বলছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে দীর্ঘমেয়াদি বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, গবেষণার মাধ্যমে জানতে হবে আসলে কী কারণে কচ্ছপ বা অন্যান্য জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে। কারণ অনুসন্ধানের পর সরকার যে নির্দেশনা দেবে, সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। কুয়াকাটা উপকূলে ভেসে আসা অধিকাংশ কচ্ছপই অলিভ রিডলি প্রজাতির। এরা জেলিফিশ, কাঁকড়া, চিংড়ি ও ছোট মাছ খেয়ে বেঁচে থাকে। দেশের অগভীর সমুদ্র এলাকায় এদের নিয়মিত দেখা মেলে।
Go to News Site