Collector
ঈদে বাড়ি যাচ্ছেন, ফ্রি ওয়াই-ফাই কানেক্ট করে বিপদে পড়তে পারেন | Collector
ঈদে বাড়ি যাচ্ছেন, ফ্রি ওয়াই-ফাই কানেক্ট করে বিপদে পড়তে পারেন
Jagonews24

ঈদে বাড়ি যাচ্ছেন, ফ্রি ওয়াই-ফাই কানেক্ট করে বিপদে পড়তে পারেন

ঈদের ছুটি মানেই নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা। বাস, ট্রেন, লঞ্চ কিংবা বিমানবন্দর যাত্রাপথে একটু ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পেলেই অনেকেই ঝটপট কানেক্ট করে ফেলেন ফ্রি ওয়াই-ফাইয়ে। দেখতে নিরীহ মনে হলেও এই অভ্যাসই ডেকে আনতে পারে ভয়ংকর বিপদ। আপনার মোবাইল ব্যাংকিং, ফেসবুক, ই-মেইল, এমনকি ব্যক্তিগত ছবিও চলে যেতে পারে হ্যাকারদের হাতে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঈদ বা বড় ছুটির সময় সাইবার অপরাধীরা সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে। কারণ এই সময় মানুষ ব্যস্ত থাকে ভ্রমণ, কেনাকাটা ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে। ফলে নিরাপত্তার বিষয়গুলো অনেকেই গুরুত্ব দেন না। আর সেই সুযোগটাই নেয় প্রতারক চক্র। কীভাবে ফাঁদ পাতে হ্যাকাররা? ধরুন আপনি বাস টার্মিনালে বসে আছেন। হঠাৎ ফোনে ভেসে উঠল ‘ফ্রি এয়ারপোর্ট ওয়াই-ফাই’ বা ‘ঈদ ফ্রি ইন্টারনেট’ নামের একটি নেটওয়ার্ক। অনেকেই না ভেবেই কানেক্ট করে ফেলেন। কিন্তু এসব নেটওয়ার্কের অনেকগুলোই আসলে ভুয়া। হ্যাকাররা আসল ওয়াই-ফাইয়ের মতো নাম ব্যবহার করে নকল নেটওয়ার্ক তৈরি করে। আপনি সেটিতে যুক্ত হলেই আপনার মোবাইলের তথ্য তাদের নজরদারিতে চলে যায়। একে বলা হয় ‘ম্যান-ইন-দ্য-মিডল অ্যাটাক’। অর্থাৎ আপনি যা করছেন, তা মাঝপথেই নজরদারি করা সম্ভব হয়। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে যেসব তথ্য ফ্রি ওয়াই-ফাই ব্যবহার করার সময় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ে— মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ ফেসবুক ও ই-মেইলের পাসওয়ার্ড বিকাশ, নগদ বা রকেট অ্যাকাউন্ট ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও অফিসের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের তথ্য অনেক সময় ফোনে অজান্তেই ম্যালওয়্যার বা স্পাইওয়্যার ঢুকে যেতে পারে। পরে সেটি আপনার ফোনের তথ্য গোপনে চুরি করতে থাকে। শুধু তরুণ নয়, ঝুঁকিতে সব বয়সীরা অনেকে মনে করেন শুধু তরুণরাই সাইবার প্রতারণার শিকার হন। বাস্তবে বিষয়টি ভিন্ন। ঈদের সময় গ্রামের বাড়ি যেতে গিয়ে মধ্যবয়সী ও বয়স্ক মানুষও এখন স্মার্টফোন ব্যবহার করেন বেশি। ভিডিও কল, ইউটিউব দেখা বা অনলাইনে টিকিট চেক করতে গিয়েই তারা ফ্রি ওয়াই-ফাইয়ে যুক্ত হন। অথচ নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা কম থাকায় তারাই সবচেয়ে সহজ টার্গেটে পরিণত হন। যেভাবে নিরাপদ থাকবেন ১. অচেনা ওয়াই-ফাই এড়িয়ে চলুন পাসওয়ার্ডবিহীন বা সন্দেহজনক নামের নেটওয়ার্কে কানেক্ট করবেন না। প্রয়োজনে নিজের মোবাইল ডেটা ব্যবহার করুন। ২. ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহার করবেন না ফ্রি ওয়াই-ফাই ব্যবহার করার সময় কখনো মোবাইল ব্যাংকিং বা অনলাইন পেমেন্ট করবেন না। ৩. ভিপিএন ব্যবহার করতে পারেন বিশ্বস্ত ভিপিএন ব্যবহার করলে আপনার ইন্টারনেট ব্যবহার কিছুটা সুরক্ষিত থাকে। ৪. অটো কানেক্ট অপশন বন্ধ রাখুন অনেক ফোনে আগের সংযুক্ত নেটওয়ার্কে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কানেক্ট হয়ে যায়। এই সেটিং বন্ধ রাখা ভালো। ৫. টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখুন ফেসবুক, জি-মেইল বা ব্যাংকিং অ্যাপে অতিরিক্ত নিরাপত্তা চালু থাকলে হ্যাকার সহজে অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারবে না। ৬. সফটওয়্যার আপডেট রাখুন ফোনের সিস্টেম ও অ্যাপ নিয়মিত আপডেট করলে নিরাপত্তা ঝুঁকি অনেক কমে। পাবলিক চার্জিং স্টেশনও হতে পারে ঝুঁকিপূর্ণ শুধু ফ্রি ওয়াই-ফাই নয়, অনেক সময় পাবলিক ইউএসবি চার্জিং স্টেশন থেকেও তথ্য চুরি হতে পারে। একে বলা হয় ‘জুস জ্যাকিং’। তাই প্রয়োজনে নিজের চার্জার ও অ্যাডাপ্টার ব্যবহার করাই নিরাপদ। সচেতনতাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা ঈদের আনন্দে যেন প্রযুক্তিগত অসতর্কতা কাল হয়ে না দাঁড়ায়। সামান্য সচেতনতা আপনাকে বাঁচাতে পারে বড় আর্থিক ক্ষতি ও ব্যক্তিগত তথ্য চুরির মতো বিপদ থেকে। তাই যাত্রাপথে ইন্টারনেট ব্যবহারে একটু সতর্ক থাকুন, নিরাপদ থাকুন। আরও পড়ুনসোশ্যাল মিডিয়া নজর রাখছে আপনার ব্যক্তিগত জীবনেওপানি ছাড়াও যেসব কারণে স্মার্টফোন নষ্ট হতে পারে কেএসকে

Go to News Site